গাইবান্ধায় যমজ দুই বোনের জন্য নির্মিত 'সুখের নীড়' উদ্বোধন

গাইবান্ধায় যমজ দুই বোনের জন্য নির্মিত ‘সুখের নীড়’ উদ্বোধন

ছাদেকুল ইসলাম রুবেল, গাইবান্ধা প্রতিনিধি : অস্ত্র পচারের মাধ্যমে পৃথক করা উঁরুতে জোড়া লাগানো যমজ দুই বোন তোফা-তহুরার জন্য নির্মিত ‘সুখের নীড়’ এর আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল মতিন এ বাড়ির উদ্বোধন করেন।

এ উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলার দহবন্দ ইউনিয়নের পশ্চিম ঝিনিয়া গ্রামে তোফা-তহুরার বাবা রাজু মিঞার বাড়িতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. সোলেমান আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক বলেন, তোফা-তহুরার সুস্থ্যতার জন্য স্বাস্থ্যকর পরিবেশ দরকার। জন্মের পর তারা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসা চলাকালে দীর্ঘদিন উন্নতমানের পরিবেশে থাকায় গ্রামের বাড়িতে এসে তারা অসুস্থ্য হয়।

তাই তাদের জন্য সহনশীল পরিবেশের লক্ষ্যে বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগসহ একটি ঘর নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়। এরই অংশ হিসেবে উপজেলা প্রশাসন সে মহতী কাজটি বাস্তবায়ন করায় উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। তিনি ভবিষ্যতে তোফা-তহুরার জন্য শিক্ষা ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন বলে আশ্বাস দেন।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিকসহ সকলের নিকট থেকে তোফা-তহুরা সম্পর্কে ভবিষ্যতে খোঁজখবর জানতে পাবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন জেলা প্রশাসক আব্দুল মতিন।

আলোচনা সভায় আরো বক্তব্য রাখেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক টিআইএম মকবুল হোসেন প্রামাণিক, ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম কবির মুকুল, উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-আহ্বায়ক সাজেদুল ইসলাম প্রমূখ।

এসময় উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা নূরুন্নবী সরকার, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিক, তোফা-তহুরা, তাদের মা শাহিদা বেগম, দাদা আলহাজ্ব মহির উদ্দিন, নানা শহিদ মিঞাসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যাক্তিবর্গ।

জেলা প্রশাসকের নির্দেশনায় এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসারের অর্থায়নে আলোচিত যমজ দুই বোন তোফা-তহুরার সহনশীল পরিবেশে বসবাসের জন্য নির্মাণ করা হয় এ ‘সুখের নীড়’ নামক বাড়িটি।

উল্লেখ্য, বিগত ২০১৬ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর সকালে উঁরুতে জোড়া লাগানো অবস্থায় উপজেলার রামজীবন ইউনিয়নের কে-কৈ কাশদহ গ্রামে নানা শহিদ মিয়ার বাড়িতে জন্ম গ্রহণ করে তোফা-তহুরা। এরপর ১ আগস্ট ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে অস্ত্রপচারের মাধ্যমে তাদের আলাদা করা।

সেখানে দীর্ঘ ১০ মাস ১০ দিন পর চিকিৎসা শেষে ওই বছরের ১০ অক্টোবর রাতে তাদের নানার বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। সেখানে প্রশাসনের পক্ষ থেকে তোফা-তহুরার অবস্থান হিসেবে তাদের নানার বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।