পৌরসভা নির্বাচন : মনোনয়নপত্র জমা মেয়র পদে ১২২৩ এবং কাউন্সিলরে ১২৪৬৬টি

আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনে আজ শনি এবং কাল রোববার মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করা হবে। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের জন্য ১৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় পাওয়া যাবে। এরপর লড়াইয়ে থাকা প্রার্থীদের নিয়ে ৩০ ডিসেম্বর ভোট হবে। পৌরসভা নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন ছিল বৃহস্পতিবার। নিবন্ধনভুক্ত ৪০টি দলের মধ্যে অর্ধেকের বেশি নির্বাচন কমিশনে তাদের মনোনীত মেয়র প্রার্থীর তালিকা জমা দিলেও এখন পর্যন্ত ১৪টি দলের প্রার্থীর মনোনয়নপত্র জমার বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

প্রথমবারের মতো দলীয় প্রতীকে অনুষ্ঠেয় পৌরসভা নির্বাচনে ২৩৫টি মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য এক হাজার ২২৩ জন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এছাড়া নির্বাচনে সাধারণ ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন ১২ হাজার ৪৬৬ জন। নির্বাচন কমিশনের উপসচিব সামসুল আলম শুক্রবার এ তথ্য জানান।

২৩৫টি পৌরসভায় এবার সোয়া তিন হাজার পদে ভোট হবে। এরমধ্যে মেয়র পদ ২৩৫টি, সাধারণ কাউন্সিলর পদ দুই হাজার ২১১টি ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদ ৭৩৭টি।

কমিশনের সহকারী সচিব রাজীব আহসান বলেন, “আমরা মাঠ পর্যায়ের তথ্য যাচাই করছি। প্রাথমিকভাবে ১৪টি দলের প্রার্থীদের কথা জেনেছি। কাল চূড়ান্তভাবে জানা যাবে মোট কতটি দলের প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।”

এরইমধ্যে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি, জেপি, ওয়ার্কার্স পার্টি, সিপিবি, বাসদ, জাসদ, এলডিপি, এনপিপি, ন্যাপ, ইসলামী আন্দোলন, ইসলামী ঐক্যজোট ও ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের প্রার্থীদের বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া গেছে বলে জানান তিনি।

দলের বাইরে স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে একশ’ ভোটারের সমর্থনের তালিকা দিতে হয়েছে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ইচ্ছুকদের।তবে সাবেক মেয়রদের ক্ষেত্রে এ তালিকার দরকার হয়নি। সাধারণ ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে নির্দলীয়ভাবে ভোট হচ্ছে।

ইসি উপসচিব সামসুল আলম জানান, মেয়র পদে দলীয় ও স্বতন্ত্র মিলিয়ে মোট এক হাজার ২২৩টি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে। সাধারণ কাউন্সিলর কাউন্সিলর পদে নয় হাজার ৭৯৮ জন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন; আর সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন দুই হাজার ৬৬৮ জন।

এসব পৌরসভায় মোট মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে ১৩ হাজার ৬৮৯টি, যা গত পৌরসভা নির্বাচনের তুলনায় কম।

সর্বশেষ ২০১১ সালে অনুষ্ঠিত পৌর নির্বাচনে আড়াইশ পৌরসভায় মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের পর ১৫ হাজারেরও বেশি প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ছিলেন। এরমধ্যে মেয়র পদে এক হাজার ২০০ জন, সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে তিন হাজার ও সাধারণ কাউন্সিলর পদে ১০ হাজার ৩০০ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

এবার মেয়র পদে দল থেকে প্রার্থী ঠিক করে দেওয়ায় মোট প্রার্থীর সংখ্যা আগের তুলনায় কমেছে বলে মনে করছেন ইসি কর্মকর্তারা। “দলের সমর্থনের বাইরে মেয়র পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে একশ ভোটারের সমর্থনের তালিকা দেওয়া অনেকের জন্য কঠিন হয়েছে,” বলেন উপসচিব সামসুল।

Leave a Reply

Inline
Inline