অর্থ পাচারকারীদের পূর্ণাঙ্গ পরিচয় জানতে চান হাইকোর্ট

বিদেশে এখন পর্যন্ত আড়াই হাজার কোটি টাকা পাচার হয়েছে জানিয়ে হাইকোর্টে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে দুদক। তবে অর্থপাচারকারীদের নাম, ঠিকানাসহ পূর্ণাঙ্গ তালিকা জমা না দেয়ায় দুদকের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন হাইকোর্ট। শুনানিতে আদালত মন্তব্য করেন, বিচার না হোক, কিন্তু অর্থপাচারকারীদের নামও কি জানা যাবে না?

পরে ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে পূর্ণাঙ্গ নাম ঠিকানাসহ অগ্রগতি প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট।

কানাডার বেগমপাড়ায় বাংলাদেশের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সম্পত্তিই বেশি বলে সম্প্রতি মন্তব্য করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন। গণমাধ্যমে তা প্রকাশিত হলে গত ২২ নভেম্বর অর্থ পাচারকারীদের সুনির্দিষ্ট তালিকা চান হাইকোর্ট। একইসাথে স্বতঃপ্রণোদিত রুল দেন আদালত।

বৃহস্পতিবার দুদক, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বিএফআইইউ, সিআইডি এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন হাইকোর্টে জমা দিয়েছে। এর মধ্যে বিদেশে প্রতিটি মিশনেই অর্থ পাচারের তথ্য চাওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। আর আন্তর্জাতিক চুক্তির কারণে বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট কোনো আদালতে তথ্য দিতে পারবে না বলে জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন। কারণ, এর আগে চুক্তিভঙ্গের কারণে এল সালভাদর এবং নাইজেরিয়ার সদস্যপদ বাতিল করা হয়েছে।

এদিন দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান আদালতকে জানান, শতাধিক ব্যক্তি অন্তত আড়াই হাজার কোটি টাকা পাচার করেছেন। তবে, দুদক যে তালিকা জমা দিয়েছে তাতে সন্তুষ্ট হতে পারেননি হাইকোর্ট।

সিআইডির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুবলীগের বহিষ্কৃত নেতা ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাটসহ ৭ ব্যক্তি ও অপরিচিত দুই হ্যাকারের মাধ্যমে সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, শ্রীলঙ্কা, ফিলিপাইন, থাইল্যান্ডে অর্থ পাচার হয়েছে। এর মধ্যে শুধু সম্রাট ও তার সহযোগী এনামুল হক আরমানই ২৩২ কোটি ৩৭ লাখ ৫৩ হাজার টাকার বেশি সিঙ্গাপুরে পাচার করেছেন।