বিমানবন্দরে লাগেজের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা পীড়াদায়ক: মোমেন

বিমানবন্দরে লাগেজের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা পীড়াদায়ক: মোমেন

হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে লাগেজের জন্য যাত্রীদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা ‘অত্যন্ত পীড়াদায়ক’ বলে উল্লেখ করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন। একইসঙ্গে তিনি দুর্ভোগ নিরসনে দ্রুত প্রয়োজনীয় ও কার্যকর ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

রাষ্ট্রীয় সফর শেষে রোববার (৩ জুন) সকালে পর্তুগাল থেকে ঢাকায় ফেরেন মন্ত্রী। এসময় হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে লাগেজ বেল্ট এরিয়াতে অপেক্ষমান যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে তাদের অভিযোগ শোনেন তিনি।

বিমানবন্দরের ডিসপ্লে স্ক্রিনে দেখানো নির্দিষ্ট লাগেজ বেল্টের পাশে লাগেজের জন্য প্রায় দু’ঘণ্টা অপেক্ষমান যাত্রীদের দুর্ভোগের সত্যতা দেখতে পান। এসময় তিনি তাৎক্ষণিকভাবে বিমানবন্দর ব্যবস্থাপকের সঙ্গে যোগাযোগ করলে ব্যবস্থাপক লাগেজ বেল্ট এরিয়াতে আসেন এবং লাগেজ আসতে দেরি হওয়ার বিষয়টি দ্রুত সমাধানের বিষয়ে মন্ত্রীকে আশ্বস্ত করেন।

এসময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিমানবন্দরে যাত্রীদের দুর্ভোগ লাঘবে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়াসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।

সম্প্রতি ইউরোপের কয়েকটি দেশে রাষ্ট্রীয় সফরকালে প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিভিন্ন অভিযোগের কথা উল্লেখ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রবাসী বাংলাদেশিরা বিদেশে অনেক কষ্ট করেন এবং তাদের পাঠানো কষ্টার্জিত রেমিট্যান্স দেশের অর্থনৈতিক ভিত্তি সুদৃঢ় করছে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে, প্রবাসী বাংলাদেশিসহ অন্য বিমানযাত্রীরা বিমানবন্দরে লাগেজ সংগ্রহের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকেন। যাত্রীদের জন্য এটা অত্যন্ত পীড়াদায়ক। দীর্ঘ বিমানযাত্রার ক্লান্তি নিয়ে সম্মানিত যাত্রীদের এ ধরনের দুর্ভোগের জন্য মূলত বিমানবন্দরে আমাদের অব্যবস্থাপনাই দায়ী।

মন্ত্রী বলেন, কনস্যুলার সেবাসহ অন্যান্য সেবার মানোন্নয়নে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নেওয়া পদক্ষেপের ফলে প্রবাসীরা এগুলোর সুফল পেতে শুরু করেছেন। কিন্তু একইসঙ্গে বিমানবন্দরে প্রবাসীদের দুর্ভোগ লাঘবেও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

এসময় তিনি উপস্থিত যাত্রীদের আশ্বস্ত করে বলেন, যাত্রীদের দুর্ভোগ লাঘবে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। আশা করি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অচিরেই দুর্ভোগ লাঘবে পদক্ষেপ নেবেন।

পরে ড. মোমেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলীকে ফোন করে বিষয়টি অবহিত করলে বিমান প্রতিমন্ত্রী যাত্রীদের দুর্ভোগ কমাতে এবং সেবার মান বাড়ানোর বিষয়ে তাকে আশ্বস্ত করেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিমানবন্দরে যাত্রীদের মালামাল কয়েক স্তরে স্ক্যানিং প্রক্রিয়া বর্তমানে সহজীকরণের পদক্ষেপ নেওয়ার প্রশংসা করেন এবং এজন্য বিমান প্রতিমন্ত্রীকে ধন্যবাদও জানান।

এসময় বিমানবন্দরে দায়িত্বরত অন্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।