‘ব্যাগে শিশুদের ভ্রুণ নয়, ছিলো মেডিকেল বর্জ্য’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : কলকাতার হরিদেবপুরে ব্যাগভর্তি ১৪টি শিশু ও ভ্রুণ উদ্ধারের ঘটনা জানানোর ঘন্টাখানেক পর আগের বিবৃতি তুলে নেয় কলকাতা পুলিশ। পরে গোয়েন্দা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয় ব্যাগগুলোতে ভ্রুণ বা শিশুর মৃতদেহ নয় তাতে ছিলো মেডিকেল বর্জ্য ও ড্রাই আইস।

শিশু ও ভ্রুণ উদ্ধারের কথা জানানোর ঘন্টাখানেক পর ময়নাতদন্ত রিপোর্টের বরাত দিয়ে বিবৃতি পাল্টে ফেলে পুলিশ। তবে ভারতীয় গণমাধ্যম এবং স্থানীয়রা এই ঘটনার পেছনে পুলিশের কারসাজি রয়েছে বলে সন্দেহ করছে।

জানা যায়, রবিবার হরিদেবপুর এলাকার রাজা রামমোহন সরণীর একটি পরিত্যক্ত জায়গা পরিষ্কার করছিল শ্রমিকরা। এই সময় এক শ্রমিক একটি প্লাস্টিকের ব্যাগ দেখতে পান। তা খুলতেই দেখেন একটি ভ্রূণ। তার সঙ্গে কাজ করা অন্যান্য শ্রমিকরাও ওই জায়গায় খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। দেখা হয়, আর কোনও ভ্রূণ রয়েছে কি না। তল্লাশি করতে গিয়ে আরও ১৩টি ব্যাগ উদ্ধার হয়।

এ সময় পুলিশকে খবর দেয়া হলে ঘটনাস্থলে আসেন হরিদেবপুর থানার অফিসাররা। উদ্ধার হওয়া ব্যাগগুলি নিয়ে যাওয়া হয় ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য।

এরপর ওই এলাকার ডিসি নীলাঞ্জন বিশ্বাস সংবাদ সম্মেলনে জানান, রবিবার সকালে রাজা রামমোহন রায় রোডে একটি পাঁচিল ঘেরা জমিতে যখন শ্রমিকরা কাজ করছিলেন, তখন তারা ১৪টি প্লাস্টিকে মোড়া ভ্রূণ দেখতে পান। খবর পেয়ে পুলিশ আসে। ভ্রূণগুলি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসেন। কোথা থেকে ভ্রূণগুলি এল, তা দেখা হচ্ছে। আশপাশের নার্সিংহোমগুলি চেক করা হচ্ছে। সমস্ত কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে এমন কথা বলার ঘন্টাখানের মধ্যে হোয়াট্যাসঅ্যাপ গ্রুপে ডিসি জানান, ব্যাগগুলি খোলার পর চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, এতে কোনও মানব ভ্রূণ নেই। তাতে কিছু ড্রাই আইস ছিল। ব্যাগে কী জাতীয় রাসায়নিক ছিল, তা পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, ব্যাগে মেডিকেলের বিভিন্ন বর্জ্য মিলেছে। সেগুলি ওই জঙ্গলে ফেলে যাওয়া হয়েছে।

এরপরই বিষয়টি নিয়ে পুলিশের কারসাজির ব্যাপারে সন্দেহ করে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ভারতীয় গণমাধ্যম।