টেলিভিশন এবং মোবাইলের অধিক ব্যবহারে ক্যানসার অনিবার্য

টেলিভিশন এবং মোবাইলের অধিক ব্যবহারে ক্যানসার অনিবার্য

মোবাইল ফোন ব্যবহারে ছড়িয়ে পড়া রেডিও-তরঙ্গ থেকে ম্যালিগন্যান্ট ক্যানসার অনিবার্য। এমনকী, ব্রেন ক্যানসার বা ব্রেন টিউমারের আশঙ্কাও বহু গুন বাড়িয়ে দেয়। এছাড়া সব সময় টেলিভিশন সেটের সামনে বসে থাকলেও ছড়িয়ে পড়া রেডিও-তরঙ্গ ক্যানসার আক্রান্তের আশঙ্কাকে অনেক গুন বাড়িয়ে দেয়। আমেরিকার ‘ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেল্‌থ’-এর তত্ত্বাবধানে সম্প্রতি এক গবেষণার ফলাফল ওই তথ্য দিয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার সেই ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে ‘ন্যাচার’ জার্নালে। ওয়াশিংটনে, ‘ফেডারাল কমিউনিকেশন্স কমিশন’(এফসিসি) এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, তারা এ ব্যাপারে শীঘ্রই ব্যবস্থা নিতে চলেছে।

আড়াই কোটি ডলার ব্যয়ে এই গবেষণাটি চালানো হয়েছে ‘ন্যাশনাল টক্সিকোলজি প্রোগ্রামে’। ওই গবেষণায় দেখা গিয়েছে, যে রেডিও-তরঙ্গে মার্কিন মুলুকে টেলিভিশন সম্প্রচার করা হয়, বা চালানো হয় উপগ্রহের মাধ্যমে যোগাযোগ ব্যবস্থা, সেই রেডিও-তরঙ্গ অনিবার্য ভাবেই ম্যালিগন্যান্ট ক্যানসারের আশঙ্কাকে বাড়িয়ে দেয়।

ওই গবেষণা চালানো হয়েছিল ইঁদুরের ওপর। এতে দেখা গিয়েছে, ওই বিশেষ রেডিও-তরঙ্গ পুরুষ ইঁদুরের শরীরে দুধরনের ম্যালিগন্যান্ট ক্যানসারের অন্যতম প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মূল গবেষক ক্রিস্টোফার পোর্টিয়ার তার গবেষণাপত্রে জানিয়েছেন, যে রেডিও-তরঙ্গ থেকে পুরুষ ইঁদুররা ম্যালিগন্যান্ট ক্যানসারে আক্রান্ত হচ্ছে, আমাদের প্রতিদিনের ব্যবহার করা মোবাইল ফোন থেকে সেই রেডিও-তরঙ্গই ছড়িয়ে পড়ে নিয়মিত। সবচেয়ে উন্নত প্রযুক্তিতে বানানো মোবাইল ফোন থেকেও ছড়িয়ে পড়ে ওই একই রেডিও-তরঙ্গ।

সহযোগী গবেষক, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আরিজোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যানসার রোগ বিশেষজ্ঞ বলেন, ওই বিশেষ রেডিও-তরঙ্গের মাত্রা বাড়ানো হলে, ইঁদুররা আরো বিরল ক্যানসারে খুব দ্রুত হারে আক্রান্ত হচ্ছে। ‘গ্লিওমাস’ নামক সেই ক্যানসার বা টিউমারটা হচ্ছে মস্তিষ্কে। এছাড়াও ‘শোয়্যানোমাস’নামক হৃদযন্ত্রের ক্যানসারেও আক্রান্ত হচ্ছে।

কিন্তু ওই রেডিও-তরঙ্গের স্বাভাবিক মাত্রায় (যা প্রতিদিন মোবাইল ফোন থেকে ছড়িয়ে পড়ে) ওই দুই ধরনের ক্যানসার ইঁদুরগুলো আক্রান্ত হচ্ছে না। মানুষের ক্ষেত্রেও ওই রেডিও-তরঙ্গের প্রভাব একই রকম।