খুলনায় মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের কর্মসূচি

মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস-২০২০ যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপন উপলক্ষে জাতীয় কর্মসূচির আলোকে খুলনায় বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।
২১ ফেব্রুয়ারি প্রথম প্রহরে (০০.০১টায়) শহীদ হাদিস পার্কে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে জেলা প্রশাসন, পুলিশ বিভাগ, অন্যান্য দপ্তর ও সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের উদ্যোগে পুষ্পমাল্য অর্পণ এবং ভাষা শহিদদের আত্মার মাগফিরাত কামনার মাধ্যমে শহিদ দিবসের কর্মসূচির শুভ সূচনা হবে। সূর্যোদয়ের সাথে সাথে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠান, সকল বেসরকারি ভবনে সঠিক নিয়মে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা এবং সূর্যাস্তের সাথে সাথে পতাকা নামানো হবে। বিভিন্ন সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠান, বেসরকারি সংগঠন, সাংস্কৃতিক জোট ও ব্যক্তি পর্যায়ে প্রভাত ফেরির আয়োজন করা হবে।

ঐদিন সকাল নয়টায় নগরভবনে সিটি কর্পোরেশনের আয়োজনে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনের উদ্যোগে বাদ জুম্মা বা সুবিধামত সময়ে দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরে আলোচনা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। বাদ জুম্মা খুলনা কালেক্টরেট জামে মসজিদসহ সকল মসজিদে শহিদদের রুহের মাগফিরাত ও দেশের শান্তি ও কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া এবং সুবিধামত সময়ে মন্দির, গীর্জা ও অন্যান্য উপসনালয়ে অনুরূপ বিশেষ প্রার্থনা করা হবে।

বিকেল চারটায় ভাষা আন্দোলনে অমর শহিদদের স্মৃতির উদ্দেশে বয়রাস্থ বিভাগীয় গণ-গ্রন্থাগার প্রাঙ্গণে অমর একুশের বইমেলা মঞ্চে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন থাকবে।

শহিদ হাদিস পার্ক এবং খুলনা জাতিসংঘ শিশু পার্কে ঐদিন সন্ধ্যায় খুলনা জেলা তথ্য অফিসের উদ্যোগে ভ্রাম্যমাণ চলচ্চিত্র প্রদর্শন ও একুশের পোস্টার প্রদর্শনীর আয়োজন করা হবে। দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরে স্থানীয় পত্রিকাগুলো বিশেষ নিবন্ধ ও ক্রোড়পত্র প্রকাশ করবে। শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানসমূহে বাংলা বর্ণমালা সম্বলিত ফেস্টুন দিয়ে সাজানো হবে।
জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সুবিধামত সময়ে (২০ ফেব্রুয়ারির পূর্বে) খুলনা জিলা স্কুলে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্কুলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ‘ শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে ভাষা আন্দোলনে খুলনার অবদান’ এর তাৎপর্য তুলে ধরে যথাক্রমে ৩টি বিভাগে অনুর্ধ্ব ৩০০ শব্দ এবং ৫০০ শব্দের রচনা প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হবে। ২১ ফেব্রুয়ারি আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের পুরস্কার প্রদান করা হবে।
সুবিধামত সময়ে স্কুল-কলেজে বই পাঠ, স্বরচিত ছড়া ও কবিতা প্রতিযোগিতা, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে একুশে ফেব্রুয়ারি সংক্রান্ত প্রবন্ধ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হবে। সুবিধামত সময়ে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের আয়োজনে নিজস্ব কার্যালয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্রদের মধ্যে বিতর্ক প্রতিযোগিতা এবং ভাষা শহীদদের আত্মার মাগফিরাত ও দেশ-জাতির মঙ্গল কামনা করে বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে। ঐদিন সন্ধ্যায় জেলা শিল্পকলা একাডেমির উদ্যোগে সরকারি গণগ্রস্থাগার প্রাঙ্গণে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন থাকবে। ১৯ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০টায় শিশু একাডেমি শিশুদের চিত্রাংকন প্রতিযোগিতার আয়োজন করবে। ২০ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০টায় জেলা শিল্পকলা একাডেমির উদ্যোগে চিত্রাংকন প্রতিযোগিতার আয়োজন এবং ২১ ফেব্রুয়ারি বই মেলার অনুষ্ঠানে প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ করা হবে।