বন্ধু, কতদিন দেখিনা... ৩৪ বছর পর এইচএসসি বন্ধুদের পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান

বন্ধু, কতদিন দেখিনা… ৩৪ বছর পর এইচএসসি বন্ধুদের পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান

 

আল হেলাল চৌধুরী, ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধি : বন্ধু, কতদিন দেখিনা… ; আবার হবে তো দেখা /এ দেখাই শেষ দেখা নয়তো; এসো মিলি প্রাণের টানে /হৃদয়ের বন্ধনে… দীর্ঘ ৩৪ বছর পর একত্রিত হয়ে বন্ধুরা এসব কবিতার উদ্ধৃতি দিয়েই এভাবেই ব্যক্ত করছিলেন মনের গহীনে জমে থাকা নানা অব্যক্ত কথা।দিনভর ছিল আড্ডা,স্মৃতি রোমন্থন,কুশলবিনিময়।
গতকাল শুক্রবার (১৪ জানুয়ারি) দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে ফুলবাড়ী সরকারি কলেজের ১৯৮৮ সালের এইচএসসি ব্যাচের পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান স্থানীয় জিএম পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে সকাল নয়টা থেকে অনুষ্ঠিত হয়। স্বাস্থ্যবিধি মেনে দিনব্যাপী শতাধিক বন্ধুদের মিলন মেলায় অনুষ্ঠানমালার মধ্যে ছিল স্মৃতিচারণ,সেবামূলক কাজের সাথে এই প্রতিষ্ঠানকে সম্পৃক্ত করা, আগামী পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান করার কর্মপরিকল্পনা,বিভিন্ন জাতীয় দিবস উদযাপন,চায়ের ধোয়ায় আড্ডা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, দুপুরের লাঞ্চ, ইতোমধ্যেই যারা ইন্তেকাল করেছেন তাদের জন্য দোয়া অনুষ্ঠান, বন্ধু ফাউন্ডেশন গঠন,স্মরণিকা প্রকাশ,সপরিবারে অনুষ্ঠান করার ইচ্ছে পোষণ ইত্যাদি।
স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে দুই অধ্যক্ষ আহমেদুর রহমান চৌধুরী এবং মো.মিজানুর রহমান বলেন , আমরা ১৯৮৭ সালে উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণিতে অধ্যয়ন করি। তখন এত কলেজ ছিলনা। আমাদের বন্ধুদের মাঝে সুসম্পর্ক ছিল। ঝগড়াঝাঁটি হলেও পরক্ষণেই আমরা একটেবিলে নাস্তা করেছি, একই মাঠে খেলাধুলা করেছি। দীর্ঘদিন পর বন্ধুরা একত্রিত হলাম। প্রিয় বন্ধুদের সাথে কথা বলতে পেরে আমরা আনন্দে আত্মহারা ।
মুক্তাদের আলম বাবলা বিমান বাহিনীতে চাকুরী করেন, ঢাকায় থাকেন। এতোদিন পর পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পেরে খুশিতে বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। বলেন,৩৪ বছর পর বন্ধুদের পেয়ে এক ভিন্ন আমেজের সৃষ্টি হয়েছে। উপভোগ করছি।
মর্তুজা সরকার মানিক এবং পপি দুজনেই বন্ধু-বান্ধবী।তাদের কথায় একই সাথে পড়ালেখা করেছি। বর্তমানে আমরা একে অপরের জীবনসঙ্গী। মানিক বলেন, আমি পরপর দুইবার ফুলবাড়ী পৌরসভার মেয়র নির্বাচিত হই। আজ পুনর্মিলনীর ৩৪ বছর পর বন্ধুদের কাছে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়েছি। খুব ভালো লাগছে বন্ধুদের সবাইকে কাছে পেয়ে।
ফুলবাড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুশফিকুর রহমান বাবুল ৩৪ বছর পর পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান সম্পর্কে অভিমত ব্যক্ত করতে গিয়ে বলেন,আমার রাজনৈতিক জীবনে যত আনন্দের দিন ছিল আজকে তার চেয়ে বড় আনন্দের দিন, প্রাপ্তির দিন। বন্ধুরা আমাকে যেভাবে মূল্যায়ন করছে ,আমি তার প্রতিদান দিতে পারবো না। বন্ধুদের কাছে পেয়ে আমি অত্যন্ত আনন্দিত।
আকস্মিক বিধি-নিষেধের কারণে অনুষ্ঠানসুচির কলেবর সীমিত করে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। স্বাস্থ্যবিধি মেনেই চলে দিনভর অনুষ্ঠান।
পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানের আহ্বায়ক সহকারী অধ্যাপক সাংবাদিক আজিজুল হক সরকার তার দিকনির্দেশনা মূলক আগামীর কর্মপরিকল্পনা নিয়েও বক্তব্য উপস্থাপন করেন। পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানের সদস্য সচিব ব্যবসায়ী মোকাররম হোসেন , কোষাধ্যক্ষ ব্যবসায়ী বদরুজ্জামান বাদল ,সাইফুল ইসলাম মানিক , ব্যবসায়ী ইকবাল হোসেন বিপ্লব,ব্যবসায়ী কমোল সরকার,ব্যাক্সিমকো ফার্মার ইয়াকুব আলীর সার্বিক তত্ত্বাবধানে থেকে অনুষ্ঠানে বন্ধু ফাউন্ডেশন নামে একটি ফান্ড গঠন করা হয়। মুশফিকুর রহমান বাবুল এক লক্ষ টাকা এবং অধ্যক্ষ মোহাম্মদ আবু তৈয়ব সালাউদ্দিন তুহিন ৫০ হাজার টাকা তাৎক্ষণিক দেয়ার আশ্বাসে একটি তহবিল গঠনের সিদ্ধান্ত হয়।এই তহবিলে বন্ধুদের অংশগ্রহণে একটি বড় অংক হবে, যা দিয়ে অসহায় বন্ধুদের দুঃসময়ে পাশে দাঁড়ানোর জন্য সহায়ক হবে। আগামীতে বড় আকারের অনুষ্ঠান করার ব্যাপারে আহ্বায়ক কমিটিকে আরো সুদূরপ্রসারী কর্মপরিকল্পনা করার আহ্বান জানানো হয়।
শিল্পপতি মনোজ কুমার মল্লিক বলেন, এই পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে যে ফান্ড গঠিত হলো তাতে অংশগ্রহণের আশাবাদ ব্যক্ত করে সবাইকে সম্পৃক্ত হতে বলেন। স্মৃতিচারণ করেন পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানের ব্যবসায়ী সাইদুল ইসলাম,আহসান হাবিব, আহসান মাস্টার, সালাম মাস্টার, মাসুমা ,প্রভাষক মোশাররফ হোসেন, নুরুজ্জামান শাহ,প্রভাষক ডলার, সহকারী অধ্যা.মিনু সরকার, ব্যবসায়ী গোলাম রব্বানি, প্রভাষক মোরশেদুল আলম শারাফি,সহকারী অধ্যা. জাকারিয় হোসেন প্রমুখ।
শিল্পী অম্বিকা চরণ দাস তার বন্ধুদের গানের কথায় সুরের মূর্ছনাদিয়ে শ্্েরাতাদের মুগ্ধ করে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।