অবশেষে আমিরকে মেনে নিয়ে ক্যাম্পে যোগ দিলেন আজহার-হাফিজ

অবশেষে আমিরকে মেনে নিয়ে ক্যাম্পে যোগ দিলেন আজহার-হাফিজ

পাকিস্তানের বাঁহাতি পেসার মোহাম্মদ আমিরকে মেনে নিয়ে অবশেষে শর্তহীনভাবে কন্ডিশনাল ক্যাম্পে যোগ দিতে রাজি হয়েছেন দেশটির ওয়ানডে ক্রিকেট দলের অধিনায়ক আজহার আলী ও অলরাউন্ডার মোহাম্মদ হাফিজ।

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে এবং টি-২০ সিরিজকে সামনে রেখে ২১ ডিসেম্বর থেকে লাহোরের ন্যাশনাল ক্রিকেট অ্যাকাডেমিতে শুরু হয়েছে পাকিস্তানের কন্ডিশনিং ক্যাম্প। কিন্তু ইংল্যান্ডে স্পট ফিক্সিংয়ের দায়ে পাঁচ বছর নিষিদ্ধ থাকা মোহাম্মদ আমিরকে ক্যাম্পের অন্তর্ভূক্ত করায় অনুশীলন বর্জন করেছিলেন আজহার এবং হাফিজ।

তবে, আমিরের বিপক্ষে অবস্থান নেয়ার কারণে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড বা পিসিবি আজহার-হাফিজদের প্রতি কঠোর হয়ে ওঠে। পিসিবি চেয়ারম্যান শাহরিয়ার খান জানিয়েছিলেন, তিনি আজহার এবং হাফিজের সঙ্গে কথা বলবেন, বিষয়টা নিরসনের চেষ্টা করবেন। তাতেও যদি কাজ না হয়, তাহলে তারা শাস্তিমূলক অবস্থান গ্রহণ করবেন।

শুক্রবার হাফিজ ও আজহারের কাছে মাফ চেয়ে কেঁদে ফেলেন আমির। তাকে বুকে টেনে গলা মিলিয়েছেন হাফিজ ও আজহার। আমিরকে নিজেদের পক্ষ থেকে মাফ করে দিয়েছেন বলেও জানান করেন হাফিজ ও আজহার। কিন্তু তারা তাদের আগের কথা থেকে সরেননি।

এরপর পিসিবি চেয়ারম্যানের সঙ্গে বৈঠক করেন আজহার ও হাফিজ। বৈঠক শেষে পিসিবি চেয়ারম্যান সাংবাদিকদের জানান, ‘তারা দুজন (হাফিজ-আজহার) সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, অনুশীলনে অংশ নেবে। আমি অবশ্যই তাদের বিষয়টাকে সম্মান করি। তবে এর মধ্যে অবশ্যই কিছু আছে, যেগুলোকে মেনে নেয়া যায় না। এরপরই তারা নিজেদের ভুল বুঝতে পেরেছে এবং নিশ্চিত করেছে যে, তারা আমার সঙ্গে একই অবস্থানে থাকবে। এখন আমাদের দৃষ্টি সামনের দিকে।’

পিসিবি চেয়ারম্যানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে খুশি মোহাম্মদ হাফিজও। তিনি বলেন, ‘আমার দৃষ্টিভঙ্গি ছিল খুবই সাধারণ যে, যিনিই দেশের সম্মান নষ্ট করেছেন, তাকে যেন আর কোনো সুযোগ দেয়া না হয়। এটাই ছিল আমার মূল ভূমিকা এবং সারাজীবনই আমি এই অবস্থানে থাকব।’

হাফিজ বলেন, ‘আমাদের সতর্কতামূলক বিষয়টা পিসিবি চেয়ারম্যান শুনেছেন এবং আমাদের নিশ্চয়তা দিয়েছেন যে, আমাদের উদ্বিগ্নতার বিষয়টা, সর্বোপরি পাকিস্তান ক্রিকেটকে রক্ষা করার সব ধরনের ব্যবস্থা নেবেন তিনি।’

২০১০ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে লর্ডস টেস্টে টাকার বিনিময়ে ইচ্ছা করে নো বল করার দায়ে শাস্তি হয়েছিল আমিরের। একই অপরাধে জড়িয়ে পড়ায় পাকিস্তানের সে সময়ের অধিনায়ক সালমান বাট এবং আরেক পেসার মোহাম্মদ আসিফকেও শাস্তি পেতে হয়েছিল। এমনকি জেলেও যেতে হয়েছিল তিনজনকে। তবে বয়স কম হওয়ায় আমিরের জায়গা হয়েছিল কিশোর সংশোধন কেন্দ্রে।

তবে আইসিসির পুনর্বাসন প্রক্রিয়ায় অংশ নেয়ার পাশাপাশি ম্যাচ পাতানোর বিরুদ্ধে তদন্তে সাহায্য করার পুরস্কার হিসেবে শাস্তি তিন মাস কমে যায় আমিরের। গত এপ্রিলে প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে ফেরার পর থেকেই তাঁর দুর্দান্ত পারফরম্যান্স। পাকিস্তানের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট কায়দে আযম ট্রফির বাছাইপর্বের চার ম্যাচে ৩৪ উইকেট নেয়ার পর মূল প্রতিযোগিতায় নিয়েছিলেন ১৭ উইকেট। এরপর বিপিএলে চিটাগং ভাইকিংসের হয়ে ৯ ম্যাচে ১৪ উইকেট নিয়ে আমির প্রমাণ করেছেন নিষেধাজ্ঞা তার আগুন ঝরানো বোলিংকে ম্লান করে দিতে পারেনি।

আগামী মাসে তিনটি টি-টোয়েন্টি ও তিনটি ওয়ানডে খেলতে নিউজিল্যান্ড সফরে যাবে পাকিস্তান। ২৬ সদস্যের প্রাথমিক দলে ডাক পেয়েছেন আমির।

Leave a Reply