জাতীয় স্মৃতিসৌধে বাঁজতে শুরু করেছে স্বাধীনতার সুর

জাতীয় স্মৃতিসৌধে বাঁজতে শুরু করেছে স্বাধীনতার সুর

মহান স্বাধীনতা দিবসে জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্যদিয়ে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের স্মরণ করবে ষোল কোটি মানুষ। আর কিছু প্রহর পরে আবারো বীর বাঙালিরা ৪৪তম বারের উদযাপন করবে ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস। এই উপলক্ষে ঢাকার অদূরে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে ইতোমধ্যে বাঁজতে শুরু করেছে মহান স্বাধীনতার সুর। গত তিন দিন যাবৎ সৌধ চত্বরে চলছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর দৃষ্টিনন্দন কুঁচকাওয়াজ মহড়া। আর মহড়ায় কুঁচকাওয়াজ প্রশিক্ষকের দিক নির্দেশনামূলক ধ্বনি ও সোলজারের প্যারেডের আওয়াজে মুখরিত হচ্ছে সৌধ চত্বর। আর ভেপুর বাঁজনায় ধ্বনিত হচ্ছে চারপাশ। পাশাপাশি স্মৃতিসৌধ এলাকার বিভিন্ন স্থানে স্থাপিত সাউন্ড সিস্টেমে বাঁজছে মৃদু আওয়াজের দেশাত্মবোধক গান। সব মিলিয়ে সৌধ প্রাঙ্গণে যেন সৃষ্টি হয়েছে এক স্বাধীনচেতা মায়াবীনি পরিবেশ।

অপরদিকে দিবসটি উদযাপন উপলক্ষে ফুল গাছের চারা রোপন ও রং-তুলির আঁচড়ে সাজিয়ে তোলা হয়েছে পুরো সৌধ এলাকা। কারণ জাতির গৌরব আর অহংকারের এ-দিনটিতে সৌধ প্রাঙ্গণে যে ঢল নামবে লাখো মানুষের। তাদের হৃদয় নিংড়ানো শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় ফুলে ফুলে ভরে উঠবে স্মৃতিসৌধের শহীদ বেদি।

জাতীয় স্মৃতিসৌধের গণপূর্ত বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. মিজানুর রহমান জানান, দিনটিকে সামনে রেখে যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। এছাড়া ২০ মার্চ থেকে ২৬ শে মার্চ প্রথম প্রহর পর্যন্ত জাতীয় স্মৃতিসৌধে সাধারণ দর্শনার্থীদের প্রবেশের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

মহামান্য রাষ্ট্রপতি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এবং আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ স্মৃতিসৌধ ত্যাগ করার পর সর্বসাধারনের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হবে বলেও জানান তিনি।

এদিকে সৌধ এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে তিন স্তরবিশিষ্ট নিরাপত্তা বলয়। নিরাপত্তা পরিদর্শনে এসে ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমান ঢাকাটাইমসকে জানান, মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে জাতীয় স্মৃতিসৌধ এলাকার নিরাপত্তা প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। সৌধ এলাকায় নিরাপত্তা চৌকি ও পর্যবেক্ষণ টাওয়ার বসানো হয়েছে। এছাড়া সাদা পোশাকে পুলিশের নজরদারি বাড়নোসহ নিরাপত্তার স্বার্থে সৌধ প্রাঙ্গনের বিভিন্ন পয়েন্টে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হয়েছে বলেও জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।

উল্লেখ্য, ২৬ শে মার্চ সকালে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধী দলের নেত্রী জাতীর বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন জানানোর পর জনসাধারনের উন্মুক্ত করে দেওয়া দেওয়া হবে জাতীয় স্মৃতিসৌধ।