খালেদার চিকিৎসায় ব্যবস্থা নেবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আশা ফখরুলের

নিজস্ব প্রতিবেদক : বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেবেন বলে আশা প্রকাশ করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। মঙ্গলবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান তিনি।

দু’টি দুর্নীতি মামলায় কারাবন্দি খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসার দাবি নিয়ে বিএনপি মহাসচিবের নেতৃত্বে স্থায়ী কমিটির ৬ সদস্য মন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘আমরা বেগম খালেদা জিয়ার অসুস্থতার বিষয়ে এবং তার সুচিকিৎসার জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে এসেছিলাম। তিনি আমাদের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনেছেন। বলেছেন তার সুচিকিৎসার জন্য যা করার তিনি তা করবেন। আমরা মনে করি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তার কথা রাখবেন এবং তিনি বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসার জন্য সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেবেন।’

এরপর সাংবাদিকরা বিভিন্ন প্রশ্ন করলেও কোনো জবাব দেননি বিএনপির মহাসচিব। বিএনপি মহাসচিবের নেতৃত্বে বেলা ২টা ২৫ মিনিটে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দফতরে প্রবেশ করেন ৬ সদস্যের প্রতিনিধি দল। ৩টা ৫ মিনিটে শেষ হয় বৈঠক।

প্রতিনিধি দলে ছিলেন- বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান ও আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

গত বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি বেগম জিয়া কারাবন্দি হওয়ার পর থেকে বিভিন্ন সময়ে বিএনপির পক্ষ থেকে অভিযোগ তোলা হয়, কারাগারে তাদের চেয়ারপারসনের যথাযথ চিকিৎসা হচ্ছে না। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, জেল কোড অনুযায়ী খালেদা জিয়ার সর্বোচ্চ চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। বিএনপি তার অসুস্থতা নিয়ে রাজনীতি করছে।

গত ২৬ ফেব্রুয়ারি সংবাদ সম্মেলনে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অভিযোগ করেন, দ্বিতীয় দফা চিকিৎসা শেষে কারাগারে ফিরিয়ে নেয়ার পর তিন মাসের বেশি সময় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া কোনো চিকিৎসা পাচ্ছেন না।

নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং চিকিৎসা না দেয়ায় খালেদার রোগগুলো মারাত্মক আকার ধারণ করেছে বলেও দাবি করেন বিএনপি মহাসচিব। খালেদা জিয়ার কোনো ক্ষতি হলে এর দায় সরকারকেই নিতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসা নিশ্চিতের দাবিতে এর আগে গত বছরের ২২ এপ্রিল ও ৯ সেপ্টেম্বর বিএনপির সিনিয়র নেতারা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন। দু’বারই তারা বেগম জিয়াকে ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসার দাবি জানান।

সরকারের পক্ষ থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতাল ও সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসা নেয়ার প্রস্তাব দেয়া হলে খালেদা জিয়া তা প্রত্যাখ্যান করেন।