বেবি ফটোগ্রাফি নিয়ে ফারহানার ব্যতিক্রম ক্যারিয়ার

অনেক কষ্টে জমিয়ে রাখা অল্প কিছু টাকা, আর তা দিয়ে কিনে ফেলা শখের একটা ক্যামেরা। টুকরো টুকরো ছবি ফেসবুকে আপলোড, তারপর শুভাকাঙ্খীদের আকুন্ঠ প্রশংসায় ভেসে যাওয়া। অজস্র অনুপ্রেরনা থেকে নিজেকে চৌকস করে গড়ে তোলা। এরপর বয়স ২৫ না হতেই ঝুলিতে এক গুচ্ছ পুরস্কার জমিয়ে পেশাদারিত্বের ছাপ স্পষ্ট করে ফেলা।

একটা মেয়ে হিসেবে ফটোগ্রাফি ভিত্তিক ক্যারিয়ার গড়ে তোলাটা ফারহানা রহমানের জন্য মোটেও সহজ কিছু ছিল না। ইভেন্ট শেষে রাত করে বাড়ি ফেরাটা নিশ্চই কোন বাবা-মা-ই পছন্দ করবে না, ফারহানার বেলাতেও তার ব্যতিক্রম ছিল না। তবুও নিজের শখ, দক্ষতা আর সামনে এগিয়া যাওয়ার প্রচন্ড ইচ্ছের কাছে সমস্ত অবমূল্যায়ন আর বাধা হার মানে।

মাত্রই ২০১৬ থেকে শিশুদের নিয়ে ফটোগ্রাফি শুরু করে ২০১৭তে সেরা ‘শিশু ফটোগ্রাফার’ হিসেবে পুরস্কৃত হবার বেপারটা ফারহানাকে পেশাদার ফটোগ্রাফার হবার পথটা একদম মসৃন করে দেয়। যেখানে ফটোগ্রাফি প্রোফেশনটা শুরু হয়েছিল ২০১৫তে অন্য একটা কোম্পানিতে খুবই স্বল্প মজুরিতে, সেখানে ফারহানার এখন রীতিমত নিজস্ব ফটোগ্রাফি ভিত্তিক কোম্পানি রয়েছে। মোহ ধরানো সিনেম্যাটোগ্রাফি আর নান্দনিক ফটোগ্রাফি ভিত্তিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ‘ড্রিমমেটস বাংলাদেশ’ অন্যতম।

তবে ফারহানার স্বপ্ন আর ইচ্ছে কিন্তু শুধু ফটোগ্রাফিতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। ফ্যাশান ডিজাইনের স্টুডেন্ট হওয়াতে ডিজাইন দক্ষতাকেও সমান তালে প্রস্ফুটিত করেছেন ‘ফ্যাশান ফ্যাক্টরি বাই ফারহানা’ প্রতিষ্ঠা করে। নিজস্ব ডিজাইনে তৈরি আর দেশের বাইরে থেকে আমদানিকৃত পোষাকের সমাহার ঘটেছে ফেসবুক ভিত্তিক বিজনেস পেজটায়।

কাস্টোমার ডিমান্ড পূরন করতে খুবই স্বল্প সময়ের ব্যবধানে শিশুদের ফটোগ্রাফির জন্য একটা স্টুডিও আর ফ্যাশান শপের জন্য ইন-হাউজ স্টোর গড়ে তুলেছেন ফারহানা। সব ধরনের ডিজাইন এবং ফেব্রিকের লেডিস ড্রেস, আর ফটোগ্রাফির জন্য ঘুরে আসতে পারেন ফারহানার ফ্যাশান ফ্যাক্টরি এবং ফটোগ্রাফি স্টুডিওতে।