প্রকল্প পরিচালকদের ওপর অসন্তুষ্ট পরিকল্পনামন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক : সিলেট বিভাগে বর্তমানে বাস্তবায়নাধীন প্রকল্প ৫৮টি। এর মধ্যে পাঁচটি প্রকল্পের গতি শূন্যের কোটায়। ৩০টি প্রকল্প ধীরগতিসম্পন্ন। বাকি প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি মোটামুটি। প্রকল্পের অগ্রগতি শূন্য ও ধীরগতিসম্পন্ন হওয়ায় এসব প্রকল্প পরিচালকদের ওপর অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। যাদের প্রকল্পের অগ্রগতি ভালো, তাদের সাধুবাদ জানিয়েছেন মন্ত্রী।

শনিবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে সিলেটের সার্কিট হাউজে বিভাগের বাস্তবায়নাধীন ৫৮টি উন্নয়ন প্রকল্পের বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনা করতে সভার আয়োজন করা হয়। শূন্য ও ধীরগতিসম্পন্ন প্রকল্পের পরিচালকরা সন্তোষজনক অগ্রগতি না হওয়ার যৌক্তিক কারণ সভায় ব্যাখ্যা করতে পারেননি।

তবে পর্যালোচনা সভার শুরুতেই এম এ মান্নান বলেন, ‘আমরা দোষারোপ বা বকাঝকা করার জন্য এখানে আসিনি। কাউকে ছোট করাও আমাদের উদ্দেশ্য নয়। আমাদের উদ্দেশ্য প্রকল্পের গতি বৃদ্ধি করা এবং তা বাস্তবায়ন করা।’

পরিকল্পনামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর সারা দেশে বাস্তবায়নাধীন সব প্রকল্প পরিচালকের সঙ্গে আলোচনা করার উদ্যোগ নেন এম এ মান্নান। এর অংশ হিসেবে সম্প্রতি প্রথম সফর করেন খুলনায়। সেখানে বাস্তবায়নাধীন ৫৮টি প্রকল্পের বিষয়ে কথা বলেন। এর অংশ হিসেবে দ্বিতীয়বারের মতো সিলেট বিভাগে আসলেন পরিকল্পনামন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রীর কিছু অনুশাসন তুলে ধরে সভায় পরিকল্পনামন্ত্রী জানান, প্রকল্প কাজে গতি বাড়াতে যথাসময়ে কাজ শেষ করতে হবে। এক ব্যক্তি একাধিক প্রকল্পের দায়িত্ব গ্রহণ করতে পারবেন না। সেই সঙ্গে প্রকল্প পরিচালকদের প্রকল্পের এলাকায় অবস্থান করতে হবে। প্রকল্প বাস্তয়ান করে তার সুফল জনগণের মাঝে পৌঁছে দিতে প্রধানমন্ত্রীর এসব অনুশাসন অবশ্যই মানতে হবে।

পরিকল্পমন্ত্রী তাদের সঙ্গে কথা বলে জানতে পারেন, প্রকল্প পরিচালকদের কেউ কেউ প্রকল্প এলাকাতেই থাকেন না। এ সময় একজন ব্যক্তি পাঁচটি প্রকল্পের দায়িত্বে আছেন, এমন প্রকল্প পরিচালকও পাওয়া যায়।

মন্ত্রী বলেন, ‘এখন উন্নয়নের যুগ। এখন সেই আগের ধারণা নাই। এখনকার রাষ্ট্রের মূল কাজটি হবে উন্নয়ন। উন্নয়নের মূল উদ্দেশ্যই হচ্ছে জনগণের কল্যাণ। পুরো দৃষ্টিভঙ্গিটা পাল্টে গেছে। বৃটিশদের দৃষ্টিভঙ্গি, পাকিস্তানের দৃষ্টিভঙ্গি অনেক ফারাক আছে। আপনারা বোঝেন এগুলো।’

তিনি বলেন, ‘উন্নয়ন এমন এক জিনিস, যদি এটা থেমে যায়, তাহলে এটা নিচে নেমে যাবে। কন্টিনিউয়াসলি ডেন্সে থাকতে হবে। আর স্পিড বাড়াতে হবে।’