বাজারে আসছে ‘স্মার্ট গান’, গুলি চলবে শুধু মালিকের হাতে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : বহু বছরের বিতর্ক আর উদ্বেগ ছাপিয়ে অবশেষে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে আসতে চলেছে ‘স্মার্ট বন্দুক’, যা কেবল নির্ধারিত ব্যক্তির হাত দিয়েই ব্যবহার করা যাবে। অর্থাৎ, বন্দুকের নিরাপত্তা ব্যবস্থা যার হাতের ছাপ অথবা অন্য কোনো পদ্ধতিতে নিয়ন্ত্রিত হবে, কেবল তার হাতেই গুলি চলবে। মঙ্গলবার (১১ জানুয়ারি) বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বন্দুকনির্মাতা লোডস্টার ওয়ার্কস গত শুক্রবার (৭ জানুয়ারি) তার অংশীদার ও বিনিয়োগকারীদের সামনে একটি নয় মিলিমিটারের স্মার্ট হ্যান্ডগান দেখিয়েছে। আরেক নির্মাতা স্মার্টগানজ এলএলসি বলেছে, তাদের তৈরি অনেকটা একই ধরনের বন্দুক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এজেন্টরা পরীক্ষা করছেন। চলতি বছরেই এই স্মার্ট গান বাণিজ্যিকভাবে বাজারে পাওয়া যাবে বলে আশাবাদী উভয় প্রতিষ্ঠান।

লোডস্টারের সহপ্রতিষ্ঠাতা গ্যারেথ গ্লেসার বলেছেন, বন্দুক নিয়ে খেলতে গিয়ে শিশুরা গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনা শুনে তিনি স্মার্ট বন্দুক তৈরিতে অনুপ্রাণিত হন। এ ধরনের বন্দুকে ব্যবহারকারীর পরিচয় প্রমাণের প্রযুক্তি থাকায় অন্য কেউ গুলি চালানোর চেষ্টা করলে তা নিষ্ক্রিয় থাকবে। এতে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে গুলিবিদ্ধ হওয়ার ট্র্যাজেডি আটকানো সম্ভব হবে।

এ ধরনের প্রযুক্তির ব্যবহার আত্মহত্যা ঠেকাতে সাহায্য করবে। বন্দুক হারিয়ে গেলে বা চুরি হলে সেটিকে অকেজো করে দেওয়া যাবে। পুলিশ কর্মকর্তা ও কারারক্ষীদের বাড়তি নিরাপত্তা দেবে, যাদের কাছ থেকে বন্দুক কেড়ে নেওয়ার ভয় বেশি থাকে।

এ ধরনের স্মার্ট গান তৈরির প্রচেষ্টা বাধার মুখে পড়েছে বহুবার। বন্দুক নির্মাতা স্মিথ অ্যান্ড ওয়েলসনকে বয়কটের মুখে পড়তে হয়েছে, একটি জার্মান প্রতিষ্ঠান হ্যাকারদের কবলে পড়েছে, নিউ জার্সিতে স্মার্ট গান ব্যবহারের পক্ষে করা আইন পড়েছে বিতর্কের মুখে।

আগে তৈরি বেশিরভাগ স্মার্ট গান প্রোটোটাইপগুলোতে নিরাপত্তার জন্য হয় আঙুলের ছাপ, নাহয় রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি ব্যবহার করা হয়েছে। রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি প্রযুক্তি ব্যবহৃত হলে তখনই গুলি বের হবে, যখন বন্দুকে থাকা চিপ কাছাকাছি অন্য কোনো চিপের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবে। সেক্ষেত্রে দ্বিতীয় চিপ সাধারণত হাতের আংটি অথবা ব্রেসলেটে বসানো থাকে।

লোডস্টার তাদের বন্দুকে আঙুলের ছাপ ও চিপ শনাক্তকরণ উভয় প্রযুক্তিই ব্যবহার করছে। সঙ্গে থাকছে একটি পিন প্যাডও। আঙুলের ছাপে মুহূর্তের মধ্যে বন্দুক আনলক করা যাবে। তবে চিপ প্রযুক্তি কাজ করবে কেবল ফোনের অ্যাপ থেকে নির্দেশ পাওয়ার পরেই। আর পিন প্যাড রাখা হচ্ছে মূলত ব্যাকআপ হিসেবে। পানিতে ভেজা থাকলে অথবা অন্য কোনো প্রতিকূল পরিবেশে আঙুলের ছাপ কাজ না করলে তখন পিন কোড ব্যবহার করে বন্দুক আনলক করা যাবে। একটি বন্দুকে একাধিক ব্যবহারকারীর অনুমোদন থাকতে পারে।

২০১৪ সালে জার্মান প্রতিষ্ঠান আরমাটিক্স পয়েন্ট ২২ ক্যালিবারের একটি স্মার্ট পিস্তল বাজারে ছেড়েছিল। কিন্তু হ্যাকাররা দূর থেকে বন্দুকের রেডিও সিগন্যাল জ্যাম করে দেওয়ার পদ্ধতি বের করে ফেললে তা দ্রুত বাজার তুলে নেওয়া হয়।