রূপসায় কলেজ পড়ূয়া সীমা হত্যার বিচার চেয়ে দ্বারে দ্বারে ঘুরছে অসহায় পিতা মাতা

logo hottaআঃ রাজ্জাক শেখ,রূপসা(খুলনা) সংবাদদাতা : রূপসায় একমাত্র কন্যা হত্যার ন্যায় বিচার চেয়ে দ্বারে দ্বারে ঘুরছে এক অসহায় পিতা মাতা। কন্যাকে হারিয়ে হুমকির মুখে রয়েছে পরিবার। পরিবার সূত্রে প্রকাশ, খুলনা জেলার রূপসা উপজেলার কাজদিয়া শাখারি পাড়ার জনৈক সুবোধ কুমার বর্ধন ও মানষি বর্ধনের একমাত্র কন্যা অনার্স পড়ূয়া খুলনা (বিএলকলেজ) সীমা বর্ধন(২২)এক শ্রেনীর কুচক্রী মহলের প্রচারনায় হাতের মেহেদির রং না শুকাতে আতœহত্যার পথ বেছে নেয়। গত ০৪/১২/১১ইং তারিখে ঢাকার শাখারী পাড়ার ঔষধ কোম্পানীর প্রতিনিধি জনৈক জয় নাগ(৩৫)এর সাথে সীমা বর্ধনের পারিবারিক ভাবে খুলনার একটি কমিউনিটি সেন্টারে জাকজমক ভাবে বিবাহ হয়। সীমার বিবাহের পর থেকে একই এলাকার আনন্দ সেনের পুত্র রনজিত সেন(৩৭) এলাকার কতিপয় বখাটেদের সাথে নিয়ে সীমার বিবাহ বিচ্ছেদের যাবতীয় কারসাজি করতে শুরূ করে। জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে রনজিত জোর পূবর্ক সীমাকে বিবাহের জন্য তাকে ও তার পরিবারকে বিভিন্ন কলাকৌশলে চাপ প্রয়োগ করে আসছিল। এ ঘটানার সূত্র ধরে এর আগেও সীমার অন্যপাত্রপক্ষের সাথে আশির্বাদ হলেও রনজিত ও পাসপোর্ট অফিসের দালাল কৃষনো গোপাল তা ভেঙ্গে দেয়। সীমার পরিবার এ ব্যাপারে স্থানীয় পর্যায়ে রনজিতকে নিবৃত্ত করতে চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়। এতে রনজিত আরোও বেশি ক্ষিপ্ত হয়ে একই এলাকার বিমল সেনের পুত্র পাসর্পোট অফিসের দালাল, বিআরডিবির তৃতীয় শ্রেনীর কর্মচারী কৃষনো গোপাল সেন (৩৮)এবং কাজদিয়া এলাকার কামরূজ্জামানের বখাটে পুত্র কম্পিউটার ম্যান অনিকুজ্জামান(২৫)সহ কতিপয় বখাটেদের সহযোগিতায় সীমাকে কলেজে আসা যাওয়ার পথে উত্যক্ত ও কু-প্রস্তাব দিয়ে আসছিল। সীমা এতে রাজি না হওয়ায় তাকে কোথাও সংসার করতে দিবে না বলে শাসিয়ে আসছিল। এ ঘটনা সীমা তার পরিবারকে অবহিত করেছিল বলে তার পরিবার জানায়। সীমার পরিবারে পিতা মাতা ছাড়া আর কেউ না থাকার সুবাদে রনজিত গংদের উত্যক্ততা বাড়তে থাকে। তার পরিবারের পক্ষথেকে রনজিত গংদের এহেন কর্মকান্ডের প্রতিবাদ করায় তারা(রনজিত) সীমার পরিবারকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে আসছিল। সীমার পরিবার কোন উপায় না পেয়ে গোপনে আত্বীয়স্বজনদের সহযোগিতায় সীমার বিবাহের ব্যবস্থা করে। বিবাহের পর থেকে রনজিত গং স্বামী স্ত্রীর মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি করার জন্য বিভিন্ন অপকৌশলে লিপ্ত হয়।

তারা রনজিতের সাথে সীমার আপত্তিকর ও ভূয়া মালাবদলের ছবি প্রযুক্তির মাধ্যমে ও কিছু চিরকুট তৈরী করে সীমার স্বামী জয় নাগের নিকট পাঠানো হয় বলে পরিবার জানায়। তাদের এই হীন কুট কৌশলের কারনে দাম্পত্য জীবনে দুর্বিসহ সন্দেহের আগুন জ্বলে উঠে। এই অসত্য মিথ্যা বানোয়াট বিষয়টি সীমা মেনে নিতে না পারায় বিবাহের মাত্র আড়ই মাসের মাথায় স্বামীর বাসায় আতœহত্যার পথ বেছে নেয়। এ ব্যাপারে ঢাকার কোতয়ালী থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের হয়েছে। একমাত্র কন্যার হত্যাকে সহজে মেনে নিতে না পেরে আজও পথে পথে কেঁদে বেড়াচ্ছে সীমার পিতা মাতা। এ ব্যাপারে সীমার পিতা মাতা ঘটনাটি তদন্ত পূর্বক দোষীদের শাস্তি দাবি করেছে উর্ধ্বতন প্রশাসনের প্রতি।