দক্ষিণ আফ্রিকায় বাংলাদেশি মালিকানাধীন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ডাকাতি

দক্ষিণ আফ্রিকায় বাংলাদেশি মালিকানাধীন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ডাকাতি

প্রবাস ডেস্ক : দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গের মালবেনে বাংলাদেশি মালিকানাধীন একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (১৯ নভেম্বর) স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিটে সন্ত্রাসীরা নগদ অর্থসহ মালামাল নিয়ে পালিয়ে গেছে।

দোকানের মালিক জানিয়েছেন, সঙ্গবদ্ধ ডাকাতদল দোকান থেকে নগদ অর্থসহ মূল্যবান মালামাল নিয়ে পালিয়ে গেছে। তবে দোকানটিতে থাকা কোনো বাংলাদেশির ক্ষয়-ক্ষতি হয়নি।

তিনি জানান, দক্ষিণ আফ্রিকায় ডিসেম্বর মাস উপলক্ষে আশঙ্কাজনকহারে চুরি-ডাকাতি বেড়ে গেছে। বেশিরভাগ হামলা কিংবা ডাকাতির ঘটনা ঘটছে ভোর ও সন্ধ্যায়।

এর আগে, দক্ষিণ আফ্রিকার ব্লুমফন্টেইন এলাকায় বাংলাদেশিদের মালিকানাধীন শতাধিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ব্যাপকহারে লুটপাট চালায় স্থানীয়রা। ব্লুমফন্টেইনের খালিসা, পাম্পিং, রকল্যান্ড, নামিবিয়া এলাকায় বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের শতাধিক দোকানসহ বিদেশিদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে সশস্ত্র হামলা করে ভাঙচুর করে ব্যাপক লুটপাট চালায় কৃষ্ণাঙ্গরা।

ডাকাতির ঘটনা বারবার কেন ঘটছে জানতে চাইলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক প্রবাসী জানান, বাংলাদেশিদের মালিকানাধীন দোকানপাটে হামলা এবং লুটতরাজ প্রায় নিয়মিত ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

হামলা এবং লুট হওয়া ঠেকাতে দোকানে গ্রিল বসিয়েছেন অনেকে। এছাড়া সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কেপটাউন, জোহানসবার্গ, প্রিটোরিয়া এবং ব্লুমফন্টেইনে অভিবাসী বিরোধী হামলার শিকার হয়েছেন বহু বাংলাদেশি।

বাংলাদেশ থেকে বৈধ এবং অবৈধভাবে যারা আসেন, নানাভাবে কিছুদিন পর তারা এখানে ছোটখাটো ব্যবসা শুরু করে, বিশেষ করে মুদি বা গ্রোসারি দোকান দেয় তারা। তখন দেখা যায় বাংলাদেশি আরেকজন অভিবাসীর সঙ্গেই হয়ত তার দ্বন্দ্ব শুরু হলো। এর পরিণতিতে অনেক খুনখারাপি আমরা দেখেছি।

এছাড়া কাগজপত্র বিশেষ চেক করা হয় না বলে অনেকে চলে যায় গ্রামের দিকে। সেখানে গিয়ে দেখা যায় তারা স্থানীয়দের সঙ্গে ব্যবসায়িক দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়ে। এ থেকে দোকানে লুট ও সংঘর্ষ এবং খুনের ঘটনা ঘটার অভিযোগ আছে।

দক্ষিণ আফ্রিকায় বাংলাদেশিদের জন্য একটি বড় সমস্যা হচ্ছে, দেশটিতে বহু বাংলাদেশি অবৈধভাবে অবস্থান ও কাজ করছেন, যে কারণে অনেক সময় হত্যাকাণ্ডের পর মামলা করায় জটিলতা সৃষ্টি হয়।

নব্বই এর দশক থেকে বাংলাদেশ থেকে মানুষ দক্ষিণ আফ্রিকায় কাজের সন্ধানে যেতে শুরু করে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে বৈধভাবে এক লাখের বেশি বাংলাদেশি রয়েছেন। বিভিন্ন শহরে এই মুহূর্তে প্রায় তিন লাখের বেশি অবৈধ বাংলাদেশি রয়েছেন।

এসব প্রবাসীদের বেশিরভাগ কেপটাউন, জোহানসবার্গ এবং ব্লুমফন্টেইনে থাকেন। মূল শহরের আশেপাশে এবং গ্রামে ছড়িয়ে পড়ে কাজ করেন অনেকে। সেখানে এখনো সাদা এবং কালো মানুষদের মধ্যে অর্থনৈতিক বৈষম্য ব্যাপক এবং ভূমির মালিকানা নিয়েও রয়েছে চরম অসন্তোষ।

দেশটিতে প্রতিযোগিতা অনেক, টিকে থাকা সহজ না। এছাড়া স্থানীয় লোকের আর্থিক অবস্থা গত কয়েক বছর ধরে ভালো না হওয়ায় আমাদের ব্যবসার অবস্থাও ভালো না। এছাড়া প্রায়ই স্থানীয় সন্ত্রাসীরা আমাদের দোকানে লুটপাট চালায়, কখনো ধরে নিয়ে গিয়ে মুক্তিপণ নেয়। নিরাপত্তার অভাবে অনেক সময়ই রাত জেগে দোকান পাহারা দেন তারা।

সেই সঙ্গে গত কয়েক বছর ধরে দেশটিতে অর্থনৈতিক মন্দা চলছে, স্থানীয়দের মধ্যে বেকারত্বের হার ২৮ শতাংশের বেশি। কর্মসংস্থান না থাকায় কেপটাউন এবং জোহানসবার্গসহ বড় শহরগুলোর অপরাধ প্রবণতা বৃদ্ধি পাওয়া দেশটির একটি বড় সমস্যা।