এবার র‌্যাবের চেকপোস্টে হামলার চেষ্টা, সন্দেহভাজন জঙ্গি নিহত

এবার র‌্যাবের চেকপোস্টে হামলার চেষ্টা, সন্দেহভাজন জঙ্গি নিহত

আশকোনায় র‌্যাব কার্যালয়ে আত্মঘাতী হামলার চেষ্টার একদিনের মাথায় এবার একই ঘটনা ঘটেছে এলিট ফোর্সটির একটি চেকপোস্টে। শনিবার ভোররাতে রাজধানীর খিলগাঁওয়ে র‌্যাব-৩ এর একটি চেকপোস্টে হামলার চেষ্টা চালায় সন্দেহভাজন এক জঙ্গি। এ সময় র‌্যাবের গুলিতে ওই ব্যক্তি মারা যান। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন র‌্যাবের দুই সদস্য।

র‌্যাবের পক্ষ থেকে এক ক্ষুদে বার্তায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। সংস্থাটির পক্ষ থেকে পরে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হবে বিস্তারিত।

র‌্যাব-৩ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল তুহিন মো. মাসুদ বলেন, ‘খিলগাঁওয়ের শেখের জায়গা নামক ওই স্থানে র‌্যাবের একটি অস্থায়ী ক্যাম্প আছে। শনিবার ভোররাত পাঁচটার দিকে এক ব্যক্তি মোটর সাইকেলে করে যাচ্ছিলেন। সন্দেহ হওয়ায় তাকে চেকপোস্টে থামান র‌্যাব সদস্যরা। এ সময় ওই ব্যক্তি র‌্যাবের ওপর হামলার চেষ্টা চালান। পরে র‌্যাব সদস্যরা গুলি করলে ঘটনাস্থলেই মারা যান ওই ব্যক্তি। এ ঘটনায় আহত হন র‌্যাবের দুই সদস্য।’

র‌্যাব কর্মকর্তা জানান, নিহত ব্যক্তির নাম-পরিচয় এখনো জানা যায়নি। র‌্যাব সদস্যদের চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। গতকালের জঙ্গি হামলার সঙ্গে এই ঘটনার যোগসূত্র আছে বলে ধারণা করছে র‌্যাব।

গতকাল শুক্রবার জুমার নামাজের আগে আগে উত্তরার আশকোনায় র‌্যাবের নির্মাণাধীন কার্যালয়ের সীমানা প্রাচীর ডিঙিয়ে ভেতরে ঢুকে যান একজন। র‌্যাব সদস্যরা তাকে চ্যালেঞ্জ করলে গায়ে থাকা বোমার বিস্ফোরণ ঘটান তিনি। এতে দুই র‌্যাব সদস্য আহত হওয়ার পাশাপাশি ছিন্নবিচ্ছিন্ন হয়ে যায় ওই সন্দেহভাজন জঙ্গির দেহ। র‌্যাবের পক্ষ থেকে জানানো হয় এটা জঙ্গি হামলা। পরে সন্ধ্যায় আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন আইএসের নামে এই হামলার দায় স্বীকার করা হয়। মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জঙ্গি গোষ্ঠীটি প্রথমে আরবি ভাষায় প্রচারিত আমাক নিউজ এজেন্সিতে এবং পরে বাংলা সাইট আত তামকিনে এই দাবি করে।

এর আগে গত বুধ ও বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে সন্দেহভাজন দুটি জঙ্গি আস্তানায় অভিযানেও আত্মঘাতী হামলার ঘটনা ঘটে। বুধবার সীতাকুণ্ডের সাধন কুঠির থেকে আটক করা হয় এক নারী ও এক পুরুষকে। এদের মধ্যে ওই নারীর কোমরে বোমা বাঁধা ছিল। পুলিশ বলছে, আটকের আগে ওই নারী বোমার বিস্ফোরণ ঘটানোর চেষ্টা করলেও একজন সময় মতো তার দুই হাত ধরে ফেলায় তিনি সক্ষম হননি।

এই দুইজনের কাছ থেকে তথ্য পেয়ে পাশের ছায়ানীড় ভবনে অভিযানে যায় পুলিশ। প্রায় ১৮ ঘণ্টা ঘেরাও করে রাখার পর ওই বাড়িতে ঢুকে পুলিশ। এ সময় ভেতর থেকে আত্মঘাতী বিস্ফোরণ ঘটে। এতে নিহত হয় চারজন। আর পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারায় আরও একজন।