নূর হোসেনকে গুমের আশঙ্কা নিহত কাউন্সিলর নজরুল ইসলামের শ্বশুর শহিদুলের

Slide
Watch all sports live streaming

Click to watch any of those channels

63651_55555ঢাকা, ১১ মে : তিন র‌্যাব কর্মকর্তাকে গ্রেফতার ও র‌্যাব-১১’র নারায়ণগঞ্জ ক্যাম্প তল্লাশির দাবি জানিয়েছেন নিহত কাউন্সিলর নজরুল ইসলামের শ্বশুর শহিদুল ইসলাম। তার আশঙ্কা প্রধান অভিযুক্ত নূর হোসেনকে গুম করে ঘটনা ধামাচাপা দেয়া হতে পারে।

For all latest news; follow EkusherAlo24's Google News Channel

ডয়চে ভেলের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে শহিদুল এ আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, তদন্তের নামে ঢাকঢোল পেটানো হলেও আসামিদের গ্রেফতার না করা রহস্যজনক।
নারায়ণগঞ্জের ওয়ার্ড কাউন্সিলর নজরুল ইসলামসহ সাতজনকে অপহরণ করা হয় ২৭ এপ্রিল। আর শীতলক্ষ্যা নদী থেকে তাদের লাশ উদ্ধার করা হয় ৩০ এপ্রিল। তারপর ১০ দিন কেটে গেলেও আসামি এবং অভিযুক্তদের গ্রেফতারে তেমন কোনো অগ্রগতি নেই। আর মূল অভিযুক্ত আরেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর নূর হোসেনকে নিয়ে নতুন নাটক চলছে বলে দাবি করেন নিহত নজরুলের শ্বশুর শহিদুল ইসলাম।
ডয়চে ভেলেকে তিনি বলেন, প্রথমে হাতের কাছে পেয়েও নূর হোসেনকে গ্রেফতার করেনি পুলিশ। আর এখন প্রচার করা হচ্ছে নূর হোসেন দেশের বাইরে পালিয়ে গেছে।
তিনি আশঙ্কা করেন, নূর হোসেন শেষ পর্যন্ত গুমের শিকার হতে পারেন। কারণ নূর হোসেন গ্রেফতার হলে সবকিছু প্রকাশ পাবে। এ হত্যাকান্ডের সঙ্গে জড়িত তিন র‌্যাব কর্মকর্তা এবং প্রভাবশালীদের নাম প্রকাশ করে দেবে সে। আর সে কারণেই হয়তো নূর হোসেনকেও আর পাওয়া নাও যেতে পারে।
শহিদুল ইসলাম দাবি করেন, নূর হোসেন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণেই আছে। তাকে দিয়ে হয়তো নতুন কোনো নাটকের অধ্যায় তৈরি হচ্ছে।
তিনি বলেন, র‌্যাব-১১’র কমান্ডিং অফিসার লে. কর্নেল তারেক সাইদ মোহাম্মদ, মেজর আরিফ হোসেন এবং র‌্যাবের নারায়ণগঞ্জ ক্যাম্পের প্রধান লে. কমান্ডার মাসুদ রানা- এ তিনজনকে এখনো গ্রেফতার বা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়নি। নূর হোসেনকে পাওয়া না গেলেও এই তিনজনতো পালিয়ে যাননি। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করলেই সব তথ্য বেরিয়ে আসবে।
শহিদুল ইসলাম প্রশ্ন করেন, কী কারণে এখনো এ তিন কর্মকর্তাকে গ্রেফতার করা হচ্ছে না?
তিনি দাবি করেন, এ তিন কর্মকর্তা যে ছয় কোটি টাকার বিনিময়ে সাতজনকে হত্যা করেছেন তা এখন পুরোপুরি পরিষ্কার। হত্যার আর লাশ নদীতে ডোবাতে যে ইট, দড়ি এবং বস্তা ব্যবহার করা হয়েছে তা সবই র‌্যাবের নারায়ণগঞ্জ ক্যাম্পের।
তারপরও বিষযটি নিয়ে সময় পার করা হচ্ছে বলে তার দাবি। তিনি বলেন, নারায়ণগঞ্জের র‌্যাব ক্যাম্পে তল্লাশি চালানো হলে হত্যাকান্ডের সব আলামত পাওয়া যাবে। কিন্তু তাও করা হচ্ছে না।
শহীদুল ইসলাম বলেন, নূর হোসেনকে পাওয়া গেলেই সব কিছু জানা যাবে, পুলিশ এই দাবি করছে। কিন্তু তাকে আদৌ পাওয়া যাবে কিনা তা নিয়ে এখন সন্দেহ আছে। আর তাকে পাওয়া না গেলেও তিন র‌্যাব কর্মকর্তাই তো সব জানেন। তাদের কেন ধরা হচ্ছে না।
তিনি বলেন, এখন মামলার তদন্ত নয়, এটা নিয়ে রাজনীতি হচ্ছে। তিন র‌্যাব কর্মকর্তাসহ প্রভাবশালীদের বাঁচানোর চেষ্টা চলছে। রাজনীতি নয়, আমি হত্যার বিচার চাই।