অবশেষে শিরোপা পেলো লঙ্কার সোনালী প্রজন্ম

স্পোর্টস রিপোর্টার : অর্জুন রানাতুঙ্গা, অরভিন্দ ডি সিলভা, সনাৎ জয়াসুরিয়াদের ৯৬’র বিশ্বকাপ জয়ের পর শ্রীলঙ্কার সোনালী প্রজন্মের অংশ ছিলেন কুমার সাঙ্গাকারা, মাহেলা জয়াবর্ধনে, তিলকারাত্নে দিলশান, লাসিথ মালিঙ্গারা। কিন্তু বারবার ফাইনালে উঠেও শিরোপা জিততে ব্যর্থ ছিলো লঙ্কানদের এই তারকা খেলোয়াড়দের ব্যাচ।

২০০৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ, ২০০৯ সালের বিশ্ব টি-টোয়েন্টির পর ঘরের মাঠে এককভাবে আয়োজিত ২০১২ সালের বিশ্ব টি-টোয়েন্টিতেও ফাইনালে গিয়ে থামতে হয় সাঙ্গাকারা-জয়াবর্ধনেদের। তাদের সেই অপেক্ষার অবসান ঘটে ২০১৪ সালে, বাংলাদেশের মাটিতে।

২০১৪ সালটি বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য ছিলো যতটা অপয়া, ঠিক ততটাই পয়মন্ত ছিলো শ্রীলঙ্কার জন্য। বাংলাদেশের মাটিকে যেনো নিজেদের হোম ভেন্যুই বানিয়ে ফেলেছিলেন লঙ্কান ক্রিকেটাররা। দ্বিপাক্ষিক সিরিজে তো বটেই, সে বছর বাংলাদেশে হওয়া এশিয়া কাপেও শিরোপা জিতে নেয় শ্রীলঙ্কা।

ধারাবাহিকতা ধরে রেখে বিশ্ব টি-টোয়েন্টির পঞ্চম আসরে প্রায় সাত বছর ধরে চলা ফাইনালের ফাঁড়া কাটিয়ে শিরোপার স্বাদ পায় লঙ্কানরা। ফাইনালে তাদের কাছে পরাস্ত হয় বিশ্ব টি-টোয়েন্টির প্রথম আসরের চ্যাম্পিয়ন দল ভারত। আগের চার আসরের ধারাবাহিকতায় সেবারও ফাইনালে দেখা মেলে লো স্কোরিং এক ম্যাচের।

বরাবরের মতো বাংলাদেশে হওয়া সেই আসরেও ছিলো নানান নাটকীয়তা ও রোমাঞ্চকর ম্যাচ। টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী দিনে ঢাকায় আফগানিস্তানকে ৭২ রানে অলআউট করে স্বাগতিকরা। একইদিন চট্টগ্রামে নেপালের বিপক্ষে ৬৯ রানে অলআউট হয় হংকং। সেই হংকং আবার নিজেদের শেষ ম্যাচে হারিয়ে দেয় বাংলাদেশকে।

তবে নেট রান রেটে এগিয়ে থাকায় সুপার টেনের টিকিট পেতে সমস্যা হয়নি বাংলাদেশের। এই আসরের প্রথম রাউন্ডে আফগানিস্তান ও নেপালকে হারানোর মাধ্যমে তিন আসর পর বিশ্ব টি-টোয়েন্টিতে জয়ের দেখা পায় টাইগাররা। তবে সুপার টেনে গিয়ে সেই ব্যর্থতার গল্প, শোচনীয়ভাবে হেরে যায় ব্যর্থতার গল্প।

প্রথম রাউন্ডের শেষ ম্যাচটি ছিলো রোমাঞ্চে ভরপুর। দুইটি করে ম্যাচ খেলে একটি করে জয় ছিলো আয়ারল্যান্ড ও নেদারল্যান্ডসের। ফলে এই ম্যাচেই নির্ধারণ হতো কারা যাবে পরের রাউন্ডে। সেদিন আগে ব্যাট করে ১৮৯ রানের বড় সংগ্রহ দাঁড় করায় আইরিশরা। উইলিয়াম পোর্টারফিল্ড ৩২ বলে ৪৭, এন্ড্রু পয়েন্টার ৩৮ বলে ৫৭ ও কেভিন ডি ও’ব্রায়েন করেন ১৬ বলে ৪২ রান।

