র‌্যাব-৮ কর্তৃক হরিণ ও বাঘের চামড়াসহ ২ লক্ষ টাকার জাল নোট উদ্ধার : গ্রেফতার ২

rab8-20বিশেষ সংবাদদাতা, বরিশাল : প্রকৃতিক বৈচিত্রের অন্যতম উদাহরণ হলো বাংলাদেশের ম্যানগ্রোভ সুন্দরবন। এখানে রয়েছে হাজার হাজার প্রজাতির বিভিন্ন পশু-পাখি। কিন্তু কিছু সংখ্যক অসাধু মানুষ এই সুন্দরবন থেকে হরিণ ও বাঘ ফাঁদে আটকিয়ে এবং গুলি করে হত্যা করে চামড়া ছাড়িয়ে অধিক মূল্যে দেশের বাহিরে পাচার করে আসছে। তাদের এরুপ নিষিদ্ধ শিকার ও ব্যবসার মনোভিত্তির কারণে বিশ্বের সর্ববৃহৎ ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট সুন্দরবন আমাদের জাতীয় সম্পদ হরিণ ও বাঘের সংখ্যা দিন দিন আশঙ্কাজনকভাবে হ্রাস পাচ্ছে বলে জানা যায়। এই শিকারী চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে হরিণ ও বাঘ শিকার করে চামড়া, দাঁত, নখ এবং হাড়সহ অন্যান্য অঙ্গপ্রত্যঙ্গ চড়া মূল্যে দেশ/বিদেশে বিক্রয় করে আসছে। বিপন্ন এই দূর্লভ প্রজাতি রক্ষায় বদ্ধপরিকর বর্তমান সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী দীর্ঘদিন ধরে র‌্যাব-৮ এই পশু শিকারী চক্রকে আইনের আওতায় আনার জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছে। হরিণ ও বাঘ শিকারের সাথে জড়িত উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বনদস্যু/জলদস্যুকে ইতিপূর্বে র‌্যাব-৮ আইনের আওতায় আনতে সক্ষম হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় র‌্যাব-৮, সিপিএসসি, বরিশালের একটি বিশেষ আভিযানিক দল ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ তারিখে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ও গোপন সূত্রের মাধ্যমে জানতে পারে যে, পিরোজপুর জেলার ভান্ডারিয়া থানাধীন ইকড়ী বাসষ্ট্যান্ড এলাকায় কিছু সংখ্যক দুস্কৃতিকারী এবং পাচারকারী হরিণ ও বাঘের চামড়া দেশের বাহিরে পাচার করার জন্য মজুদ রেখেছে। প্রাপ্ত সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাবের বিশেষ আভিযানিক দলটি আনুমানিক সোয়া ৫টায় কৌশলগতভাবে ঘটনাস্থলের সন্নিকটে পৌঁছলে র‌্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে দৌড়ে পালানোর চেষ্টাকালে (১) মো: বাবুল মাতুব্বর(৫০), (পেশা-বর্তমান মেম্বার), পিতা- মৃত গনি মাতুব্বর এবং (২) মো: মামুন শেখ(২৬), (পেশা-টমটম চালক), পিতা-মো: সাইদুর রহমান শেখ, উভয় সাং- তেলিখালি, থানা: ভান্ডারিয়া, জেলা: পিরোজপুরদেরকে আটক করেন। জিজ্ঞাসাবাদে ধৃত আসামীরা স্বীকার করে যে, তারা হরিণ ও বাঘের চামড়া বিক্রয় ও পাঁচারের সাথে জড়িত এবং তাদের নিকট হরিণ ও বাঘের চামড়া এবং জাল টাকা রক্ষিত আছে। পরবর্তীতে স্থানীয় জনসাধারণের উপস্থিতিতে ধৃত আসামীদের নিকট হতে ১৪টি হরিণের চামড়া, ১টি বাঘের চামড়া এবং ২ লক্ষ টাকার জাল নোট উদ্ধার করেন। জিজ্ঞাসাবাদে আসামীরা আরও স্বীকার করে যে, তারা চামড়া দেশের বাহিরে পাচার করার সাথে জড়িত এবং পরস্পর যোগসাজসে হরিণ ও বাঘের চামড়া পাচার করে আসছে। তারা দীর্ঘদিন যাবৎ পরস্পর যোগসাজশে সুন্দরবন হতে হরিণ, বাঘ এবং অন্যান্য পশু শিকার করে চামড়া দেশে এবং দেশের বাহিরে অবৈধভাবে পাচার করে আসছে। উল্লেখ্য যে, ধৃত ১নং আসামী পিরোজপুর জেলার ভান্ডারিয়া থানার মামলা নং-০৩ তারিখ ৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ এর ধারা ৩০২/৩৪ পেনাল কোড এর হত্যা মামলার এজাহার নামীয় পলাতক আসামী।