ওমিক্রন বাড়লেও সীমান্ত খুলবে সিঙ্গাপুর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ওমিক্রন করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বাড়লেও সীমান্ত খোলার বিষয়ে আত্মপ্রত্যয়ী সিঙ্গাপুর। এ জন্য টিকাদানের হার বাড়ানোর পাশাপাশি আরও বেশি দেশ ও অঞ্চলের সঙ্গে কোয়ারেন্টাইন-ফ্রি ভ্রমণ চুক্তির চেষ্টা করছে তারা। গত সোমবার (১০ জানুয়ারি) সিঙ্গাপুরের পার্লামেন্টে এ তথ্য জানিয়েছেন দেশটির পরিবহন মন্ত্রী এস ঈশ্বরন। খবর ব্লুমবার্গের।

তিনি জানিয়েছেন, ২০২০ সালে সিঙ্গাপুরের চাংগি বিমানবন্দরে যাত্রী চলাচল মহামারি-পূর্ব সময়ের তুলনায় মাত্র তিন শতাংশে নেমে গিয়েছিল। ২০২১ সালের শেষের দিকে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়ে যাত্রী চলাচল ১৫ শতাংশে পৌঁছায়। চলতি বছর এর হার আরও বাড়বে। তবে দশর্নীয় বিমানবন্দরটিতে যাত্রী চলাচল মহামারির আগের অবস্থায় ফিরতে আরও কয়েক বছর লেগে যেতে পারে বলে মনে করছেন ঈশ্বরন।

সিঙ্গাপুরের পরিবহন মন্ত্রী বলেছেন, জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতি মূল্যায়নের ভিত্তিতে আরও কিছু দেশ ও অঞ্চলের সঙ্গে কোয়ারেন্টাইন-ফ্রি ভ্রমণ চালু করা আমাদের লক্ষ্য। আমরা আকাশভ্রমণের দীর্ঘমেয়াদী সম্ভাবনার বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী এবং আন্তর্জাতিক ‘এয়ার হাব’ হিসেবে সিঙ্গাপুরের মর্যাদা পুনরুদ্ধারে চাংগি বিমানবন্দর গ্রুপ ও এয়ারলাইনগুলোর সঙ্গে কাজ করতে দৃঢ় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

২০২০ সাল পর্যন্ত টানা আট বছর বিশ্বের সেরা বিমানবন্দর নির্বাচিত হয়েছিল চাংগি। প্রায় দুই ডজন দেশের সঙ্গে ‘ভ্যাকসিনেটেড ট্রাভেল লেন’ চালুর পর ২০২১ সালের শেষের দিকে সিঙ্গাপুরের এয়ার ট্র্যাফিক কিছুটা বাড়ে। পূর্ণডোজ টিকাগ্রহীতা ভ্রমণকারীদের কোয়ারেন্টাইন ছাড়াই প্রবেশের অনুমতি দিচ্ছে নগররাষ্ট্রটি।

র‍্যাংকিং অপরিবর্তিত
২০২১ সালে জানুয়ারি থেকে নভেম্বর পর্যন্ত আন্তর্জাতিক উড়োজাহাজ চলাচলে এশিয়ার মধ্যে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে সিঙ্গাপুর। ব্লুমবার্গের তথ্যমতে, এ তালিকায় প্রথম দক্ষিণ কোরিয়ার ইনচেন, দ্বিতীয় সিঙ্গাপুর এবং তৃতীয় হংকং।

স্থানীয়ভাবে ওমিক্রন ছড়িয়ে পড়ার পর গত ২৩ ডিসেম্বর থেকে ‘ট্রাভেল লেন’-এর টিকিট বিক্রি বন্ধ রেখেছে সিঙ্গাপুর। চলতি মাসের শেষের দিকে তা আবার শুরুর পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। এ জন্য সতর্কতা হিসেবে অতিরিক্ত বিধিনিষেধ জারি করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।

ঈশ্বরন বলেছেন, সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া এলাকা থেকে আগত সম্মুখসারির বিমানবন্দর কর্মী এবং সিঙ্গাপুর এয়ারলাইনস ক্রুদের বাড়তি পরীক্ষা করাতে হবে। এরই মধ্যে চাংগি বিমানবন্দরের ভেন্টিলেশন ব্যবস্থা উন্নত করা হয়েছে। সেখানে আরও বেশি বাতাস শোধনযন্ত্র বসানো হয়েছে।

এর আগে, পার্লামেন্টে রাখা বক্তব্যে সিঙ্গাপুরের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওং ইয়ে কুং বলেছেন, সীমান্ত বন্ধ রাখা যাবে না। রাখলে এটি ‘আরও বড় কষ্টের কারণ’ হবে। এ জন্য মানুষজনকে টিকা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।