বাড়ানো হয়েছে সাঁড়াশি যৌথ অভিযানের পরিধি

বাড়ানো হয়েছে সাঁড়াশি যৌথ অভিযানের পরিধি

বর্তমানে দেশের বিভিন্ন জেলায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী সাঁড়াশি যৌথ অভিযান চালাচ্ছে। এখন এই অভিযানের পরিধি আরো বাড়ানো হচ্ছে। চলমান অভিযানে প্রতিদিনই সন্দেহভাজন ব্যক্তিদেও গ্রেফতার করা হচ্ছে। আর দেশে নাশকতায় মদদদাতা হিসেবে গ্রেফতারের তালিকায় রয়েছে বিএনপি ও জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা। সম্প্রতি সরকারের একটি গোয়েন্দা সংস্থা পুলিশ সদর দফতরে স্পর্শকাতর জেলার একটি তালিকা পাঠিয়েছে। তাছাড়া ওসব জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখার পক্ষ থেকে সরকারবিরোধী রাজনৈতিক নেতাদেরও একটি তালিকা করা হয়েছে। এখন ওই তালিকা ধরে চালানো হচ্ছে যৌথ অভিযান। প্রথমে ১০-১২টি জেলায় যৌথ অভিযান শুরু হলেও পরবর্তীতে ২৫-২৬টি জেলায় ওই অভিযান চালানো হচ্ছে। পুলিশ সদর  দফতর সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা যায়।

সূত্র জানায়, দেশে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে তালিকাভুক্ত জেলাগুলোতে যৌথ অভিযান চালানো হচ্ছে। অব্যাহত রয়েছে সন্দেহভাজনদেও গ্রেফতার। পাশাপাশি স্পর্শকাতর জেলাগুলোতে টহল জোরদার, গোয়েন্দা নজরদারি ও অনুসন্ধান বাড়ানো হয়েছে। চলমান যৌথ অভিযানে বাড়তি সতর্কতা ও পেশাদারিত্বের সাথে বাছাই করা কর্মকর্তারা দায়িত্বে রয়েছেন। তাদেরকে অভিযানিক তৎপরতা চালানোর জন্য সব ধরনের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে একটি গোষ্ঠী আগের মতোই নাশকতার পরিকল্পনা করে চলেছে। তাদের প্রতিহত করতে যেখানে যে মাত্রার অভিযান প্রয়োজন সেখানে সেটাই করা হচ্ছে।

সূত্র জানায়, তালিকাভুক্ত জেলাগুলোতে আইন-শৃঙ্খলার দায়িত্বে নিয়োজিত নিয়মিত বাহিনীর বাইরে যৌথ বাহিনীর ৪শথেকে ৫শসদস্য কাজ করছে। তবে ছোট আয়তনের জেলায় থাকছে ২শথেকে ৩শসদস্য। বর্তমানে যৌথ অভিযান চালানো হচ্ছে- সাতক্ষীরা, মেহেরপুর, ঝিনাইদহ, দিনাজপুর, সিরাজগঞ্জ, জয়পুরহাট, লালমনিরহাট, নীলফামারী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, লক্ষ্মীপুর, রংপুর, নোয়াখালী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, চুয়াডাঙ্গা, পটুয়াখালী, গাইবান্ধা, ফরিদপুর, পাবনা, যশোর, খুলনা, বগুড়া, ফেনী, রাজশাহী, জামালপুর ও বরিশালে। ওসব জেলায় প্রতিদিন গড়ে শতাধিক জামায়াত-শিবির ও বিএনপির নেতাকর্মী এবং নাশকতায় জড়িতরা গ্রেফতার হচ্ছে। ওসব জেলাকে ৩টি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। তারমধ্যে রয়েছে সহিংসতাকবলিত জেলা, সন্ত্রাসকবলিত জেলা ও সরকারবিরোধীদের নাশকতার জন্য টার্গেট করা নতুন কয়েকটি জেলা। তবে জামায়াত-শিবির যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি করে মানুষের মনে ভীতি সৃষ্টি করতে না পারে  সেজন্য কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

সূত্র আরো জানায়, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ সদর দফতর ছাড়াও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে চলমান যৌথ বাহিনীর অভিযান মনিটরিং করা হচ্ছে। একই সাথে নাশকতা ঠেকাতেও সরকারের অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থার পাশাপাশি কাজ করছে সরকারের তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের অ্যাডভান্সড ইন্টেলিজেন্স টেকনোলজি। তাতে একদল সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ কাজ করছেন। কারণ মোবাইল ফোনে জামায়াত-শিবির ও জঙ্গিরা নিজেদের মধ্যে কথোপকথন নিরাপদ না ভেবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বা বিভিন্ন সাইট ব্যবহার করছে। তবে সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা তা জেনে ফেলতে সক্ষম হচ্ছেন। ফলে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় বেশকিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় কেন্দ্রে সরকার নাশকতা ঠেকাতে সচেষ্ট হয়েছে। কারণ জামায়াত-শিবির দেশের  বিভিন্ন স্থানে নাশকতার পরিকল্পনা করছে। তারা গুরুত্বপূর্ণ ে জলা ও স্থানকে টার্গেট করেছে। এসব তথ্য অ্যাডভান্সড ইন্টেলিজেন্স টেকনোলজির মাধ্যমে আগে থেকেই জেনে তা সরকারের অন্য সংস্থাগুলোকে অবগত করা হয়। ফলে অনেক নাশকতা মোকাবেলা করা গেছে। তারপরও কিছু কিছু জেলায় নাশকতার আশঙ্কা রয়েছে। যা ঠেকাতে কাজ করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। যেসব এলাকায় ে যৗথ বাহিনীর অভিযান চালানো হচ্ছে ওসব জেলায় জামায়াত-শিবিরের নাশকতার পরিকল্পনা ছিল।

এ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল জানান, সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে দেশের বিভিন্ন স্থানে জামায়াত-শিবির হামলা ও নাশকতার চেষ্টা করছে। তাদের রুখতে জনগণকে সাথে নিয়ে আইনশৃংখলা বাহিনী অভিযান চালাচ্ছে। প্রয়োজনের নিরিখে যৌথ অভিযান পরিচালনায় আরো জনবল দেয়া হবে। অভিযানে আইনশৃংখলা বাহিনীকে সাধারণ মানুষের জানমাল রক্ষার বিষয়টি নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

Leave a Reply