ব্যবসায়ীকে অপহরণের পর পাঁচ কোটি টাকা দাবি, গ্রেফতার ৫

ব্যবসায়ীকে অপহরণের পর পাঁচ কোটি টাকা দাবি, গ্রেফতার ৫

খুলনায় ব্যবসায়ীকে অপহরণের পর পাঁচ কোটি টাকা মুক্তিপণ দাবি করে অপহরণকারীরা। এ ঘটনায় অভিযান চালিয়ে ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে পাঁচ অপহরণকারীকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব-৬।

গ্রেফতাররা হলেন- গোপালগঞ্জের তেবাড়িয়ার রাজু শেখ (২৫), নড়াইলের নড়াগাতির সাইফুল ইসলাম মোল্লা (৩০), একই জেলার পহরডাঙ্গা এলাকার মো. হোজাইফা আল বারী (২৮), খুলনার দৌলতপুর আঞ্জুমান রোডের মো. রানা বেগ (৩০) ও খুলনার লবণচরা এলাকার মো. রাসেল মৌলঙ্গী (২৮)।

বুধবার (৩ আগস্ট) র‍্যাব-৬ এর সদর দপ্তর থেকে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয় অপহৃত মো. নিরু মোল্লা (৫০) গোপালগঞ্জ সদরের বিজয়পাশা এলাকার ব্যবসায়ী। তার একটি ফিলিং স্টেশন ও দুটি ব্রিকস ফিল্ড রয়েছে।

ঘটনার বর্ণনায় র‍্যাব জানায়, মঙ্গলবার (২ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৬টায় নিরু মোল্লা নিজ বাড়ি গোপালগঞ্জ থেকে ব্যক্তিগত মাইক্রোবাসে ব্যবসায়িক কাজে খুলনার উদ্দেশে রওয়ানা হন। সকাল পৌনে ৮টার দিকে খুলনা কেডিএ ময়ূরী আবাসিক প্রকল্পের মেইন গেটের সামনে সোনাডাঙ্গা বাইপাস মহাসড়কে পৌঁছনো মাত্র ৮/১০ জন মোটরসাইকেলে করে এসে গাড়িটিকে থামায়। এসময় অপহরণকারীরা জোর করে দরজা খুলে গাড়িতে উঠে তাকে জীবন নাশের হুমকি দিয়ে অপহরণ করে। পরে চোখ বেঁধে খুলনার বিভিন্ন স্থানে নিয়ে ঘোরাঘুরি করে। এছাড়া অপহরণকারীরা ভুক্তভোগীর কাছে পাঁচ কোটি টাকা মুক্তিপণ দাবি করে।

প্রাণভয়ে নিরু মোল্লা প্রাথমিকভাবে অপরহরণকারীদের ৫০ লাখ টাকা দিতে রাজি হন। এসময় অপহরণকারীরা একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠিয়ে দিতে বলে। তখন ভুক্তভোগী তার ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার মাফিকুলকে ফোন দিয়ে ৫০ লাখ টাকা পাঠিয়ে দিতে বলেন। এরপর তার স্ত্রী ও বড় ভাই সিরাজ মোল্লা তাৎক্ষণিক ঘটনাটি র‍্যাবকে জানান। এ ঘটনার পর থেকে আসামিদের গ্রেফতারে র‍্যাব-৬ ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রাখে। এরই ধারাবাহিকতায় র‍্যাব জানতে পারে অপহরণকারীরা খুলনার হরিণটানা থানার ৩নং গুটুদিয়া আল আকসা নগর এলাকায় অবস্থান করছে।

ওই তথ্যের ভিত্তিতে ২ আগস্ট সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় র‍্যাব-৬ এর একটি দল অভিযান চালিয়ে ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে আসামিদের গ্রেফতার করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এই ঘটনার সঙ্গে তারা জড়িত বলে স্বীকার করে। পরবর্তীকালে হরিণটানা থানায় হস্তান্তর করে তাদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে গ্রেফতার দেখানো হয়।