বাংলাদেশি প্রকৌশলী নিয়োগে আগ্রহী পেনাং রাজ্যের শিল্পমালিকরা

বাংলাদেশি প্রকৌশলী নিয়োগে আগ্রহী পেনাং রাজ্যের শিল্পমালিকরা


নিউজ ডেস্ক : মালয়েশিয়ার পেনাং রাজ্যের প্রধান প্রধান ব্যবসায়িক সংগঠনের নেতারা বাংলাদেশ থেকে প্রকৌশলী নিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। দেশটিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মো. গোলাম সারোয়ার পেনাং রাজ্যে তার প্রথম দাপ্তরিক সফরের শুরুতে ৮ নভেম্বর পেনাংয়ের চাইনিজ চেম্বার অব কর্মাসের (পিসিসিসি) ব্যবসায়িক নেতাদের সঙ্গে সভা করেন।

৯ নভেম্বর পেনাংয়ের ফেডারেশন অব মালয়েশিয়ান ম্যানুফ্যাকচারার্সের (এফএমএম) উচ্চপর্যায়ের এক প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সাক্ষাৎকালে উভয় ব্যবসায়িক সংগঠনের নেতারা বাংলাদেশ থেকে সাধারণকর্মী ও প্রকৌশলী নিয়োগে তাদের আগ্রহ ব্যক্ত করেন।

হাইকমিশনার মো. গোলাম সারোয়ার পেনাংয়ের ব্যবসায়িক নেতাদের কাছে বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরেন। তিনি প্রধানমন্ত্র্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে সরকারের গৃহীত কর্মসূচির বর্ণনা দেন।

তিনি জানান, বাংলাদেশের অর্থনীতি আজ সুদৃঢ় ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত। সরকার দেশে যোগাযোগের প্রবেশগাম্যতা নিশ্চিতকল্পে আধুনিক অবকাঠামো নির্মাণ, বিনিয়োগের চমৎকার পরিবেশ সম্বলিত ১০০টি ইকনোমিক জোন ও ২৮টি হাইটেক পার্ক স্থাপন এবং সরকার গৃহীত বিনিয়োগবান্ধব নীতিকৌশলের কারণে বাংলাদেশ এশিয়ার অন্যতম শ্রেষ্ঠ বিনিয়োগ গন্তব্য হিসেবে সমগ্র বিশ্বে আজ পরিচিতি লাভ করেছে। হাইকমিশনার মো. গোলাম সারোয়ার ব্যবসায়িক নেতাদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের সুযোগ গ্রহণের আহ্বান জানান।

পেনাংয়ের চাইনিজ চেম্বার অব কর্মাসের (পিসিসিসি) প্রেসিডেন্ট দাতো সেরি হং ইয়েম ওয়াহ তার বক্তব্যে বলেন, পেনাং রাজ্য মূলত ইলেকট্রিক ও ইলেকট্রনিকস সেক্টরনির্ভর। কোভিড পরবর্তী বিশ্বে এ সেক্টর দ্রুত সম্প্রসারণমান বলে তিনি উল্লেখ করেন। কিন্তু দক্ষ জনবল, বিশেষ করে প্রকৌশলী সংকটের কারণে কাঙ্খিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন না হওয়ার আশংকা রয়েছে বলে তিনি মনে করেন।

তিনি আরও বলেন, পেনাং রাজ্য সরকার পেনাংয়ে ২০টির মতো মেগা প্রজেক্ট বাস্তবায়ন করছে। এসব প্রজেক্টেও প্রকৌশলীর চাহিদা ব্যাপক। তিনি পেনাং রাজ্যে প্রকৌশলী নিয়োগে বাংলাদেশ হাইকমিশনের সহযোগিতা কামনা করলে হাইকমিনার তাদের প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়ে সবধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

পেনাংয়ের ফেডারেশন অব মালয়েশিয়ান ম্যানুফ্যাকচারার্সের (এফএমএম) সভায় এফএমএম-এর চেয়ারম্যান দাতো জিমি সি. কে. অং বলেন, পেনাংয়ের শিল্পপ্রতিষ্ঠানে দক্ষ ও অদক্ষ উভয় প্রকারের বিদেশি শ্রমিকের অভাব রয়েছে। তিনি বাংলাদেশের শ্রমিকদের কর্মঠ ও নিষ্ঠাবান বলে উল্লেখ করেন।

তিনি পেনাংয়ের শিল্প উৎপাদনের ধারা অব্যাহত রাখার লক্ষ্যে বাংলাদেশ থেকে প্রকৌশলীর পাশাপাশি অদক্ষ শ্রমিক নিয়োগের বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন। হাইকমিশনার মো. গোলাম সারোয়ার তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, বাংলাদেশে অর্ধশত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও শতাধিক প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় এবং কারিগরি কলেজ থেকে প্রতি বছর হাজার হাজার উন্নত কারিগরি জ্ঞানসম্পন্ন ও মেধাবী প্রকৌশলী চাকরির জন্য তৈরি হচ্ছে।

তাছাড়া তিনি মালয়েশিয়ার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে প্রয়োজনীয় যোগ্যতাসম্পন্ন ও মেধাবী গ্র্যাজুয়েটদের মালয়েশীয় শিল্প প্রতিষ্ঠানে নিয়োগের বিষয়েও হাইকমিশনের সহায়তার বিষয়ে ব্যবসায়ী নেতাদের প্রতিশ্রুতি দেন।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশের হাইকমিশনার মালয়েশিয়ার চাহিদা অনুযায়ী সব পেশায় দক্ষতাসম্পন্ন যেকোনো সংখ্যক সাধারণ কর্মী ও প্রকৌশলী সরবরাহে বাংলাদেশের সদিচ্ছা ও সক্ষমতার বিষয়ে পেনাংয়ের শিল্পমালিকদের আশ্বস্ত করেন।

পেনাংয়ের চাইনিজ চেম্বার অব কর্মাস (পিসিসিসি) ও পেনাংয়ের ফেডারেশন অব মালয়েশিয়ান ম্যানুফ্যাকচারার্স (এফএমএম) আয়োজিত উভয় সভায় সংগঠন দুটির গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসায়িক নেতা এবং বাংলাদেশ হাইকমিশনের কাউন্সেলর (বাণিজ্যিক) মো. রাজিবুল আহসান ও পেনাংয়ে নিযুক্ত বাংলাদেশের অনারারী কনসাল শেখ ইসমাইল উপস্থিত ছিলেন।