ভাসানচর রোহিঙ্গাদের জন্য নিরাপদ, গবেষণার তথ্য

ভাসানচর রোহিঙ্গাদের জন্য নিরাপদ, গবেষণার তথ্য

নিউজ ডেস্ক : নতুন দ্বীপ হিসেবে ভাসানচর বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের জন্য নিরাপদ এবং পুরোপুরি বাসযোগ্য বলে দাবি করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পিস এন্ড কনফ্লিক্ট বিভাগের গবেষণা। পাশাপাশি স্থানান্তরিত রোহিঙ্গাদের সুপেয় পানি, নিজ ভাষায় পড়াশোনা এবং সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার সুপারিশ করেছে গবেষণা সংস্থাটি।

শনিবার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে আয়োজিত সেমিনারে প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।
গবেষণার মূল লক্ষ্য ছিলো রোহিঙ্গা শিবিরে বিদ্যমান সুযোগ-সুবিধা, জীবিকা নিরাপত্তা ও সামাজিক সম্পর্ক এবং তারা কি ধরনের নিরাপত্তা জনিত সমস্যায় রয়েছে তা খতিয়ে দেখা।

গবেষণায় বলা হয়েছে, ভাসানচর বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের জন্য নিরাপদ জায়গা। দ্বীপটিতে রোহিঙ্গাদের জন্য আধুনিক সকল সুযোগ-সুবিধা এবং আয় রোজগারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। মানবাধিকার রক্ষার বিষয়টিও সুনিশ্চিত করা হয়েছে বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে।

২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর নৃশংসতা শুরু হলে পরের কয়েক মাসে অন্তত ৮ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আশ্রয় নেয়। এর আগেও বিভিন্ন সময়ে আরো কয়েক লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অবস্থান নিয়েছিলো। বর্তমানে উখিয়া ও টেকনাফের ৩৪টি আশ্রয়শিবিরে নিবন্ধিত রোহিঙ্গার সংখ্যা প্রায় সাড়ে ১১ লাখ।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, নৌবাহিনীর তত্ত্বাবধানে রোহিঙ্গা স্থানান্তরের জন্য নিজস্ব তহবিল থেকে ৩ হাজার ৯৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ভাসানচর আশ্রয়ণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়। ১৩ হাজার একর আয়তনের ওই চরে ১ লাখ রোহিঙ্গা বসবাসের উপযোগী ১২০টি গুচ্ছগ্রামের অবকাঠামো তৈরি করা হয়েছে।

সর্বশেষ পঞ্চম দফার দ্বিতীয় ধাপে ভাসানচরে যায় ১ হাজার ৭শ’ ৫৯ রোহিঙ্গা। পঞ্চম দফার প্রথম ধাপে ভাসানচর যায় আরো দুই হাজার ২৬০ জন রোহিঙ্গা। এর আগে চার দফায় নোয়াখালীর ভাসানচরে ৯ হাজার ৫শ ৪০ জন রোহিঙ্গার আবাসন নিশ্চিত করা হয়। গত ৪ ডিসেম্বর প্রথম দফায় ১ হাজার ৬৪২ জন রোহিঙ্গাকে নেয়া হয় ভাসানচরে।

এরপর ২৯ ডিসেম্বর দ্বিতীয় ধাপে যান ১ হাজার ৮০৫ জন ও তৃতীয় ধাপে দুইদিনে ২৮ ও ২৯ জানুয়ারি ৩ হাজার ২০০ জন রোহিঙ্গাকে ভাসানচরে স্থানান্তর করা হয়। ১৪ ফেব্রুয়ারি প্রথম দিন ২ হাজার ১৪ জন ও ১৫ ফেব্রুয়ারি ৮৭৯ জন রোহিঙ্গাকে ভাসানচরে পাঠানো হয়।