কুবিতে সশরীরে ক্লাস শুরু, উচ্ছ্বসিত শিক্ষক-শিক্ষার্থী

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক : করোনা পরিস্থিতিতে প্রায় দেড় বছরের বেশি সময় বন্ধ থাকার পর মঙ্গলবার (২ নভেম্বর) সশরীরে শুরু হয়েছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শ্রেণি কার্যক্রম। এতে ক্যাম্পাসে ফিরেছে প্রাণ। ক্লাসে ফিরতে পেরে উচ্ছ্বসিত শিক্ষক-শিক্ষার্থীরাও।

চিরচেনা ক্যাম্পাসকে আবার কাছে পেয়ে স্বস্তি প্রকাশ করে বাংলা ১২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মাহফুজুর রহমান বলেন, অনলাইন সেমিস্টারে হয়তো আমরা নির্দিষ্ট সিলেবাসই শেষ করেছিলাম। কিন্তু একটা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে সিলেবাসভিত্তিক পড়াশোনার পাশাপাশি নানা ধরনের ব্যতিক্রমধর্মী কাজ করার সুযোগ থাকে। সেসব কাজের সুযোগ আবার পেতে চলছি। বিশ্ববিদ্যালয় খোলায় আমি খুব বেশি স্বস্তি বোধ করছি।

গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী ফারিয়া আক্তার ভূঁইয়া বলেন, গত বছরে মাত্র তিন মাস বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিচরণের সৌভাগ্য হয়েছিল। এরপরই করোনার সংক্রমণ শুরু হয়। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের উপযোগিতাগুলোকে পূর্ণরূপে ব্যবহার করার সুযোগ পাবো এখন থেকে।

ক্যাম্পাস খোলার খবরে সোমবার থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলার মাঠ, বাবুই চত্বর, সানসেট ভ্যালি, মুক্তমঞ্চ, গোলচত্বরসহ বিভিন্ন স্থান ঘুরে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। সবাই একে অপরের সঙ্গে কুশলাদি বিনিময়ে ব্যস্ত। কেউ বন্ধুর সঙ্গে বসে চা খাচ্ছেন আবার কেউ গানের আসর বসিয়েছেন টঙ দোকানে।

দীর্ঘদিন পর শ্রেণি কার্যক্রম শুরু করতে পেরে অধ্যাপক ড. জি. এম. মনিরুজ্জামান বলেন, দীর্ঘদিন পর ক্লাস শুরু হওয়ায় আমরাও আনন্দিত। চেনা মুখগুলো আবার সরাসরি দেখতে পাচ্ছি। এর চেয়ে ভালো বিষয় আর হয় না। বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীরা যে সেশনজটে পড়েছে, তা কাটিয়ে আবার তাদের নিয়ে এগিয়ে যাবো এ আশা রাখি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক এন. এম. রবিউল আউয়াল চৌধুরী বলেন, শিক্ষকের পরিচয় শিক্ষার্থীরা। তারা আবার আগের মতো ক্লাস করবে, আড্ডা দিবে। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় তাদের মানসিক ও স্বাস্থ্যের বিষয়টি খেয়াল রেখেই আমরা শ্রেণি কার্যক্রম এগিয়ে নিয়ে যাবো।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমরান কবির চৌধুরী বলেন, শিক্ষার্থীদের সুবিধার জন্য পরিবহন সেবা বৃদ্ধি করা হয়েছে। এছাড়া আমরা শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যের দিকে নজর দিচ্ছি, যাতে তারা আগের স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারে।