যেসব পরীক্ষায় মানুষের গুনাহ মাফ হয়

যেসব পরীক্ষায় মানুষের গুনাহ মাফ হয়

ইসলাম ডেস্ক : আল্লাহ তাআলা যার কল্যাণ চান, তাকে দুঃখ-কষ্টে ফেলে পরীক্ষা করেন। যারা এ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন তারাই সফলকাম। মানুষ দুনিয়ার জীবনে নানান সময় ধন-সম্পদ, জীবন ও সন্তান-সন্তুতির দ্বারা পরীক্ষার সম্মুখীন হন; এ সব পরীক্ষায় যারা সফলতা পান; আল্লাহ তাআলা তাদের গুনাহ ক্ষমা করে দেন। দুনিয়ায় তাদের দান করেন সুমহান মর্যাদা। হাদিসে এসেছে-

হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহ আনহু বর্ণনা করেছেন, নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন-

من يُرِدِ الله به خيرا يُصِبْ مِنه

‘আল্লাহ যার মঙ্গল চান, তাকে দুঃখ-কষ্টে ফেলেন।’ (বুখারি)

হাদিসের এ বর্ণনা থেকে বিষয়টি সুস্পষ্ট। ছোট্ট একটি হাদিসে নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম গুরুত্ব এ বিষয়টি সুন্দরভাবে তুলে ধরেছেন।

এ হাদিস দ্বারা নবিজী কী বুঝিয়েছেন?

আল্লাহ তাআলা যখন তার বান্দাদের প্রতি কল্যাণের ইচ্ছা করেন, তখন তাদের জান, মাল ও সন্তান বিষয়ে পরীক্ষায় ফেলেন; যাতে তা তাদের গুনাহ মাফ হয়ে যায় এবং তাদের মর্যাদা বৃদ্ধির কারণ হয়। নিঃসন্দেহে বলা যায়- এটি (পরীক্ষা) তাদের জন্য দুনিয়া ও পরকাল তথা উভয় জগতে উত্তম।

দুনিয়া উত্তম হওয়ার কারণ

দুনিয়াতে উত্তম হওয়ার কারণ হলো- মানুষ যখন ধন-সম্পদ, সন্তান-সন্তুতি ও নিজের জানের বিপদে পড়ে তখন তারা আল্লাহর কাছে দোয়া-মোনাজাতে কান্নাকাটি ও নিজেদের অক্ষমতার কথা প্রকাশ করেন। তাওবা-ইসতেগফারের মাধ্যমে আল্লাহর দিকে ফিরে যান। তখন আল্লাহ তাআলা ওই বান্দার জন্য দয়াশীল হয়ে যান। তাদের প্রতি রহম করেন; তাদের গুনাহ ক্ষমা করে দেন এবং তাদের মর্যাদা বাড়িয়ে দেন।

পরকাল উত্তম হওয়ার কারণ

বান্দা যখন পরীক্ষায় পড়ে ক্ষমা প্রার্থনার মাধ্যমে গুনাহ থেকে মুক্ত হন; তখন পরকালে আর তাদের অপমান ও আজাবের কারণ থেকে মুক্তি পান। আর এ কারণে পরকালেও তাদের মর্যাদা বৃদ্ধি পায়। এ কারণেই আল্লাহ তাআলা কোরআনুল কারিমে ঘোষণা দিয়েছেন-

وَ لَنَبۡلُوَنَّکُمۡ بِشَیۡءٍ مِّنَ الۡخَوۡفِ وَ الۡجُوۡعِ وَ نَقۡصٍ مِّنَ الۡاَمۡوَالِ وَ الۡاَنۡفُسِ وَ الثَّمَرٰتِ ؕ وَ بَشِّرِ الصّٰبِرِیۡنَ

‘আর আমরা অবশ্যই তোমাদের পরীক্ষা করব কিছু ভয়, ক্ষুধা এবং জান-মাল ও ফল-ফলাদির ক্ষতি/স্বল্পতার মাধ্যমে। আর তুমি ধৈর্যশীলদের সুসংবাদ দাও।’ (সুরা বাকারা : আয়াত ১৫৫)

ছোট্ট এ হাদিস দ্বারা নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উদ্দেশ্য ছিলো- ‘যার প্রতি আল্লাহ কল্যাণের ইচ্ছা করেন সে ধৈর্য ধারণ করে এবং সওয়াবের আশা করে। আল্লাহ তাকে মুসিবত দেন; যাতে তিনি তার পরীক্ষা নেন।

আর যদি সে ধৈর্য ধারণ না করে, তাহলে অনেক সময় মানুষের ওপর অনেক বিপদ আসে; কিন্তু তাতে তার জন্য কোনো কল্যাণ থাকে না, আল্লাহও তার জন্য কল্যাণের ইচ্ছা করেননি। যেমন- কাফিররা অনেক মুসিবতে আক্রান্ত হয়, তারপরও তারা কুফুরি থেকে ফেরে না, এমনকি তারা কাফির অবস্থায় মারা যায়। নিঃসন্দেহে তাদের প্রতি আল্লাহ কল্যাণের ইচ্ছা করেননি।

তাই হাদিস দ্বারা উদ্দেশ্য হলো- ’যার প্রতি আল্লাহ কল্যাণের ইচ্ছা করেন, তাকে মুসিবতে ফেলেন, তারপর সে এ সব মুসিবতের ওপর সবর করে। আর তা অবশ্যই তার জন্য কল্যাণকর হয়।’

হাদিসের শিক্ষামূলক দিকনির্দেশনা

১. একজন মুমিন দুনিয়াতে বিভিন্ন ধরনের বিপদের সম্মুখীন হয়ে থাকে; চাই তা তার মালের ক্ষেত্রে অথবা দ্বীনের ক্ষেত্রে।

২. এতে রয়েছে মুসলিমের জন্য বড় সু-সংবাদ’ কেননা কোনো মুসলিম দুঃখ-কষ্ট থেকে মুক্ত নয়।

৩. বিপদের সম্মুখীন হওয়া কখনো বান্দার প্রতি আল্লাহর ভালোবাসার আলামত হয়; যাতে তার মর্যাদা বৃদ্ধি করা হয় এবং তার গুনাহগুলো ক্ষমা করে দেওয়া হয়।

সুতরাং মুমিন মুসলমানের উচিত, বিপদ-মুসিবত দেখলে অস্থির ও অধৈর্য না হয়ে আল্লাহর ফয়সালার প্রতি সন্তুষ্ট থাকা। আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল করা। আল্লাহ তাআলাই উত্তম নেয়ামত দানকারী।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে বিপদে ধৈর্য ধরার মাধ্যমে হাদিসে বর্ণিত গুনাহ মাফ ও মর্যাদা পাওয়ার তাওফিক দান করুন। দুনিয়া ও পরকালের কল্যাণ দান করুন। আমিন।