‘বিন লাদেন জীবিত, নিয়মিত মাসোহারা দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র’

যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষিত সন্ত্রাসী তালিকায় একসময়ের ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’, আল-কয়েদার সাবেক প্রধান ওসামা বিন লাদেন। ২০১১ সালে পাকিস্তানের অ্যাবোটাবাদে মার্কিন সেনার হানায় মৃত্যু হয়নি তাঁর। তিনি বরাবরই জীবিত ছিলেন এবং আছেন। পরিবারসহ বহাল তবিয়তেই রয়েছেন তিনি। তাঁর জীবনধারণের জন্য যুক্তরাষ্ট্র নাকি নিয়মিত মাসোহারা দিচ্ছে।

মার্কিন নিরাপত্তা সংস্থার একসময়ের কর্মী এডওয়ার্ড স্নোডেন এ দাবি করেছেন। এই বিষয়ে তাঁর কাছে প্রমাণ রয়েছে বলেও দাবি করেছেন তিনি।

গত রোববার মস্কো ট্রিবিউনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই দাবি করেন রাশিয়ায় রাজনৈতিক আশ্রয় পাওয়া স্নোডেন।

স্নোডেনের দাবি অনুযায়ী, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের অন্তর্ভুক্ত কোনো দ্বীপে আত্মগোপন করে আছেন লাদেন। পরিবারের সঙ্গে তাঁকে এই গোপন আস্তানায় পাঠিয়ে দিয়েছে মার্কিন গুপ্তচর সংস্থা সিআইএ। পাশাপাশি প্রতি মাসে তাঁর অ্যাকাউন্টে টাকা দিচ্ছে গুপ্তচর সংস্থাটি।

স্নোডেন বলেন, ‘আমার কাছে প্রমাণ আছে, প্রতি মাসে তিনি (বিন লাদেন) এক লাখ মার্কিন ডলার গ্রহণ করেন। ব্যবসায়ী ও কিছু সংস্থার মাধ্যমে তাঁর অ্যাকাউন্টে অর্থ পাঠানো হয়ে থাকে। এখন তিনি কোথায় আছেন, তা ঠিক আমি জানি না। তবে সিআইএর তত্ত্বাবধানে ২০১৩ সাল পর্যন্ত বাহামা দ্বীপপুঞ্জে ছিলেন বিন লাদেন। সঙ্গে তাঁর পাঁচ স্ত্রী ও ছেলেমেয়ে ছিল।’

যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম দি ইনডিপেনডেন্টের খবর অনুযায়ী, ২০১১ সাল থেকে স্নোডেন মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা (সিআইএ) ও জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থা এনএসএর সঙ্গে ঠিকাদার হিসেবে কাজ করতেন। তথ্যপ্রযুক্তির ক্ষেত্রে অসাধারণ দক্ষতার অধিকারী এই তরুণ এনএসএর গোয়েন্দা নজরদারি কর্মসূচির বেআইনি কার্যকলাপ ধরে ফেলেন, নিজের কম্পিউটারে গোপনে কপি করে নেন এনএসএর বিপুল পরিমাণ তথ্য।

২০১৩ সালে তাঁর যোগাযোগ ঘটে আমেরিকান আইনজীবী ও সাংবাদিক গ্লেন গ্রিনওয়াল্ডের সঙ্গে, যিনি তখন ব্রিটেনের দৈনিক গার্ডিয়ান-এর জন্য লিখতেন। স্নোডেন সে সময় কর্মরত ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়াই দ্বীপে, আমেরিকান নিরাপত্তা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘বাজ অ্যালান হ্যামিল্টনের’ কর্মী হিসেবে, যে প্রতিষ্ঠানটি ছিল এনএসএর ঠিকাদার। সে সময়ই এনএসএর ‘টপ সিক্রেট’ শ্রেণির বিপুল পরিমাণ তথ্যের ভাণ্ডার দৈনিক গার্ডিয়ান-এর হাতে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন স্নোডেন। তবে সেটা করার আগে তিনি আমেরিকার ভূখণ্ড ছেড়ে চলে যান হংকং। সেখান থেকেই তিনি কাজটা করেন।

তাঁর দেওয়া প্রামাণ্য তথ্যের ভিত্তিতে ২০১৩ সালের জুন মাসে গ্লেন গ্রিনওয়াল্ড গার্ডিয়ানে ধারাবাহিক প্রতিবেদন লিখতে শুরু করেন। এতে ফাঁস হয়ে যায়, ব্যক্তিস্বাধীনতায় হস্তক্ষেপের ব্যাপারে মার্কিন কার্যকলাপসহ আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। এতে রাতারাতি স্বদেশের সরকারের কাছে ‘মোস্ট ওয়ান্টেড আমেরিকান’ হন এডওয়ার্ড স্নোডেন। তাঁর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক হুলিয়াও জারি করে আমেরিকার সরকার।

এ সময় হংকংয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে শুরু করেন স্নোডেন। কারণ মার্কিন সরকার হংকং কর্তৃপক্ষের ওপর চাপ দিচ্ছিল স্নোডেনকে গ্রেপ্তার করে তাদের হাতে তুলে দিতে। সেই চাপে হংকং কর্তৃপক্ষকে নতি স্বীকার করার সুযোগ না নিয়ে স্নোডেন হংকং ত্যাগ করেন।

এরই মধ্যে গোপনে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ ঘটে জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জের, যিনি লন্ডনে ইকুয়েডরের দূতাবাসে এর আগেই আশ্রয় নিয়েছিলেন। অ্যাসাঞ্জ স্নোডেনকে ইকুয়েডরে পাঠানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু হংকং থেকে বিমানে চড়ে ইকুয়েডরে পৌঁছানো স্নোডেনের পক্ষে সম্ভব হয়নি। মাঝপথে তিনি থেকে যান মস্কো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ট্রানজিট লাউঞ্জে।

আমেরিকার চাপে কোনো দেশের বিমান কোম্পানি স্নোডেনকে বহন করে ইকুয়েডর কিংবা কিউবা নিয়ে যাওয়ার সাহস পায়নি। পরে স্নোডেন রাশিয়ায় রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনা করেন। রাশিয়া সঙ্গে সঙ্গে সে আবেদন মঞ্জুর না করলেও ২০১৪ সালের শুরুর দিকে স্নোডেনকে রাজনৈতিক আশ্রয় দেয়।

এরপর তিনি বিমানবন্দর থেকে বেরিয়ে মস্কো শহরের কোনো এক অজ্ঞাত স্থানে আশ্রয় নেন। সেই থেকে তিনি মস্কোতেই আছেন।

মস্কোতে নামার সময় তাঁর সঙ্গে ছিল তিনটি ল্যাপটপ। কানাঘুষায় আছে, তাঁর কাছে আমেরিকার যত ‘টপ সিক্রেট’ তথ্য রয়েছে, তার সবই তিনি দিয়ে দিয়েছেন রুশ গোয়েন্দা কর্তৃপক্ষকে। স্নোডেন অবশ্য এটা বারবারই অস্বীকার করেছেন।