ঝিনাইদহে কৃষকরা আগ্রহ হারাচ্ছে ধান চাষে!

Slide
Watch all sports live streaming

Click to watch any of those channels

জাহিদুর রহমান তারিক, ঝিনাইদহ প্রতিনিধি : ঝিনাইদহের ৬টি উপজেলার হাটবাজার গুলোতে দেখা মিলছে ধান বিক্রি করে কৃষকরা তাদের উৎপাদন খরচ না পেয়ে হতাশ হয়ে পড়েছে। আবার বেশি ক্ষতি গ্রস্থ হচ্ছে বর্গা চাষীরা। তারা জমির মালিককে জমি বর্গার টাকা ও ধান পরিশোধ করে উৎপাদন খরচই তুলতে পারছে না। বাধ্য হয়ে অনেক বর্গা চাষী জমির মালিককে জমি ফেরত দিচ্ছেন। আগ্রহ হারাচ্ছে ধান চাষ করতে। ধান চাষ বাদ দিয়ে তারা চায়ের দোকান, ইজি বাইক চালাচ্ছে। কিন্তু এত লোকসান খেতে চাচ্ছে না।

ঝিনাইদহ কৃষি বিভাগ বলছে, এ জেলায় ২০১৮ সালে আবাদ করা হয় ৯৪ হাজার ৮’শ ৯২ হেক্টর জমিতে। বর্তমানে ধান কাটার মৌসুম শুরু হয়েছে। তাতে করে কৃষকরা নাকি ধান বিক্রিতে ভাল দাম পাচ্ছে না।

For all latest news; follow EkusherAlo24's Google News Channel

কালীগঞ্জ উপজেলার রামনগর গ্রামের মহিদুল ইসলাম বলেন, কয়েক বছর ৫০ শতক জমি বর্গা নিয়ে চাষ করে আসছি। যে পরিমাণ ধান উৎপাদন হয়, জমির মালিকের টাকা পরিশোধ করার পর যা থাকে তা খাওয়া চলে। কয়েক মৌসুমে ধান চাষ করে মালিককে লিজের টাকা দেয়ার পর উৎপাদন খরচই ওঠেনি। বাধ্য হয়ে লিজের জমি ফেরত দিয়ে অন্য কাজ করতে বাধ্য হয়েছি।

নওদা গ্রামের রফি উদ্দিন বলেন, আমরা ধান চাষ করছি। লাভবান হচ্ছে রাইছ মিল মালিকেরা। তারা ধান কিনে ধানের গুড়া বিক্রি করছে। তাছাড়া ধানের দাম কম হলেও চালের দামতো আর কম নেই। বর্তমানে বাজারে ধান বিক্রি হচ্ছে ৫৫০ থেকে ৬৫০ টাকা প্রতি মণ। বর্তমানে বর্গা চাষীরা ধানের আবাদ করে উৎপাদন খরচ তুলতে না পারার কারণে তারা আর ধান চাষ করবে না।

তিনি আরো বলেন, খরচের তুলনায় উৎপাদন হচ্ছে কম। জমির মালিককে চুক্তির টাকা বা ধান দিয়ে পরিশোধ করতে হচ্ছে। সব মিলিয়ে খরছের টাকাও থাকছে না তাদের। যে কারণে ধান চাষে আগ্রহ হারাচ্ছে। সাধারণ কৃষকরাও ধান বিক্রি করে তাদের উৎপাদন খরচ তুলতে না পেরে হতাশ হয়ে পড়েছে। তারা বলছে এ লোকসান দিয়ে ধানচাষ করা সম্ভব না। ফলে তারা ধান চাষে আগ্রহ হারাচ্ছে।