এ কেমন পৈশাচিকতা!

এ কেমন পৈশাচিকতা!

সংসারের অভাব ঘোঁচাতে গত নয় মাস আগে সাভারে কর্মকর্তা রুবেল খানের বাড়িতে গৃহকর্মীর কাজ নেয় গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জের রোজিনা আক্তার। বয়স মাত্র তেরো হলেও মেয়েটি মা-বাবার কষ্ট লাঘবের জন্যেই শহরে একা এসে কাজ করতে রাজি হয়। ভেবেছিল কাজ করে হতদরিদ্র মা-বাবার মাথার ওপর থেকে চাপ কমাবে। সচ্ছল হবে পারিবারিক অবস্থা। যে কারণেই বাবা রফিকুল ইসলামের এলাকার পরিচিত কদর আলীর মেয়ে শাহনাজ বেগমের সাভারের তালবাগ এলাকার বাসায় এসে কাজ করতে রাজি হয় সে।

কিন্তু বিধি বাম! সেই আশা পূরণে করতে এসে মানুষরূপী কাল্ সাপের দংশনে যে তার শরীর কালচে হয়ে যাবে, তা ভাবেনি রোজিনা। হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে মেয়েটি যন্ত্রণায় ছটপট করছে। ভেঙে ফেলা হয়েছে শিশুটির কোমল দুটি হাত। আর গরম পানিতে চুবিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে হাতের দুটি কব্জি। আর মাথায় অসংখ্য আঘাতের ক্ষত চিহ্ন দগদগে হয়ে আছে। বর্তমানে সদর হাসপাতালের বিছানায় অসহনীয় শারিরীক যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে মেয়েটি। পাশাপাশি মানুষিক বিপর্যস্তায় ভুগছে মেয়েটি।

ভুক্তভোগী রোজিনার বাবা রফিকুল ইসলাম জানান, নয় মাস আগে তার মেয়েকে সাভারের তালবাগ এলাকায় সাভার পৌরসভার অফিস সহকারী রুবেল খানের বাড়িতে মেয়েকে গৃহকর্মীর কাজে পাঠান তিনি। এতদিন পেরুলেও রোজিনার সাথে তাদের কোন প্রকার যোগাযোগ করতে দেয়নি গৃহকর্তা রুবেল খান ও তার স্ত্রী শাহনাজ পারভীন। এরপর থেকে বিভিন্ন সময় তারা রুজিনাকে মারধর করত। গত শনিবার মেয়েকে লোহার খুনতি দিয়ে গলায় আগুনের ছ্যাঁক, মাথার চুল কেটে ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারধর করে জখম করে। এ সময় রুজিনা চিৎকার করলে তাকে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়। পরে তাদের কোন কিছু না জানিয়ে রোজিনাকে সুন্দরগঞ্জের বাড়িতে পৌঁছে দিয়ে আসেন রুবেল খান। আর ওই দিন রাতেই তার মেয়েকে ভর্তি করা হয় গাইবান্ধা সদর হাসপাতালে। এমতাবস্থায় মেয়ের চিকিৎসার ব্যয় নিয়ে চরম হতাশা আর উৎকন্ঠায় দিন যাপন পার করেছন দরিদ্র রফিকুল ইসলাম।

রোজিনার শারিরীক অবস্থার ব্যাপারে সদর হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. আশরাফুল ইসলাম জানান, শিশুটির মানুষিক অবস্থা মোটেই ভালো নয়। আর দীর্ঘ মেয়াদী শারিরীক ও মানুষিক নির্যাতনের কারণই মূলত তার এই দশার জন্য দায়ী। তাই শারিরীক চিকিৎসার পাশাপাশি তার মানুষিক চিকিৎসারও প্রয়োজন বলে জানান তিনি।

এ ঘটনায় মেয়ের পিতা রফিকুল ইসলাম গত রবিবার সুন্দরগঞ্জ থানায় অভিযোগ করেন। কিন্তু ঘটনাস্থল সাভার হওয়ায় পরদিন সোমবার সাভার মডেল থানায় মামলা রুজু করা হয়। এরপর সাভারের তালবাগ এলাকার নিজ বাসা থেকে রুবেল খানকে আটক করে পুলিশ। তবে রুবেল খানের স্ত্রী শাহনাজ পারভীন ও মামলার বাকি দুই আসামি পলাতক থাকায় তাদের করা সম্ভব হয়নি।

এ ব্যাপারে ঢাকা জেলা পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার (সাভার সার্কেল) রাসেল শেখ জানান, মামলা নথিভুক্ত হওয়ার পরপরই আমরা শিশু গৃহকর্মী নির্যাতনের সাথে জড়িত বাড়ির গৃহকর্তা রুবেল খানকে আটক করেছি। একই সাথে তাকে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দশ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতেও প্রেরণ করা হয়েছে। তবে রুবেল খানের স্ত্রীসহ পলাতক আসামিদের আটকেও পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান এই কর্মকর্তা।