ফিলিপাইনে টাইফুনে মৃতের সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়াতে পারে

ফিলিপাইনে টাইফুনে মৃতের সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়াতে পারে

10.11.tyfunআন্তর্জাতিকডেস্ক: ফিলিপাইনে টাইফুন হাইয়ানের আঘাতে নিহতের সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। শুধুমাত্র তাকলোবান শহরেই এক হাজারের বেশি মানুষ মারা গেছে বলে জানা গেছে।

স্থানীয় পুলিশ আশঙ্কা করছে, শক্তিশালী এই টাইফুনের আঘাতে নিহতের সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে। অপরদিকে রেডক্রস জানিয়েছে, এই টাইফুনে শুধুমাত্র তাকলোবান শহরেই এক হাজারের বেশি মানুষ মারা গেছে।
স্থানীয় সময় শুক্রবার সকালে ঘণ্টায় ২৭৫ কিলোমিটার শক্তির ঝড়ো হাওয়া নিয়ে এই দ্বীপরাষ্ট্রে আঘাত হানে ভয়াবহ এই ঝড়টি।
লেইটি প্রদেশের গভর্নরের বরাত দিয়ে প্রাদেশিক পুলিশের প্রধান এলমার সোরিয়া জানিয়েছেন, টাইফুনের আঘাতে কেবল পূর্বাঞ্চলেই ১০ হাজার মানুষ নিহত হয়েছে বলে ধারণা করছেন।
দেশটির প্রেসিডেন্ট বেনিগনো একুইনো বলেছেন, মৃতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণও বাড়বে বলে সরকার আশঙ্কা করছে। এই মুহূর্তে ক্ষতির পরিমাণ জানাতে সরকার প্রস্তুত নয়। তবে ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
ফিলিপাইনের রেডক্রস চেয়ারম্যান রিচার্ড গর্ডন বলেছেন, তারা এখন বেঁচে যাওয়া মানুষদের সাহায্য করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এখনো মৃতের সংখ্যা গণনা শেষ হয়নি। তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো বেঁচে যাওয়া মানুষদের সহায়তা করা। তার জন্য আরো বেশি করে কর্মী পাঠানো হচ্ছে দুর্গত এলাকাগুলোতে।
তবে অনেক জায়গাতেই বিদ্যুৎ না থাকায় দুর্গত অঞ্চলে লুটপাট হয়েছে, আর তা ঠেকাতে বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন গর্ডন।
প্রলয়ঙ্করী এ টাইফুনে ঘর ছাড়া হয়েছে কয়েক লাখ লোক। বিস্তীর্ণ এলাকা ঢেকে গেছে জলোচ্ছ্বাসের সঙ্গে উঠে আসা কাদা আর আবর্জনার নিচে। টাইফুন হাইয়ান তার যাত্রাপথের ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ এলাকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত করেছে। সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে জলোচ্ছ্বাসে ডুবে অথবা ধসে পড়া ঘরবাড়ির নিচে চাপা পড়ে।

দেশটির সেনাবাহিনী ব্যাপক মাত্রায় উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করলেও বেশিরভাগ এলাকাতেই যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় উদ্ধার কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, পুরোপুরি ঠিক হতে কয়েকদিন সময় লেগে যাবে।