খুলনা বটিয়াঘাটায় খেজুর গাছ তোলায় ব্যস্ত সময় পার করছে গাছিরা

তরিকুল ইসলাম বটিয়াঘাটা : বটিয়াঘাটা উপজেলার যশ,খেজুর গাছের রস। শুধু কথায় নয়,কাজেই খ্যাতি রয়েছে সারা দেশে। শীতের আমেজ শুরু হয়েছে। তাই প্রতি বছরের মতো বটিয়াঘাটার ৭ ইউনিয়নের কল্যানশ্রী, গাওঘরা, শৈলমারি,তেতুলতলা,খরাবাদ,রায়পুর, হালিয়া,বুনারাবাদ,ছয়ঘরিয়া,বাইনতলা,করেরডোন, রনজিতের হুলা, কোদলা,শাচিবুনিয়াসহ বিভিন্ন এলাকার গাছিরা খেজুর রস আহরনের জন্য রিতি মতো তোড়জোড় শুরু করেছে। গাছিরা খেজুর গাছ থেকে রস বের করার জন্য শুরু করেছে প্রাথমিক পরিচর্যা ও গাছ তোলার কাজ। সপ্তাহ খানেক পর খেজুর গাছে নলি বসানো এবং উড়ো দড়ি ঝুলানো হবে। খেজুর গাছ থেকে রস বের করতে ৩ স্হর সময় পার করার পরেই রস আহরন শুরু হবে। তাই গ্রাম বাংলায় ব্যস্ত সময় পার করছে গাছিরা। পুরোদমে চলছে খেজুর গাছ তোলা বা ছাচার কাজ। তাই গাছিরা এখন ব্যস্ত সময় পার করে চলেছে। তবে ঘন ঘন ঘর তৈরি, পরিকল্পনা ছাড়া খেজুর গাছ কেটে ফেলা এবং খেজুর গাছ দিয়ে বাড়িতে বাড়িতে ইট পোড়ানোর জন্য খেজুর গাছ দিন দিন অনেক কমে গেছে। যে কারণে ঘুর্নি ঝড় আঘাত এনর এই এলাকা লন্ডভন্ড করে দেয়। উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ রবিউল ইসলামের নির্দেশে উপসহকারী কৃষি অফিসার সরদার আঃ মান্নান, পিন্টু মল্লিক,দীপংকর মন্ডল, আঃ হাই খান, দীপন কুমার হালদার, আঃ গফফার গাজী, মোস্তাফিজুর রহমান, প্রতাপ বালা,ইলোরা আক্তার, নিবেদিতা বাছাড়, শিউলি বিশ্বাসসহ ২১ জন উপসহকারীর মাধ্যমে কৃষকদের নিয়ে বর্ষা মৌসুমে উপজেলায় কয়েক হাজার খেজুর বীজ লাগালো হয়েছে। কয়েক বছরের মধ্যে তার সুফল পাওয়া যাবে এবং একাজ চলমান রয়েছে। অন্য দিকে খেজুর গাছ তোলার কাজ শেষ হলে কিছু দিন পরেই গৌরব আর ঐতিহ্যর প্রতিক মধুবৃক্ষ থেকে সুমধুর রস বের করে গ্রামের ঘরে ঘরে শুরু হবে রসের পায়েস এবং পাটারি গুড় তৈরির উৎসব। খেজুর রস জালিয়ে পিঠা,পায়েস, মুড়ি ও নানান রকম সুখরোচক খাবার তৈরি করার ধুম পড়বে গ্রামে আর রসে ভেজা চিতা পিঠার স্বাদই হচ্ছে আলাদা। এসময় গ্রামেগন্জে মেয়ে জামাই সহ নতুন নতুন আত্মীয় স্বজন দাওয়াত করার ধুম পড়ে। গ্রামে রসের গুড়ের ঘ্রানে জেনো অর্ধ ভোজন। খেজুর গাছ অন্য গাছের মতো বপন করা বা সার প্রয়োগ করতে হয়না। প্রাকৃতিক নিয়মেই মাঠে পড়ে থাকা আটির মাধ্যমে চারার জন্ম হয়। সৃষ্টি হয় খেজুর বাগান। তবে গ্রাম্য ইট ভাটার খেজুর গাছ ব্যবহারের কারণে খেজুর গাছ অনেক কমে গেছে। আবহমান কাল থেকে তাই বাংলায় নবান্নের উৎস পালনের খেজুর গুড়ের কদর বেশি। উপজেলার বিভিন্ন এলাকার ঘুরে দেখা গেলে, গাছিরা গাছ পরিস্কার বা তোলা ছাচা করার জন্য গাছি দড়ি তৈরিসহ ভাড় বা মাটির ঠিলে ক্রয় ও রস জ্বালানোর জায়গা ঠিক করাসহ বিভিন্ন কাজে রয়েছে বেতিব্যস্ত। তবে সংশ্লিষ্টরা জানান, গাছ কাটা,রস জ্বালানো ও গুড় পাটারি তৈরির উপকরণের মুল্য অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পাওয়ায় এবার অন্য বছর গুলোর তুলনায় পাটারি গুড়ের দাম বেশি হবে। এদিকে বটিয়াঘাটা উপজেলায় খেজুর গাছের সংখ্যা কমে গেছে,তাই ঐতিহ্য ধরে রাখতে সরকারের বনবিভাগের উদ্যোগে গত কয়েক বছর আগে খেজুর আটি রোপনের কাজ শুরু করে। বজ্রপাত রোধ ও পরিবেশ উন্নয়নে বটিয়াঘাটা উপজেলার কৃষি দপ্তরের উদ্যোগে এ অঞ্চলে রোপণ করা হয়েছে খেজুর গাছের হাজার হাজার দেশি যাতের বীজ। তবে ইট ভাটায় খেজুর গাছ জালানি হিসেবে ব্যবহার সরকারি ভাবে নিষেধ না করলে এক সময় খেজুর গাছ পরবর্তী প্রজন্মের কাছে শুধু আরব্য উপন্যাসের গল্পে পরিনত হবে। এব্যাপারে বটিয়াঘাটা উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ রবিউল ইসলাম জানান, খেজুর আটি রোপন ব্যপক কর্মসুচি গ্রহন করেছি। রাস্তার দুপাশে খেজুর বীজ লাগলো হয়েছে এবং এই ধারা অব্যাহত থাকবে।