লাইফ স্টাইল

নতুন বছরে জীবনকে সুন্দর করে গড়তে চান?

বিশবাইশ চলে গেল। এসেছে নতুন বছর। ২০২৩ সালের শুরুটা হয়েছে হাড় হিম করা শীতে। তবে তাই বলে পুরো বছর তো আর জবুথবু হয়ে কাটবে না। এক না একসময় হয়ে উঠবে কর্মচঞ্চল।

নতুন বছরের শুরুতে মানুষের থাকে নানা ধরনের সংকল্প। জীবনকে আরও সুন্দর করতে এবং আরও গুছিয়ে নিতেই এসব সংকল্প নেওয়া হয়। মোদ্দা কথা, পুরনো বছরের ভুল ভেঙে নতুন বছরে মানুষ আরও এগিয়ে যেতে চায়। হতে চায় আরেকটু সুখী।

গেল বছরের খোলনলচে পাল্টে নিজেকে কিছুটা এগিয়ে নেওয়া যায় সহজেই। এর জন্য মাথায় রাখতে পারেন ৫টি বিষয়। এই পাঁচ কাজে সহজ হয়ে আসতে পারে আপনার সামনের দিনগুলো। আসুন, জেনে নেওয়া যাক এই ৫ সংকল্প কী কী:

১. প্রয়োজনকে প্রাধান্য দিন, চাওয়াকে নয়
নতুন বছরের শুরুটা হয়েছে বৈশ্বিক নানা ঘটনা-দুর্ঘটনার মধ্যেই। কোথাও যুদ্ধ হচ্ছে, আবার কোথাও বেড়ে যাচ্ছে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম। অর্থনীতিবিদেরা কেউ কেউ দিচ্ছেন মন্দার পূর্বাভাস। এমন অবস্থায় খরচের পালে হাওয়া একটু কম দিলেই ভালো হয়। বিশেষ করে বুঝতে হবে প্রয়োজনীয়তা ও চাওয়া বা আকাঙ্ক্ষার পার্থক্য। মানুষের দৈনন্দিন জীবনে কিছু প্রয়োজনীয় খরচ থাকে। জীবন ধারণের জন্যই সেসবের দরকার হয়। আবার কিছু খরচ থাকে মনের খোরাকের জন্য। আপনার হয়তো লেখার জন্য একটি ভালো কলম প্রয়োজন হতে পারে। সেটি প্রয়োজনীয় খরচ। কিন্তু বিলাসিতার জন্য যে খরচ, তা সব সময় প্রয়োজনীয় হয় না। তাই সঞ্চয়ে মনোযোগী হতে হবে। নিয়মিত সঞ্চয় করতে পারলে, এক সময় দেখা যাবে বেশ ভালো পরিমাণ অর্থ জমা হয়ে গেছে। পরে তা আপনারই বিপদে-আপদে কাজে লাগবে।

২. প্রকৃতিতে যাপন
আমাদের জীবনের যাপনে এখন অনেকখানি জায়গা দখল করে থাকে মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ, ট্যাবলেট, টিভি ইত্যাদি ইত্যাদি। এত যন্ত্রের ভিড়ে ইচ্ছা থাক, আর না-ই থাক, আমাদের জীবনটাও কিছুটা তো যান্ত্রিক হয়ে ওঠেই। এতে মন-মেজাজও কি আর সব সময় ঠিক থাকে? তাই নিজেদের মানসিক স্বাস্থ্যের ভালোর জন্যই আমাদের নিয়মিত প্রকৃতির কাছে যাওয়া উচিত। ইট-কাঠের জীবনের যান্ত্রিকতা ঝেড়ে ফেলতে আমাদের যেতে হবে সবুজ ঘাস, খোলা মাঠ বা নীল আকাশের কাছে। প্রতিদিন অন্তত ২০ থেকে ৩০ মিনিট প্রকৃতির সান্নিধ্যে থাকা খুবই প্রয়োজন। এতে করে শারীরিক ও মানসিক – উভয় সুস্থতাই নিশ্চিত হয়। বিশেষ করে দূরে রাখা যায় নেতিবাচক আবেগকে, চর্চা হয় ইতিবাচকতার। ফলে দিনশেষে লাভটা নিজের ব্যাগেই ঢোকে।

৩. মাতুন সৃষ্টিসুখের উল্লাসে
নিজের হাতে কিছু না কিছু বানান। এটি নিয়মিতই করা উচিত। এতে করে ব্যক্তি হিসেবে একজনের পরিপূর্ণতা সৃষ্টি হয়। ডিজিটাল দুনিয়ায় আঙুলের খোঁচায় এখন অনেক কিছুই ভার্চুয়ালি বানিয়ে ফেলা যায় বটে। তবে তেমনটা নয়। একদম নিজের দুই হাত দিয়ে বানান কেক বা পুডিং। অথবা বাগানের গাছগুলোর দেখভাল করতে পারেন। আবার পেইন্টিংও হতে পারে বেশ ভালো উপায়। এসব নিয়মিত করলে একদিকে যেমন ব্যক্তির মানসিক রূপান্তর সুস্থ ধারায় গড়ায়, তেমনি অন্যদিকে নতুন দক্ষতাও যোগ হয়ে প্রাপ্তির খেরোখাতায়।

৪. দয়ালু হোন
কার সময়টা আসলে কীভাবে কাটছে, তা আমরা সব সময় জানতে পারিনা। কিন্তু দেখা গেল, না জেনেই হয়তো কারও সঙ্গে এমন ব্যবহার করে ফেলছি, যা ওই নির্দিষ্ট ব্যক্তির সময়টাকে আরও খারাপ করে তোলে। তাই কারও প্রতি চরম প্রতিক্রিয়া দেখানোর আগে এক মুহূর্ত ভাবুন, একটু থামুন। কারও প্রতি সহানুভূতিশীল হতে কিন্তু নিজের গাঁটের পয়সা খরচ হয় না। দয়া বা সহমর্মিতা এমন এক ভাষা, যা যে কোনো অঞ্চল বা দেশের মানুষ অনুভব করতে পারে। তাই অন্যের প্রতি সহমর্মী হয়ে ওঠার চেষ্টা জারি রাখতে হবে। এতে করে যেমন আপনি নিজে ভালো থাকবেন, তেমনি হয়ে উঠতে পারবেন অন্যের ভালো থাকার কারণ।

৫. পরিচ্ছন্ন থাকুন
আপনার বাসস্থানের চারপাশে তাকালেই দেখবেন, এমন অনেক কিছুতে জায়গা ভর্তি হয়ে আছে যেগুলো হয়তো আপনার নিয়মিত কাজেই লাগে না। তারপরও সেসব অপ্রয়োজনীয় জিনিস আপনার চারপাশজুড়ে থাকে এবং অহেতুক ভিড় সৃষ্টি করে। এমন পরিবেশ যে কারও মানসিক অবস্থার জন্যও ক্ষতিকর। তাই যা যা প্রয়োজন, সেসবই শুধু থাকুক আপনার ঘরে এবং জীবনে। এই পরিচ্ছন্ন পরিবেশ আপনার চিন্তার প্রক্রিয়াকে আরও সতেজ করে তুলবে এবং জোগান দেবে নতুন নতুন ভাবনা। ব্যক্তিগত বুদ্ধিবৃত্তিক উন্নতির জন্যই এমনটা প্রয়োজন।

তথ্যসূত্র: এনডিটিভি ডট কম