শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে তাদের পাশে ছিলাম : ছাত্রলীগ সভাপতি

নিরাপদ সড়কের দাবিতে শুরু হওয়া ছাত্র আন্দোলনের কাছ থেকে বায়াসড হয়ে সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর কাছে চলে গিয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন ছাত্রলীগের সভাপতি মো. রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন।

রোববার সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে যুগান্তরের ফেসবুক পেজ লাইভে এসে এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ মন্তব্য করেন।

ছাত্রলীগ সভাপতি বলেন, সাধারণ ছাত্রদের অধিকার আদায় করা ছাত্রলীগের মূল লক্ষ্য। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানও সাধারণ ছাত্রছাত্রী ও কর্মচারীদের আন্দোলনের সময় তাদের পাশে ছিলেন। দুই শিক্ষার্থী মারা যাওয়ার পর নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের যে আন্দোলন এটি যৌক্তিক। আমরাও তাদের পাশে ছিলাম। কিন্তু আন্দোলনের দুদিন পর এ আন্দোলন সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছিল না। এটি বায়াসড হয়ে সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর মধ্যে চলে গিয়েছিল।

তিনি বলেন, জননেত্রী শেখ হাসিনা শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে নিয়েছেন। ইতিমধ্যে ১১টি দাবি বাস্তবায়ন শুরু করেছেন। বিভিন্ন স্কুলে বাস দিয়েছেন। এবং যেখানে ওই দুর্ঘটনা হয়েছে, সেখানে আন্ডারপাস নির্মাণ করছেন।

রেজওয়ানুল আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুর কন্যা। তিনি দেশকে সবচেয়ে বেশি ভালোবাসেন। মানুষের জন্য কী করতে হবে, তার চেয়ে বেশি কেউ চিন্তা করে না।

তিনি বলেন, ছাত্রলীগের ইতিহাস গৌরবের ইতিহাস। ছাত্রলীগ বাংলাদেশকে ধারণ করে। বাংলাদেশ ভালো থাকুক, অসহায়-দরিদ্র মানুষের মুখে হাসি ফুটুক ও বাংলাদেশ একটি উন্নত দেশ হিসেবে গড়ে উঠুক- এর জন্য তরুণ সমাজকে একত্র করে ছাত্রলীগ কাজ করে যাবে।

একপর্যায়ে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ, ঢাকা কলেজসহ আশপাশের কলেজগুলোর পূর্ণাঙ্গ কমিটির বিষয়ে সংগঠনটির সভাপতি বলেন, আসলে ছাত্রলীগ যারা করে, তারা কমিটির আশায় করে না। ছাত্রলীগ যারা করে তারা বঙ্গবন্ধুর আদর্শের রাজনীতি করে। তাই কমিটি থাকল বা না থাকল এ জন্য আমাদের সংগঠনের খুব বেশি প্রভাব পড়বে না। তবু সামনে নির্বাচন, তাই খুব দ্রুত কমিটি করার চেষ্টা করছি।

উল্লেখ্য, গত ২৯ জুলাই কুর্মিটোলায় জাবালে নূর পরিবহনের বাসচাপায় শহীদ রমিজউদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের একাদশ শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রী দিয়া খানম মীম ও দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র আবদুল করিম রাজীব নিহত হন। এ ছাড়া আহত হন বেশ কয়েকজন।

এ ঘটনার পর নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনে নামেন শিক্ষার্থীরা। এর পর তাদের দাবি পূরণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। এরই মধ্যে ওই কলেজশিক্ষার্থীদের জন্য পাঁচটি বিশেষ বাস দিয়েছেন শেখ হাসিনা।

এ ছাড়া সরকারের পক্ষ থেকে নিহত দুজনের পরিবারকে ২০ লাখ টাকা করে দেয়া হয়েছে। আর জাবালে নূর পরিবহনের রুট পারমিট বাতিল করা হয়েছে।

 

Courtesy : Daily Jugantor

Inline
Inline