পর্তুগালে বেকারত্ব বেড়েছে ‘সামান্য’

নিউজ ডেস্ক : করোনাভাইরাসের কারণে কর্মী ছাঁটাই করছে পর্তুগালের বহু প্রতিষ্ঠান। আবার চাকরি থাকলেও অনেকের বেতন কমেছে। স্বাস্থ্যঝুঁকি বিবেচনায় কর্মীরা নিজ থেকেও কর্মস্থল ছেড়েছে। বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান পুরোপুরিভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। কাঁচামাল আমদানি-রপ্তানির ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হচ্ছে। ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো তাদের লক্ষ্যমাত্রা পূরণেও ব্যর্থ। সব মিলিয়ে দেশটিতের বেকারের সংখ্যা বেড়েছে।

প্রতি বছর ডিসেম্বরে পর্তুগালের স্থানীয় ওয়েবসাইট ‘ইনস্টিটুটো ডু ইমপ্রেগো ই ফরমাসাও প্রফেশনাল বেকারত্বের হার নিয়ে তথ্য প্রকাশ করে থাকে। এ বছর বেকারত্ব ‘সামান্য বৃদ্ধি’ পেয়েছে বলে দেখানো হয়েছে। গত আট মাসের বেকারত্বের নিবন্ধনের হিসাব অনুযায়ী এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে ১০ বছরে বেকারত্ব বৃদ্ধির সংখ্যা দেখানো হয় শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ, যা খুবই সামান্য বলেও বিবেচিত।

গত বছরের ডিসেম্বরে পর্তুগাল ও এর স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলগুলোতে বেকারত্বের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে তিন লাখ ৪৭ হাজার ৯৫৯ জনে। দেশটিতে নিবন্ধিত মোট বেকারের সংখ্যা ২০২০ সালের একই মাসের তুলনায় ৫৪ হাজার ২৯৫ জন কম ছিল (১৩.৫ শতাংশ) এবং আগের মাসের তুলনায় বেশি ছিল দুই হাজার ৭৫ জন (0.৬ শতাংশ)।

অন্যদিকে পর্তুগালের পর্যটন অঞ্চল আলগার্ভে বেকারত্বের সংখ্যা বিগত বছরগুলোর তুলনায় ২১.৫ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে এবং স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল দ্বীপ মাদেইরাতে বেকারত্ব হ্রাস পেয়েছে ২৮ শতাংশ।

বেকারত্বের এই দায় অন্যান্য দেশের মতো ইউরোপের অভিবাসীবান্ধব দেশ পর্তুগালও বহন করছে। পর্তুগাল পর্যটন ও কৃষিশিল্পভিত্তিক দেশ হওয়ায় আঘাত হানা আরও সহজতর হয়েছে। পর্যটন খাত (রেস্টুরেন্ট, হোটেল, মোটেল, পর্যটন পরিবহনসহ) সংশ্লিষ্ট শিল্পে জড়িত সব কর্মসংস্থানগুলোও বন্ধ হতে থাকে।

মহামারির শুরুতে ইউরোপীয় দেশগুলোতে পণ্য আমদানি-রপ্তানির নিষেধাজ্ঞা থাকায় কৃষিনির্ভর দেশটিতে সবকিছু ধীর থেকে যায়। তাই কৃষিশিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোতেও কর্মসংস্থান করে যায়। ফলে ১৪ বছর পর পর্তুগালে বেকারত্বের সংখ্যা কিছুটা বৃদ্ধি পেল।