অবৈধ ওষুধ উদ্ধারে অভিযান : ভ্রাম্যমাণ আদালত অবরুদ্ধ, বিক্ষোভ

gxdfcxবগুড়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের সঙ্গে থাকা আমর্ড পুলিশের (এপিবিএন) মারপটে তিন ওষুধ ব্যবসায়ী আহত হওয়ার প্রতিবাদে ভ্রাম্যমাণ আদালতকে অবরুদ্ধ করে রাখার পর দোকান বন্ধ রেখে বিক্ষোভ করেছে মিছিল করেছে কেমিস্ট অ্যান্ড ড্রাগিস্ট সমিতির সদস্যরা।
সোমবার দুপুর পৌনে দুটার দিকে বগুড়া শহরের খান মার্কেটে এ মারপিটের ঘটনা ঘটে। আহত তিন ব্যবসায়ীর মধ্যে দুজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ওষুধ ব্যবসায়ীরা জানান, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হাবিবুল হাসান রুমী আমর্ড পুলিশের অতিরিক্ত সুপার শিরিন আকতার জাহান এবং ড্রাগ সুপার ইকবাল হোসেনের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত খান মার্কেটে প্রবেশ করে। মার্কেটের দোতলায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের সদস্যদের দেখে রাজু মেডিকেলের স্বত্বাধিকারী রাজু হোসেন দোকান বন্ধ করেন। এসময় আমর্ড পুলিশ তাকে দোকান বন্ধ করতে নিষেধ করলে তর্ক-বিতর্ক হয়। এক পর্যায় আমর্ড পুলিশ রাজুকে কিল ঘুষি মারে। এতে তার নাক ফেটে রক্ত ঝরতে থাকে। এ দৃশ্য দেখে বিসমিল্লাহ ফামের্সির খায়রুল আলম, রাকিব ফার্মেসির রাকিব হাসন তাকে উদ্ধার করতে গেলে আমর্ড পুলিশ তাদেরও মারপিট করে।
মুহূর্তের মধ্যে এ খবর জানাজানি হলে খান মার্কেটে ওষুধ ব্যবসায়ীরা দোকান বন্ধ করে ভ্রাম্যমাণ আদালতকে মার্কেটের মধ্যে অবরুদ্ধ করে রাখে। এছাড়াও আমর্ড পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শিরিন আকতার জাহানকে লাঞ্ছিত করেন। পরে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ভ্রাম্যমাণ আদালত চলে গেলে ওষুধ ব্যবসায়ীরা দোকান বন্ধ করে ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল বের করে।
কেমিস্ট অ্যান্ড ড্রাগিস্ট সমিতি বগুড়া জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মোস্তাক আহম্মেদ জানান, এঘটনার প্রতিবাদে বিকেল ৫টা পর্যন্ত শহরের সকল ওষুধের দোকান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। মঙ্গলবার পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
মোস্তাক আহম্মেদ আরো জানান, আমর্ড পুলিশের মারপিটে আহত তিন ব্যবসায়ীর মধ্যে রাজু এবং খায়রুলকে শহিদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
বগুড়ার ড্রাগ সুপার ইকবাল হোসেন  জানান, খান মার্কেটের তৃতীয় তলায় একটি ওষুধের গোডাউনে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালানোর উদ্দেশ্যে গেলে ব্যবসায়ীরা হট্টগোল শুরু করে ও দোকান বন্ধ করে দেয়। তিনি আরো বলেন, ভ্রাম্যমাণ আদালতের সঙ্গে থাকা আমর্ড পুলিশ কোনো ব্যবসায়ীকে মারপিট করেনি।
বগুড়ার আমর্ড পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শিরিন আকতার জাহান বলেন, ভ্রাম্যমাণ আদালত দেখেই ব্যবসায়ীরা দোকান পাট বন্ধ করে দেয়। এছাড়াও কিছু ব্যবসায়ী তাদের দোকানে রাখা অবৈধ ওষুধ সরিয়ে নেয়ার সময় আমর্ড পুলিশ সদস্যরা বাধা দেয়। এনিয়ে ধাক্কাধাক্কি হতে পারে। তরে পুলিশ কোনো ব্যবসায়ীকে মারপিট করেনি। শুধু তাই নয় ব্যবসায়িরা মুহূর্তের মধ্যে মাকের্টের প্রধান গেট বন্ধ করে দিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের ওপর চড়াও হয়।