ভাইরাল উপাচার্যের বক্তব্য, পক্ষে বিপক্ষে শিক্ষার্থীরা

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামানের একটি বক্তব্য সোস্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। যেখানে তিনি টিএসসির চা, সিঙ্গাড়া নিয়ে একটি বক্তব্য দিয়েছিলেন। চলমান বাজারমূল্যের থেকে অনেক সস্তা দামে সাধারণ শিক্ষার্থীদের একটি সেবা দিতে পারাকে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গর্ব ও ঐতিহ্য বলে উল্লেখ করেন। বলেছেন, এটি যদি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় জানতে পারে তাহলে গিনেস বুকে রেকর্ড হবে।

গত রোববার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র শিক্ষক কেন্দ্রে (টিএসসি) ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষে কলা অনুষদভুক্ত বিভাগগুলোতে ভর্তি হওয়া নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ অনুষ্ঠানে এ বক্তব্য রেখেছিলেন উপাচার্য। তার পুরো বক্তব্যের মাঝখানের কাট করা ৪৫ সেকেন্ডের বক্তব্যটি ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল। ভাইরাল হওয়া বক্তব্যের পক্ষে বিপক্ষে মত দিচ্ছেন অনেকে।

অনেকে বলছেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠের উপাচার্য হিসেবে তার মুখে এত সস্তা কথা মানায় না। বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোগ্রাম এডিট করে সিঙ্গাড়া, সমুচা, চায়ের ছবি দিয়েও ট্রল করতে ভুলেননি অনেকে। আবার অনেকে বলছেন, বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে নবীনদের অবহিত করতে গিয়ে টিএসসির ক্যাফেটেরিয়া সম্পর্কিত এমন বক্তব্য তিনি রাখতেই পারেন। এতে দোষের কিছু নেই।

ভাইরাল ভিডিওতে উপাচার্য বলেন, ‘তুমি পৃথিবীর ইতিহাসে কোথাও পাবে না ১০ টাকায় এক কাপ চা, একটি সিঙ্গাড়া, একটি চপ এবং একটি সমুচা পাওয়া যায়। পাবে বাংলাদেশে। এটি যদি কোনো আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় জানতে পারে, তাহলে এটি গিনেস বুকে রেকর্ড হবে। ১০ টাকায় এক কাপ চা, গরম পানিও তো রাস্তায় পাওয়া যাবে না। ১০ টাকায় এক কাপ চা, একটি সিঙ্গাড়া, একটি সমুচা এবং একটি চপ- এগুলো পাওয়া যাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রে। এটি আমাদের গর্ব, এটি আমাদের ঐতিহ্য।’

এ বক্তব্য সম্পর্কে শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের এক শিক্ষার্থী নাম প্রকাশ না করা শর্তে বলেন, তাকে বুঝতে হবে তিনি কোথায় বসে আছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের চেয়ারের ভার বুঝতে পারবে না অথচ উপাচার্য হয়ে যাবেন, তা মেনে নেয়া যায় না। মাননীয় ভিসি মহোদয় এমন সস্তা কথা বলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কেই নিচে নামিয়েছেন।

আরেক শিক্ষার্থী বলেন, ভিসি এর আগেও বলেছিলেন, অধিভুক্তরা (সরকারি সাত কলেজ) একটা সিঙ্গাড়া সমুচাও খাওয়ার অধিকার রাখে না। এখন সিলি একটা বিষয়ে বললেন, গিনেস বুকে রেকর্ড হয়ে থাকবে। ভিসির কথা কম বলাই উচিত। তার বক্তব্য আমাদের ভাবমুর্তি ক্ষুণ্ন করছে।

অবশ্য উপাচার্যের বক্তব্যের পক্ষেও বক্তব্য রাখছেন অনেকে। নীল অনিবার্ণ নামে এক শিক্ষার্থীর বক্তব্যই কপিপেস্ট করে নিজেদের টাইমলাইনে দিচ্ছেন অনেকে। নীল অনিবার্ণ লেখেন, ‘টিএসসিতে নবীনবরণের অনুষ্ঠান। বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য মহোদয় আমন্ত্রিত। তিনি আসলেন, নবীনদের নিয়ে অনেক কথা বললেন, টিএসসিতে প্রোগ্রাম যেহেতু টিএসসি নিয়েও কথা উঠে আসাটা স্বাভাবিক। তিনি সেই প্রসঙ্গ নিয়ে অনেক কথা বললেন, মজা করলেন, হাস্যোজ্জ্বলভাবে বরিশালের ভাষাতেও আরও কিছু সময় কথা বললেন। মজার ছলেই তিনি টিএসসির পরিচিত খাবার, চা-সিঙ্গাড়া-সমুচা নিয়ে কথা বললেন। এর কিছু সময় আগে অবশ্য ২০ টাকার খাবার নিয়েও কথা বলেছেন। ১০-১২ মিনিটের বক্তব্যের মধ্যে ৪৫ সেকেন্ডের একটা ভিডিও ভাইরাল হলো। ভিডিওর এই ৪৫ সেকেন্ড এমনভাবে কাটা হলো, যার আগের পরিস্থিতিও জানার সুযোগ নেই, পরেও কী হয়েছে আপনারা তা জানেন না। হোমপেজে আসছে, দেখছেন, লাইক কামানোর উদ্দেশ্যে ট্রল করছেন। অথচ না আপনি অনুষ্ঠানে ছিলেন না আপনি জানেন এ কথাগুলোর প্রাসঙ্গিকতা। আপনাদের বুদ্ধি ও বিবেককে লাল সালাম।’

এ ছাড়া অনেক শিক্ষার্থী ফেসবুকে লেখেন, আসলে ট্রল করা আমাদের সামাজিক ব্যাধিতে পরিণত হয়েছে। আমরা কোনোভাবেই বুঝছি না যে আমরা ভিসিকে ট্রল করতে গিয়ে নিজের প্রতিষ্ঠানকে নিচে নামাচ্ছি।

এদিকে ভাইরাল হওয়া ভিডিওর বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামানের বক্তব্য জানতে বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। দুইবার তার প্রটোকল অফিসার জানিয়েছেন তিনি ব্যস্ত আছেন।