কয়েক যুগ ধরে ঈদগাঁওবাসীর প্রাণের দাবী উপজেলা বাস্তবায়ন আজও উপেক্ষিত

coxesbazar sadar upazilaএ বি রাজু : বাংলাদেশের চিরাচরিত নিয়ম অনুযায়ী সরকার আসে সরকার যায়। কিন্তু দীর্ঘ প্রায় চার যুগ পরও কক্সবাজার জেলার সদর উপজেলার ঈদগাঁওবাসীর উপজেলার বাস্তবায়ন ঘোষণার স্বপ্ন যেন স্বপ্নই রয়ে গেল। অন্যদিকে, স্বাধীনতার ৪৪ বছর অতিবাহিত হল। দিনের পর মাস, মাসের পর বছর এভাবে গড়াচ্ছে সময়। আদি পুরুষদের প্রবাদ বচন ধীরে ধীরে সত্য রুপে প্রমাণিত হচ্ছে। অ-পথ-পথ, অ-ঘাট-ঘাট, অ-মানুষ-মানুষ হচ্ছে। শেওলা ভাসা জলাশয়ে স্বগৌরবে দাঁড়িয়ে আছে নয়নাবিরাম দালান ঘর। দূর্গম পাহাড়ী ঢল বেয়ে যৌবনের ঢেউ নিয়ে দূর থেকে দূরে চলে গেছে কাল পিচ ঢালা রাস্তা। ফলে উন্নত হয়েছে যোগাযোগ ও যাতায়াত ব্যবস্থা। আবার পাহাড়ী ঢলে ভেস্তে যাওয়া অনেক অযোগ্য ইউনিয়ন যোগ্যতার সন্ধান পেয়ে উপজেলা কিংবা পৌরসভায় উন্নতি হয়েছে। সেসব এলাকার নতুন নতুন স্থাপত্যে ঠিকরে পড়েছে চোখ ধাঁধানো সৌন্দর্য্যরে। অথচ এতকিছুর মাঝেও চির অবজ্ঞায় পতিত আছে, সদর উপজেলার ঈদগাঁও নামক অবহেলিত জনপদটি। বলতে গেলে পর্যটন নগরী কক্সবাজার জেলার দ্বিতীয় বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে সর্বমহলে পরিচিত উপজেলার বৃহত্তর ঈদগাঁও বাজার। এই বাজারটি একটি বহুমুখী বাণিজ্য কেন্দ্র। এই ঈদগাঁও বাজারে পশ্চিমের মহেশখালীর লোকজন চৌফলদন্ডী হয়ে প্রতিদিন না হলেও অন্তত প্রতি শনি-মঙ্গলবার তথা (বাজার বার বা হাট বার) নানান প্রকার পন্য সামগ্রী ক্রয়/বিক্রয়ের লক্ষ্যে ছুটে আসে। জেলার গজালিয়া, বাইশারী, ঈদগড়, ঈদগাঁও, এবং নাইক্ষ্যংছড়ির লোকজনও বিভিন্ন পণ্য ক্রয়/বিক্রয়ের জন্য এই বাজারে অন্তত ২ বার আসে। উত্তরে ডুলহাজারা, খুটাখালী, ইসলামপুর ও দক্ষিণে রামু, রশিদনগর, জোয়ারিয়ানালার লোকজনকেও নিয়মিত বাজারে যাতায়াত করতে দেখা যায়। আর বৃহত্তর এলাকার আশপাশের লোকজন তো প্রতিদিন লেগেই আছে। সব মিলিয়ে হিসাব করলে দেখা যায় যে, সপ্তাহে দুইদিন ঈদগাঁও বাজারে কম পক্ষে তিন লাখেরও বেশি লোক নিয়মিত ভাবে ব্যবসার লক্ষ্যে যাতায়াত করে থাকে। যার কারণে গোটা দক্ষিণ চট্টগ্রামের এই ঈদগাঁও বাজারটি পরিণত হয়েছে একটি জনবহুল ও ব্যস্ততম বাজার হিসেবে। অথচ এই বাজার থেকে লক্ষ-লক্ষ টাকা মুনাফা অর্জন করেছে সরকার। কিন্তু বাজারের চিত্র ধারণ করলে বুঝা যায় যে, এটা বর্তমান উন্নত ব্যবস্থার চিন্তা-ভাবনা থেকে কতটুকু পিছিয়ে আছে। অতি সহজেই অনুমান করা যায়। এমন নয় যে, এই ঈদগাঁও বাজারটি বাংলাদেশের একটি বিচ্ছিন্ন অঞ্চল। অথচ ঈদগাঁওতে স্বাধীনতার পরবর্তী সময় থেকে স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ছাড়াও জাতীয় নেতৃবৃন্দের পায়ের চিহ্ন লেগেছে। একটি স্বতন্ত্র উপজেলা হওয়ার সকল যোগ্যতা বিদ্ধমান থাকলেও নেতার আশার বাণী ও দর্শকদের হাততালিতে সীমাবদ্ধ থেকেছে ঈদগাঁও উপজেলা বাস্তবায়ন। অথচ এই বৃহত্তর ঈদগাঁও থেকে জনপ্রতিনিধি হিসাবে জেলাবাসীর কাছে সু-পরিচিত লাভ করেছে- সাবেক সাংসদ, জেলা পরিষদ প্রশাসক, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান সহ কতইনা সরকারী-বেসরকারী উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাগণ। তার পরেও ঈদগাঁওবাসী কি উপজেলা খুজে পাবে? ঈর্ষা লাগারই কথা, এমন কতগুলো ইউনিয়নকে উপজেলা বা পৌরসভায় রূপান্তিত করা হয়েছে। যা কোন দিক দিয়েই ঈদগাঁওয়ের চেয়ে বেশি নয়। স্বাধীন হয়েছে কিন্তু সেই কাঙ্খিত উপজেলা স্বাধীনের এখনো সেই স্বাদ খুঁজে পাইনি ঈদগাঁওবাসী। সত্যিকার অর্থে ঈদগাঁওবাসীর সেই লালিত স্বপ্ন কবে পূরণ হবে এমন প্রশ্নে ঘুরপাক খাচ্ছে সাড়ে চার লক্ষাধিক জনগোষ্ঠীর মাঝে। বার বার ঈদগাঁওবাসীর ভাগ্য ঝুলে আছে।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিকট বৃহত্তর ঈদগাঁওর আমজনতা বর্তমান সরকারের শাসনামলে কক্সবাজার সদরের উল্লেখযোগ্য বিশাল এলাকা ঈদগাঁওকে অবিলম্বে উপজেলায় উন্নীত করার দাবী জানান।