প্রথম ‘জাতীয় গণহত্যা দিবস’ পালন

দেশে প্রথমবারের মতো ২৫ মার্চ জাতীয় গণহত্যা দিবস পালিত হয়েছে। নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে যথাযোগ্য মর্যাদায় দিবসটি পালন করা হয়। তবে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ দিবসটি পালন করলেও দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপি বা তাদের কোনো শরিক দলের কোনো কর্মসূচি ছিল না।

গণহত্যা দিবস উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, একাত্তরের ঘাতক দলাল নির্মূল কমিটি, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর, সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম-মুক্তিযুদ্ধ ৭১, অফিসার্স ক্লাব, বাংলা একাডেমি, জাতীয় প্রেসক্লাব, বাংলাদেশ হেরিটেজ ফাউন্ডেশনসহ বিভিন্ন রাজৈনিতক দল ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে।

রাজধানীর বেশ কয়েকটি স্কুলের শিক্ষার্থীরা আজ সন্ধ্যায় মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে এসে কালরাত স্মরণে মোমবাতি প্রজ্বালন করেছে।

পাকিস্তানের ইসলামাবাদে বাংলাদেশ হাইকমিশনে শনিবার গণহত্যা দিবস পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে সকালে চ্যানসারিতে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

গত ১১ মার্চ জাতীয় সংসদে ২৫ মার্চ জাতীয় গণহত্যা দিবস পালনের প্রস্তাব সর্বসম্মতভাবে গৃহীত হয়। পরে ২০ মার্চ অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে ২৫ মার্চকে ‘গণহত্যা দিবস’ ঘোষণা এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে দিবসটি পালনের প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়।

জাতীয় গনহত্যা দিবস পালন উপলক্ষে শনিবার বঙ্গভবনে একাত্তরের শহীদদের স্মরণে ৩০ লাখ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন রাষ্ট্রপতি।

শনিবার দুপুরে ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এক আলোচনা সভায় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেন, ২৫ মার্চ কালরাতে পাকিস্তানি বাহিনী যে গণহত্যা চালিয়েছিল এর প্রমাণ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে উপস্থাপন করছে সরকার। এর ভিত্তিতে ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস হিসেবে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাবে বলে আশা করছেন মন্ত্রী।

একাত্তরের শহীদদের স্মরণে গণহত্যা দিবসে রাজধানীর লালবাগের আজাদ মাঠ এবং বাংলা কলেজ মাঠে সমাবেশ করে আওয়ামী লীগ। এ ছাড়াও ক্ষমতাসীন দলের অঙ্গ ও সহযোগী সব সংগঠন সারাদেশেই সভা, সমাবেশ, শোভাযাত্রা, আলোকচিত্র প্রদর্শনীসহ নানা কর্মসূচি পালন করে।

আওয়ামী লীগ ছাড়াও তাদের শরিক দল এবং স্বাধীনতার পক্ষের বিভিন্ন সংগঠন দিবসটিতে নানা কর্মসূচি পালন করে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে করা একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মুল কমিটি দিনটিতে ৩০ লাখ শহীদের স্মরণে ৩০ লাখ গাছ রোপনের অভিযান শুরু করেছে। স্বাধীনতা ও গণহত্যা দিবস উপলক্ষে রাত আটটায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ৪৬টি মশাল প্রজ্জ্বালন করা হয়। এসময় মুক্তিযুদ্ধের অধিনায়ক, রাজনৈতিক-সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনের শীর্ষ নেতা, মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যরা অংশ নেন।

২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস, ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস, ১৪ ডিসেম্বর শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস, ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ও শহীদ দিবস নানা কর্মসূচি রাখলেও নতুন এই দিবসটিতে কোনো আয়োজন রাখেনি বিএনপি।