ভাতে উপকারী দিকই বেশি

স্বাস্থ্য ডেস্কঃ বাঙালির প্রধান খাবার ভাত। প্রচণ্ড ক্ষুধা নিবারণে একপ্লেট ভাত আমাদের প্রথম চাওয়া থাকে। বাকি অন্যান্য খাবার থাকে সহযোগী হিসেবে। কেউ কেউ রুটির প্রতিও বিশেষ দুর্বল থাকেন, তবে বেশির ভাগ বাঙালির পছন্দ এবং স্বস্তির খাওয়া সম্ভব ভাতেই। শরীরের ওজন কমাতে অনেকে প্রথমে ভাতকে ‘না’ বলে দেন। অথচ ভাত আপনার ওজন বাড়ানোর জন্য মোটেও দায়ি নয় উপরন্ত ওজন কমাতে সাহায্য করে। অন্যান্য রোগ প্রতিরোধসহ রয়েছে নানা রকম উপকারী দিক। ভাতের পুষ্টিমান অক্ষুণ্ণ রাখতে ডাক্তাররা ঢেঁকি ছাটা চালের ভাত খেতে পরামর্শ দিয়ে থাকেন। সেক্ষেত্রে লাল চালের গুরুত্ব থাকে আরও বেশি। প্রতি ১০০ গ্রাম সাদা ভাতে পাওয়া সম্ভব ১৩০ কিলো ক্যালরি, ফ্যাট ০.৩ গ্রাম, কোলেস্টেরল নেই, সোডিয়াম ১ গ্রাম, পটাশিয়াম ৩৫ মিলিগ্রাম, কার্বোহাড্রেট ২৮ গ্রাম, প্রোটিন ২.৭ গ্রামের মধ্যে আছে ক্যালসিয়াম, লৌহ, ভিটামিন বি-৬, ভিটামিন বি-১২ ও কিছু পরিমাণ ম্যাগনেসিয়াম। এসব উপাদান আপনার শরীরকে নানা দিক থেকে সুরক্ষা দিয়ে থাকে। আসুন জেনে নেয়া যাক বিস্তারিত।

– সাদা ভাতে থাকা প্রচুর পরিমানে কার্বোহাইড্রেট আপনার দেহের জ্বালানি হিসেবে দারুণ কাজ করে। ব্রেইনের স্বাভাবিক কাজকর্ম চালাতেও সহযোগিতা করে।

– সাদা ভাতে আপনাকে পর্যাপ্ত পরিমানে শক্তির যোগান দিয়ে থাকে। দুর্বলতা, বিষণ্ণতা দূরীকরণে সাদা ভাত হতে পারে নির্ভরতার অপর নাম।

– সাদা ভাতে একদমই কোলেস্টেরল বা ক্ষতিকারক ফ্যাট নেই। এমনকি, অন্য কোনো খাবারই ভাতের মতো ক্ষতিকর প্রভাবহীন হওয়ার যোগ্যতা রাখে না।

– ভাতে খুব অল্প পরিমান সোডিয়াম থাকায় ব্লাড প্রেসার বা উচ্চরক্তচাপ নিরোধক খাবার হিসেবে পরিগণিত হয়।

– ভাতে থাকা পর্যাপ্ত পরিমানে খাদ্যআঁশ আপনার হজম প্রক্রিয়াকে বাড়িয়ে তোলে। পেটের অসুখ নিরাময়ে সহায়তা করে।

– বিশেষ করে বাদামী বা লাল রঙের চালে থাকা খাদ্যআঁশ অনেক ধরনের ক্যানসারের জীবানুরোধে সক্রিয় ভূমিকা রাখে।

– চালের গুড়া দিয়ে নানা রকম রূপচর্চার কাজ চালানো যেতে পারে। আপনার ত্বকের যত্নেও এর বিশেষ ভূমিকা রয়েছে।

– অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ তেল হিসেবে রাইস ব্রান অয়েল পরিচিত। নিয়মিত রাইস ব্রান অয়েল খেলে আপনার হাড়ের ক্ষয় রোধ করা সম্ভব।

– সাদা ভাত আপনার হজম শক্তিকে বাড়িয়ে দেয়। পেটের অসুখ তাড়িয়ে কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যা দূর করতেও এর তুলনা হয় না।

Leave a Reply