গাইবান্ধায় হরিজনদের সংখ্যানুপাতে প্রতিনিধিত্ব কোটা নিশ্চিত করার দাবিতে মানববন্ধন

ছাদেকুল ইসলাম রুবেল, গাইবান্ধা সংবাদদাতা : জাতীয় সংসদের সাধারণ ও সংরক্ষিত আসনে ৬৫ লাখ দলিত ও হরিজনদের সংখ্যানুপাতে প্রতিনিধিত্ব ও সরকারি চাকুরিতে কোটা নিশ্চিত করার দাবিতে মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার গাইবান্ধা শহরের ডিবি রোডে অবলম্বন, জনউদ্যোগ, বিডিইআরএম, হরিজন ঐক্য পরিষদ, বাংলাদেশ রবিদাস উন্নয়ন পরিষদ ও বাংলাদেশ রবিদাস ফোরামের উদ্যোগে এই কর্মসূচী পালিত হয়।

মানববন্ধন চলাকালে বক্তব্য রাখেন, জেএসডি সভাপতি লাসেন খান, অবলম্বনের নির্বাহী পরিচালক ও জনউদ্যোগে সদস্য সচিব প্রবীর চক্রবর্তী, হরিজন ঐক্য পরিষদের জেলা সাধারণ সম্পাদক সন্তোষ বাশফোর, বিডিইআরএম এর জেলা সভাপতি দীলিপ বাশফোর, সাধারণ সম্পাদক খিলন রবিদাস, বাংলাদেশ হরিজন যুব ঐক্য পরিষদ, রংপুর বিভাগের আহবায়ক রাজেশ বাশফোর, হরিজন ঐক্য পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক সোহাগ বাশফোর, দলিত নেতা বাংলাদেশ রবিদাস ফোরামের জেলা সভাপতি সুনিল রবিদাস, শেফালী রানী দেবনাথ, মোহন লাল রবিদাস, দিপু কুমার বাশফোর, সুনিল রবিদাস, সাধন কুমার রবিদাস প্রমুখ।

বক্তরা বলেন, তেলেগু, কানপুরী, হরিজন, রবিদাস, ঋষি, কাওরা, বেদে, পৌন্ড্র, চা-শ্রমিকসহ বিভিন্ন পেশায় প্রায় শতাধিক দলিত জনগোষ্ঠীর প্রায় ৬৫ লাখ মানুষ বাংলাদেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামাঞ্চলে বাস করছে। এদেশের নাগরিক হলেও আমরা দলিত ও হরিজন জনগোষ্ঠী জন্ম ও পেশাগত কারণে বৈষম্য ও বঞ্চনার শিকার। সামাজিকভাবে স্বীকৃত তথাকথিত নিচু পেশা গ্রহণে বাধ্য হয়। এর ফলে বিভিন্ন প্রকারে অস্পৃশ্যতার শিকার হচ্ছে যুগের পর যুগ।

বক্তারা আরও বলেন, ‘মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে অর্জিত আমাদের সংবিধানের ২৮ (১), (৩) ও ২৯ (২) ধারায় চেতনাগতভাবে সকল পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর প্রতি বৈষম্য করা যাবে না বলে আলোকপাত করা হলেও প্রয়োগিকভাবে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা না থাকার কারণে দলিত ও হরিজন জনগোষ্ঠী সমাজে মূলধারার মানুষ হিসেবে স্বীকৃতি পাই নাই। অনেক সময় তারা হোটেল-রেষ্টুরেন্টে প্রবেশ করতে পারে না। অস্পৃশ্যতা ও সামাজিক বৈষম্য বিষয়ক কোনো আইন না থাকায় অস্পৃশ্যতার প্রতিকার চেয়ে আদালতের কাছে তারা আবেদন করতেও পারে না। ফলে পেশা ও জন্মের ভিত্তিতে সামাজিক বৈষম্য-বঞ্চনা ও অস্পৃশ্যতা বিদ্যমান থাকছে; যা তাদেরকে আরো দারিদ্র্য করছে এবং রাষ্ট্রের উন্নয়ন ও বিকাশের পথে তারা ভূমিকা রাখতে পারছে না।’

তারা বলেন, বাংলাদেশের ৬৫ লাখ দলিত ও হরিজন জনগোষ্ঠী অস্পৃশ্যতা ও সামাজিক বৈষম্যের শিকার হলেও তাদের পক্ষে জাতীয় সংসদে কথা বলার মত কেউ নেই। আজকে যদি ৬৫ লাখ দলিত ও হরিজনদের সংখ্যানুপাতে প্রতিনিধিত্ব জাতীয় সংসদে থাকত তাহলে তারা এভাবে অস্পৃশ্যতা ও সামাজিক বৈষম্যের শিকার হতো না। তাই অবিলম্বে জাতীয় সংসদের সাধারণ আসনে ৬৫ লাখ দলিতের সংখ্যানুপাতে দলিত ও হরিজনদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে হবে। সংরক্ষিত নারী আসনে দলিত ও হরিজন নারীদের জন্য আসন সংরক্ষণ করতে হবে।

Inline
Inline