এই বিশাল সংগ্রহ টপকে গেলেই হতো না নেদারল্যান্ডসের, তাদের ১৯০ রান করে ম্যাচটি জিততে হতো ১৪.২ ওভারের মধ্যে। এই কঠিন সমীকরণ ১৩.৫ ওভারেই পূরণ করে ফেলে ডাচরা। উদ্বোধনী জুটিতে প্রথম ছয় ওভারেই আসে ৯১ রান। স্টিফেন মাইবার্গ ২৩ বলে ৬৩, পিটার বোরেন ১৫ বলে ৩১, ওয়েসলি বারেসি ২২ বলে ৪০ ও টম কুপার ১৫ বলে ৪৫ রান করে দলকে নিয়ে যান সুপার টেনে।

পরে সুপার টেনে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই লজ্জার রেকর্ড গড়ে ডাচরা। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ১০.৩ ওভারেই তারা অলআউট হয়ে যায় মাত্র ৩৯ রান করে। লঙ্কানরা ম্যাচ জিতে নেয় পাঁচ ওভারের মধ্যেই। পরে নিউজিল্যান্ডকেও লজ্জায় ফেলে শ্রীলঙ্কা। সুপার টেনের শেষ ম্যাচে তারা অলআউট হয় ১১৯ রানে। জবাবে কিউইদের মাত্র ৬০ রানেই গুটিয়ে দেয় তারা। যেখানে একাই ৪২ রান করেন কেন উইলিয়ামসন। বাঁহাতি স্পিনার রঙ্গনা হেরাথ মাত্র ৩ রান খরচায় নেন ৫ উইকেট।

দুই গ্রুপ থেকে সেমিফাইনালের টিকিট পায় দক্ষিণ আফ্রিকা, শ্রীলঙ্কা, ইংল্যান্ড ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ। প্রথম সেমিফাইনালে বৃষ্টি আইনে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়ে আগের আসরের ফাইনালের প্রতিশোধ নেয় শ্রীলঙ্কা। অপর সেমিফাইনালে প্রোটিয়াদের হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো ফাইনালে ওঠে ভারত।
কিন্তু যতটা জমজমাট ও রোমাঞ্চকর ফাইনালের আশা করা হয়েছিলো ভারত-শ্রীলঙ্কার মধ্যে, মেলেনি তার ছিটেফোঁটাও। শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে বিরাট কোহলির ৭৭ রানের পরেও নির্ধারিত ২০ ওভারে মাত্র ১৩০ রান করতে সক্ষম হয় ভারত। কুমার সাঙ্গাকারের ৩৫ বলে ৫২ রানের সুবাদে ১৩ বল হাতে রেখেই শিরোপা জিতে নেয় শ্রীলঙ্কা।

একনজরে ২০১৪ বিশ্ব টি-টোয়েন্টি

চ্যাম্পিয়ন: শ্রীলঙ্কা

রানার্সআপ: ভারত

সর্বোচ্চ রান: বিরাট কোহলি (৩১৯)

সর্বোচ্চ উইকেট: ইমরান তাহির ও আহসান মালিক (১২)

সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ: দক্ষিণ আফ্রিকা (১৯৬/৫)

সর্বনিম্ন দলীয় সংগ্রহ: নেদারল্যান্ডস (৩৯)

সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত সংগ্রহ: অ্যালেক্স হেলস (১১৬*)

ম্যাচে সেরা বোলিং: রঙ্গনা হেরাথ (৩ রানে ৫ উইকেট)

ফাইনালের সেরা খেলোয়াড়: কুমার সাঙ্গাকারা (৫২ রান)

টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়: বিরাট কোহলি (৩১৯ রান)