পরীমনিকে কেন তৃতীয় দফায় রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন, যা বলল সিআইডি

নিউজ ডেস্ক : চিত্রনায়িকা শামসুন্নাহার স্মৃতি ওরফে স্মৃতিমনি ওরফে পরীমনির জামিন ও তৃতীয় দফায় রিমান্ড শুনানির জন্য বৃহস্পতিবার দিন ধার্য করেছেন আদালত। বুধবার ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দেবব্রত বিশ্বাস এ আদেশ দেন।

গত সোমবার পরীমনির জামিন আবেদন করা হলে শুনানির জন্য আদালত আজ বুধবার দিন ধার্য করেন। দুপুর ১২টার দিকে পরীমনির জামিন শুনানির জন্য নথি আদালতের কাছে উপস্থাপন করা হয়। ওই সময় পরীমনির তৃতীয় দফায় রিমান্ড আবেদনের বিষয়ে তার আইনজীবীকে জানানো হয়। এ সময় আদালত জানান, মামলাটিতে গত ১৬ আগস্ট আসামির পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে। রিমান্ড আবেদনের শুনানির জন্য বৃহস্পতিবার দিন ধার্য আছে। তাই আজ (বুধবার) জামিন শুনানি করা যাচ্ছে না। বৃহস্পতিবার রিমান্ড আবেদনের শুনানির সময় একইসঙ্গে জামিন আবেদনের শুনানি করতে পারবেন।

পরীমনির আইনজীবী মজিবুর রহমান আদালতকে বলেন, যখন পরীমনির জামিন আবেদন করা হয়েছে, তখন রিমান্ড আবেদন ছিল না। যেহেতু আবারও রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে। তাই জামিন আবেদনটি আমাদের আপডেট করতে হবে। নতুন করে আরও কিছু সংযুক্ত করতে হবে। এমতাবস্থায় আমরা আবেদনটি ফেরত চাচ্ছি। আদালত আসামিপক্ষের এ আবেদনটি মঞ্জুর করেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির পুলিশ পরিদর্শক কাজী গোলাম মোস্তফা গত ১৬ আগস্ট পরীমনিকে রিমান্ডে নিতে আবেদন করেন। আবেদনে বলা হয়, পরীমনিকে রিমান্ডে নিয়ে ঘটনার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের শেষ দিকে আসামি মামলার ঘটনা ও ঘটনার নেপথ্যে মূলহোতাদের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের স্বার্থে তার দেওয়া তথ্য-উপাত্ত যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। এ অবস্থায় পরীমনি আগে আদালতের আদেশে পুলিশি রিমান্ডে থাকাকালে জিজ্ঞাসাবাদে যেসব তথ্য দিয়েছেন তা সঠিকতাসহ মাদক ব্যবসার মূলহোতাদের গ্রেফতার, মাদকদ্রব্য মজুদ ও উদ্ধারসহ মাদক ব্যবসার পেছনে অর্থের যোগানদাতাদের খুঁজে বের করার জন্য পুনরায় রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ একান্ত প্রয়োজন। তাকে রিমান্ডে পাওয়া গেলে মাদক ব্যবসায়ী মূল হোতাদের গ্রেফতার ও মাদকদ্রব্যের অবৈধ উৎসের সন্ধান পাওয়া সম্ভব হবে। পরীমনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অন্তরালে বিভিন্ন অনৈতিক কাজে সম্পৃক্ত বলেও আবেদনে উল্লেখ করা হয়।

এর আগে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের এ মামলায় দুই দফায় রিমান্ড শেষে গত ১৩ আগস্ট পরীমনি ও তার ম্যানেজার আশরাফুল ইসলাম দীপুকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করা হয়। অপরদিকে ওইদিন তাদের পক্ষে জামিন আবেদনও করা হয়। আদালত তাদের জামিন নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।