নতুন স্কেলে বেতন পাচ্ছেন না ৬ লাখ সরকারি চাকরিজীবী

নতুন স্কেলে ডিসেম্বরে বেতন পেয়েছেন অনেক চাকরিজীবী। কেউ দুই মাসের বকেয়াসহ বেতন পেয়েছেন, কেউ পেয়েছেন শুধু বেতন।

তবে পে-ফিক্সেশন-সংক্রান্ত জটিলতায় চলতি মাসে নতুন স্কেলে বেতন পাচ্ছেন না ছয় লাখ সরকারি চাকরিজীবী।

অনলাইনে বেতন নির্ধারণ ফরম পূরণ না করতে পারায় এমনটি ঘটেছে। নতুন স্কেলে বেতন পাননি রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও।

অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গতকাল পর্যন্ত ছয় লাখের কিছু বেশি কর্মকর্তা-কর্মচারী অনলাইনে বেতন নির্ধারণ করেছেন। বাকি রয়েছেন আরো ছয় লাখ। এ ছয় লাখ চাকরিজীবীই নতুন স্কেলে বেতন পাচ্ছেন না। তবে অনলাইনে ফিক্সেশন করার পর পরবর্তী মাসে বকেয়াসহ বেতন পাবেন তারা।

অর্থ বিভাগের সিনিয়র সচিব মাহবুব আহমেদ বলেন, নতুন স্কেলে বেতন পেতে হলে সরকারি চাকরিজীবীদের অনলাইনে পে-ফিক্সেশন করতে হবে। যারা নির্দিষ্ট সময়ে এটি করতে পেরেছেন, তারা নতুন স্কেলে বেতন পেয়েছেন।

তিনি বলেন, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঠিক হিসাব মন্ত্রণালয়ের কাছে নেই। এটি ঠিক করতেই অনলাইনে বেতন নির্ধারণ চালু করা হয়েছে।

এদিকে অনলাইনে বেতন নির্ধারণের পর এখনো বেতন পাননি অনেকে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনেক কর্মকর্তা সেলফোনে বেতনের জন্য এসএমএসের অপেক্ষায় থাকলেও গতকাল পর্যন্তও তা পাননি। ব্যাংকিং বিভাগের এক কর্মকর্তা এ বিষয়ে বলেন, প্রতি মাসের প্রথম কর্মদিবসে সেলফোনে বেতনের খবর চলে আসে। কিন্তু এখন পর্যন্ত তিনি তা পাননি। একই বিভাগের আরেক কর্মকর্তা বলেন, তার ব্যাংক হিসাবে বেতন চলে এসেছে।

তবে অনলাইনে ফরম পূরণ করার পর যারা এখনো বেতন পাননি, তাদের বেতন দু-একদিনের মধ্যে ব্যাংক হিসাবে চলে যাবে বলে জানিয়েছে হিসাব নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়।

অর্থ বিভাগ জানায়, অনলাইনে বেতন নির্ধারণের জন্য জাতীয় পরিচয়পত্র, চাকরিতে প্রথম যোগদানের তারিখ, দফতর ও পদবি-সংক্রান্ত তথ্যাবলি ও জন্মতারিখ প্রয়োজন হয়। এছাড়া প্রয়োজন হয় ৩০ জুন ২০১৫ তারিখের গ্রেড/বেতন ও গৃহীত মূল বেতন-সম্পর্কিত তথ্য। এসব তথ্য ও কাগজপত্রে কোনো ধরনের ত্রুটি থাকলে তা সমাধানের পর ফরম পূরণ করতে হবে।

এসব তথ্য দিয়ে অনলাইনে বেতন নির্ধারণ করতে হিমশিম খাচ্ছেন অনেক সরকারি চাকরিজীবী। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়তে হচ্ছে প্রত্যন্ত অঞ্চলের সরকারি চাকরিজীবীদের। নিজস্ব কম্পিউটার, ল্যাপটপ, ইন্টারনেট ও প্রিন্টার না থাকায় তারা অনলাইনে ফরম পূরণ করতে পারছেন না। প্রযুক্তি জ্ঞানের সীমাবদ্ধতার কারণে বিভিন্ন কম্পিউটার সেন্টারে যেতে হচ্ছে অনেককেই। এছাড়া প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও তথ্যের ভুলভ্রান্তির কারণেও অনেকে ফরম পূরণ করতে পারছেন না।

জাতীয় পরিচয়পত্র না থাকায় অনেকে অনলাইনে বেতন নির্ধারণ করতে পারছেন না বলে জানা গেছে। পরিচয়পত্র হারানোর কারণে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে অনেককে। জন্মতারিখ মনে না থাকায় ফরম পূরণ করতে পারছেন না কোনো কোনো সরকারি চাকরিজীবী। এজন্য তারা সংশ্লিষ্ট হিসাব অফিসে দৌড়ঝাঁপ করছেন।

অর্থ মন্ত্রণালয় গত ১৭ ডিসেম্বর থেকে অনলাইনে পে-স্কেল ফিক্সেশন চালু করেছে। সরকারি চাকরিজীবীরাই কেবল অনলাইনে বেতন নির্ধারণ করতে পারবেন।

প্রসঙ্গত, সর্বোচ্চ মাসিক ৭৮ হাজার ও সর্বনিম্ন ৮ হাজার ২৫০ টাকা মূল বেতন ধরে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য গত ৭ সেপ্টেম্বর অষ্টম বেতন কাঠামো অনুমোদন করে মন্ত্রিসভা। নতুন কাঠামো অনুযায়ী, সরকারি চাকরিজীবীরা মূল বেতন পাবেন ২০১৫ সালের ১ জুলাই থেকে।

এদিকে নতুন বেতন স্কেল নিয়ে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে গতকাল এক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সরকারি কর্মকর্তাদের চেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা কোনো অংশে কম সুযোগ-সুবিধা পান না বরং কোনো কোনো ক্ষেত্রে তারা বেশি সুযোগ-সুবিধা পান।

দেশে ক্যাডার ও নন-ক্যাডারভুক্ত ১২ লাখ চাকরিজীবীর মধ্যে সচিবসহ গ্রেড-১ ভুক্ত কর্মকর্তার সংখ্যা ১২২। দেশের ৩২টি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকের সংখ্যা ১১ হাজার ৪১১। এর মধ্যে গ্রেড-১ ভুক্ত অধ্যাপকের সংখ্যা ৮২০।

বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়েছে, সরকারের একজন কর্মকর্তাকে সচিব পদে পদোন্নতি পেতে ২৭-৩০ বছর বা তার বেশি সময় অপেক্ষা করতে হয়। ৫ম গ্রেডভুক্ত উপসচিব পদে পদোন্নতির জন্য ১৬-২০ বছর অপেক্ষা করতে হয়। অন্যদিকে একজন শিক্ষক ১২ বছরের মধ্যে ৩য় গ্রেডভুক্ত অধ্যাপক পদে পদোন্নতি পান।

এছাড়া ২৫ বছরের মধ্যে গ্রেড-১ প্রাপ্ত হন। সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কর্মকর্তারা ৯-৫টা অফিস করলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সে ধরনের কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। তারা সরকারি চাকরির পাশাপাশি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রতিষ্ঠানে কাজ করার সুযোগ পান, যা সরকারি কর্মকর্তাদের পক্ষে সম্ভব নয়।

Leave a Reply