কাঁদলেন ‘গুম হওয়া’ সন্তানের মা, কাঁদলেন ফখরুলও

কাঁদলেন ‘গুম হওয়া’ সন্তানের মা, কাঁদলেন ফখরুলও

বিএনপির বিগত আন্দোলন-সংগ্রামে গুম ও খুনের শিকার নেতাকর্মীদের পরিবারের স্বজনদের সান্ত্বনা দিতে গিয়ে কাঁদলেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এ সময় এক বৃদ্ধা মা-ও তাকে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েন।

বুধবার (২৯ জুন) রাজধানীর গুলশানের লংবিচ হোটেলে এক ইফতার মাহফিলে এমন আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। বিগত আন্দোলনে ‘গুম-খুনের’ শিকার নেতাকর্মীদের পরিবারের স্বজনদের সম্মানে এ ইফতার মাহফিলের আয়োজন করেন বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া।

এতে গুম ও খুনের শিকার ঢাকা ও এর আশপাশের ৪০টি পরিবারের স্বজনরা উপস্থিত ছিলেন।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিকেল ৫টার দিকে ইফতার মাহফিলে এসে উপস্থিত হন। এর আগেই ক্ষতিগ্রস্ত নেতাকর্মীদের পরিবারের স্বজনরা সেখানে আসেন। বিএনপির মহাসচিব অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশ করেই টেবিলে টেবিলে গিয়ে স্বজনদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করতে থাকেন। তাদের সান্ত্বনাও দেন তিনি।

মির্জা ফখরুল যখন গুম হওয়া তেজগাঁও থানা বিএনপির সভাপতি সাজেদুল ইসলাম সুমনের বৃদ্ধা মা হাজেরা খাতুনের কাছে যান, তখন সেখানে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। বিএনপির মহাসচিবকে কাছে পেয়ে তাকে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েন ৭০ বছর বয়সী ওই মা। এ সময় মির্জা ফখরুলও চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি। অশ্রুসিক্ত হয়ে পড়েন তিনি।

এ সময় বৃদ্ধা এই মাকে সান্ত্বনা দেয়ার ভাষা যেন হারিয়ে ফেলেন বিএনপির এই মহাসচিব। এই দৃশ্যে সেখানে উপস্থিত সকলের চোখ বেয়ে ঝরতে থাকে অশ্রু।

সুমন ২০১৩ সালের ৪ ডিসেম্বর রাজধানীর পান্থপথের বসুন্ধরা সিটির সামনে থেকে গুম হন। তবে এখন পর্যন্ত ছেলের ফেরার প্রতীক্ষায় আছেন তিনি।

হাজেরা খাতুন বলেন, ‘ছেলেকে ফিরে পেতে দিন-রাত আল্লাহকে ডাকছি, তার কাছে ফরিয়াদ জানাচ্ছি। সে যেখানেই থাকুক ভাল থাকুক, সুস্থ থাকুক।’

মৃত্যুর আগ পর্যন্ত ছেলের ফিরে আসার প্রতীক্ষায় থাকবেন বলে জানান ৭০ বছর বয়সী ওই মা।

মির্জা ফখরুল এরপর যান ২০১৩ সালের ৬ ডিসেম্বর রাজধানীর দক্ষিণখানের প্রেমবাগান থেকে গুম হওয়া তেজগাঁও কলেজ শাখা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি তারিকুল ইসলাম ঝন্টুর মা হাসিনা বেগমের কাছে। সেখানেও সৃষ্টি হয় আবেগঘন পরিবেশের। বিএনপির মহাসচিবের কাছে ছেলের কথা বলতে গিয়ে অঝোরে কাঁদতে থাকেন পঞ্চাশোর্ধ্ব এই মা। এ সময় মির্জা ফখরুলকেও চোখ মুছতে দেখা যায়।

সেখান থেকে মির্জা ফখরুল যান গুম হওয়া জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম রাসেলের মায়ের কাছে। এই বৃদ্ধা মা-ও তখন কান্নায় ভেঙে পড়েন। ২০১৩ সালের ৪ ডিসেম্বর আমেরিকান অ্যাম্বেসির সামনে থেকে জবি ছাত্রদলের আরো দু’জন যুগ্ম সম্পাদকসহ গুম হন রাসেল।

বিএনপির মহাসচিব এভাবে একে একে গুম ও খুনের শিকার ৪০টি পরিবারের স্বজনদেরই কাছে যান এবং তাদের খোঁজ-খবর নেন ও সান্ত্বনা দেন।

এরপর সন্ধ্যা ৬টা ২৫ মিনিটে ইফতার মাহফিলে এসে উপস্থিত হন বেগম খালেদা জিয়া। এসেই প্রতিটি টেবিল ঘুরে ঘুরে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের স্বজনদের খোঁজ-খবর নেন এবং তাদের সান্ত্বনা দেন।

এ সময় খালেদা জিয়া বলেন, ‘ইনশাল্লাহ, সময় আসলে দেখা যাবে।’ পরে তিনি তার বক্তব্যে বিএনপি নেতাকর্মীদের গুম-খুনের জন্য র‌্যাব-পুলিশকে দায়ী করে বলেন, ‘দেশ গণতান্ত্রিক অবস্থায় ফিরে আসলে গুম-খুনের সঙ্গে জড়িতদের কঠোর বিচার করা হবে। র‌্যাব-পুলিশের যারা যারা গুম-খুনের এই অন্যায় কাজ করেছে তাদের কোনদিন ক্ষমা করা হবে না। তাদের বিচার একদিন না একদিন হবেই।’

ইফতার মাহফিল শেষে বিএনপির বিগত আন্দোলনে গুম ও খুনের শিকার নেতাকর্মীদের স্বজনদের হাতে ঈদ উপহার সামগ্রী ও আর্থিক সহায়তা তুলে দেন খালেদা জিয়া।