প্রথম ম্যাচেই টেলরকে ‘সম্মান’ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ

ক্রীড়া প্রতিবেদক : সোমবার ক্রাইস্টচার্চ টেস্টের দ্বিতীয় দিনের ষষ্ঠ ওভারে রানআউটে কাঁটা পড়ে সাজঘরের পথ ধরেন ১০৯ রানের ইনিংস খেলা ডেভন কনওয়ে। তার বিদায়ে যেন খুশিই হয়েছিল হাগলি ওভালের দর্শকরা। কেননা কনওয়ে ফেরায়ই যে উইকেটে আসার সুযোগ পেয়েছেন বিদায়ী টেস্ট খেলতে নামা রস টেলর।

তিনি আগেই ঘোষণা দিয়েছিলেন, বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজেই তার শেষ টেস্ট ম্যাচ হবে। তাই কনওয়ে আউট হওয়ার পর টেলর যখন নামলেন, তখন উইকেটের সামনে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে তাকে গার্ড অব অনার দেন বাংলাদেশ দলের ফিল্ডাররা। অধিনায়ক মুমিনুল হকের সঙ্গে হাত মিলিয়ে উইকেটে যান টেলর।

বাংলাদেশের এই সম্মান দেওয়ার ঘটনা ক্রিকেটবিশ্বে বেশ ভালো সাড়া পেয়েছে। ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচে কিউই কিংবদন্তিকে গার্ড অব অনার দেওয়ায় সবাই ধন্যবাদ দিয়েছে বাংলাদেশ দলকেও। ম্যাচ শেষেও স্বাভাবিকভাবেই এলো সেই গার্ড অব অনারের প্রসঙ্গ।

ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে নিউজিল্যান্ডের এক সাংবাদিক জানতে চাইলেন, টেলরকে গার্ড অব অনারের মাধ্যমে সম্মানিত করার চিন্তা কীভাবে এলো বাংলাদেশ দলের ভেতর। বাংলাদেশ অধিনায়ক মুমিনুল হক জানান, মূলত প্রথম টেস্টের সময়ই টেলর সম্মানিত করার কথা ভেবে রেখেছিল বাংলাদেশ।

 

তার ভাষ্য, ‘আবহাওয়ার পূর্বাভাসে আমরা দেখেছিলাম চতুর্থ ও পঞ্চম দিনে বৃষ্টি হতে পারে। আমরা খেলোয়াড় ও টিম ম্যানেজম্যান্ট মিলে প্রথম ম্যাচের সময়ই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম (গার্ড অব অনার দেওয়ার ব্যাপারে)। আমরা জানতাম, এটি রস টেলরের শেষ টেস্ট ম্যাচ। তাই আমরা তার ক্যারিয়ারের জন্য তাকে সম্মান দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেই।’

মুমিনুল আরও যোগ করেন, ‘তো এভাবেই আসলে সিদ্ধান্তটা হয় এবং সবাই এটিকে স্বাগত জানায়, খুশি হয়েছে এতে। অধিনায়ক হিসেবে আমি নিজেও খুব খুশি এবং টেলরের মতো নিউজিল্যান্ড ক্রিকেটের কিংবদন্তিকে সম্মান দিতে পারা সত্যিই বিশেষ অনুভূতি।’

এসময় টেলরের ক্যারিয়ার সম্পর্কে বাংলাদেশ অধিনায়ক বলেন, ‘আমি যখন খেলা শুরু করি, বড় হতে হতে তাকে খেলতে দেখেছি। সে নিউজিল্যান্ড ক্রিকেটের কিংবদন্তি। পুরো ক্যারিয়ারজুড়েই সে দুর্দান্ত ছিল। যেভাবে সে ক্যারিয়ার শেষ করেছে, দুর্দান্ত। আমরা তাকে ভালোবাসি, সবাই তাকে মিস করবে। জীবনের বাকি অংশের জন্য শুভকামনা।’