আঙুলের ছাপে অপরাধী শনাক্তের প্রযুক্তি দিয়ে র‍্যাবের চেকপোস্ট

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজধানীর মিরপুর এলাকায় হঠাৎ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহল। সামনে থেকে আসা একটি সিএনজি অটোরিকশাকে থামার সঙ্কেত দেন টহল দলের সদস্যরা। তাদের হাতে ছিল অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ‘আইডেনটিফিকেশন অ্যান্ড ভেরিফিকেশন সিস্টেম (ওআইভিএস)’।

চালক সিএনজি থেকে বের হলে টহল দলের দায়িত্বরত ব্যক্তিরা তার হাতের আঙুলের ছাপ নেন। তৎক্ষণাৎ ওআইভিএস স্ক্রিনে ভেসে ওঠে ওই সিএনজি চালকের ছবিসহ জাতীয় পরিচয়পত্রে দেয়া নাম, ঠিকানা, রক্তের গ্রুপ এবং ড্রাইভিং লাইসেন্সের তথ্য। এ সময় চোখে একরাশ বিস্ময় নিয়ে দিকে তাকিয়েছিলেন সিএনজি চালক।

বুধবার (১৭ মার্চ) বিকেলে রাজধানীর মিরপুর কার্যালয়ের সামনে প্রধান সড়কে নতুন প্রযুক্তি আইডেনটিফিকেশন অ্যান্ড ভেরিফিকেশন সিস্টেম (ওআইভিএস) সম্বলিত চেকপোস্ট স্থাপন করে এলিট ফোর্স র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব-৪)। সেখানেই ঘটে এমন ঘটনা।

চেকপোস্টের সামনে দিয়ে যাতায়াত করা কোনো গাড়ির চালকদের হাতের আঙুলের ছাপ নেয়। ছাপ নেয়ার মুহূর্তের মধ্যেই ওআইভিএস স্ক্রিনে ভেসে ওঠে আঙুলে ছাপ নেয়া ব্যক্তির যাবতীয় তথ্য।

র‍্যাব বলছে, এই প্রযুক্তির মাধ্যমে ছয় ধরনের তথ্যের অপশন আসবে। তার মধ্যে- জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য, লাইসেন্সের তথ্য, পাসপোর্ট আছে কিনা এবং কোন কোন দেশ ভ্রমণ করেছে ও আঙুলের ছাপ নেয়া ব্যক্তির বিরুদ্ধে কোনো মামলা আছে কি-না তাও জানা যাবে।

টহল দলের নেতৃত্ব দেন র‍্যাব-৪ এর অধিনায়ক (সিও) অতিরিক্ত ডিআইজি মো. মোজাম্মেল হক।

For all latest news; follow EkusherAlo24's Google News Channel

তিনি বলেন, অপরাধী, সন্দেহভাজন কিংবা বেওয়ারিশ মরদেহের আঙুলের ছাপ স্ক্যান করে পরিচয় নিশ্চিত করা যাবে আইডেনটিফিকেশন অ্যান্ড ভেরিফিকেশন সিস্টেম (ওআইভিএস) প্রযুক্তি দিয়ে।

র‍্যাব কর্মকর্তা মোজাম্মেল আরও বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালিত হচ্ছে। এ উপলক্ষে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি যেন নিয়ন্ত্রণে থাকে এ কারণে র‍্যাবের উদ্ভাবিত নতুন প্রযুক্তি (ওআইভিএস) এর মাধ্যমে যে কাউকে ততক্ষণাৎ হাতের আঙুলের ছাপ নিয়ে জাতীয় পরিচয়পত্রের ভেরিফিকেশন, লাইসেন্স ভেরিফিকেশন, পাসপোর্ট আছে কি-না এবং সে কোন কোন দেশ ভ্রমণ করেছেন ও তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা আছে কি-না তাও জানতে পারছি।

যদি সে দুস্কৃতিকারী হয় তাহলে ঘটনাস্থলেই তাকে শনাক্ত করা সম্ভব। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে সহজেই দুষ্কৃতিকারীকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা যাবে।

র‍্যাব-৪ এর সিও আরও বলেন, আগে আসামিকে গ্রেফতারের পর সংশ্লিষ্ট থানায় জানানো হতো। এক্ষেত্রে ভুল নাম-ঠিকানা বলতো। এখন আর লুকানোর সুযোগ নেই। ১৮ বছরের ঊর্দ্ধে যে কেউ হলেই তার হাতের আঙুলের ছাপ দিয়ে ঘটনাস্থলেই তার সবকিছু যাচাই-বাছাই করা সম্ভব।