৭৩.৯২ শতাংশ ভোট পড়েছে: ইসি

নির্বাচন কমিশন সচিব মো. সিরাজুল ইসলাম জানিয়েছেন, পৌরসভা নির্বাচনে গড়ে ৭৩ দশমিক ৯২ শতাংশ ভোট পড়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে নিজের কার্যালয়ে এ কথা জানান তিনি।

তিনি বলেন, ২৩৪ পৌরসভা নির্বাচনের মধ্যে আমরা ২১৪টি পৌরসভার ফলাফল একত্রিত করেছি। এ ফলাফল পর্যালোচনা করে দেখা যায় গড়ে ৭৩ দশমিক ৯২ শতাংশ ভোট পড়েছে।  ২১৪ পৌরসভার মধ্যে ১৬৮ পৌরসভায় আওয়ামী লীগ, ১৯ পৌরসভায় বিএনপি, একটিতে জাতীয় পার্টি ও ২৬টি পৌরসভায় স্বতন্ত্র প্রার্থী জয়লাভ করেছেন। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন সাতজন। এদের সবাই আওয়ামী লীগের বলে জানান তিনি।

নির্বাচনে অনিয়ম, সহিংসতা, কারচুপির অভিযোগ এনে ইতিমধ্যে ফলাপল প্রত্যাখ্যান করেছে বিএনপি। একইসঙ্গে ব্যর্থতার দায় নিয়ে সরকার এবং নির্বাচন কমিশনের (ইসি) পদত্যাগ দাবি করেছে তারা। অন্যদিকে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব-উল আলম হানিফ আজ এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন,  ‘বেগম খালেদা জিয়া বিজয়ের মাসে স্বাধীনতার ৪৪ বছর পরে মুক্তিযুদ্ধ ও শহীদদের সংখ্যা নিয়ে যে কটাক্ষ করেছে তা জনগণ ভালভাবে নেয়নি। তিনি মুক্তিযুদ্ধকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করে নিজেকে একজন পাকিস্তানি হিসেবে জনগণের কাছে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। বাংলাদেশের জনগণ পাকিস্তানি খালেদার নেতৃত্ব দেখতে চায় না। সেই কারণেই জনগণ তাকে আবারও প্রত্যাখ্যান করেছে।’

অনিময়-সহিংসতার কারণে নংসিংদীর মাধবদী পৌরসভার ভোট বাতিল করা হয়েছে জানিয়ে সিরাজুল বলেন, বাকি ১৯ পৌরসভার কিছু কেন্দ্রে ভোট স্থগিত থাকার কারণে এসব পৌরসভার ফলাফল স্থগিত রাখা হয়েছে।

ইসি সূত্রে জানা যায়, পৌর ভোটে মোট ভোটার ছিলেন ৬০ লাখ ৬৩ হাজার ৭১৯ জন। এর মধ্যে ভোট দিয়েছেন ৪৪ লাখ ৮১ হাজার ৭৬০ জন। তারমধ্যে বৈধ ভোটের সংখ্যা ৪৪ লাখ ২ হজার ৮৩৫। বাতিল করা হয়েছে ৭৮ হাজার ৯২৫ ভোট।

গতকাল প্রধান তিন রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টির অংশগ্রহণে পৌরসভার নির্বাচন সম্পন্ন হয়। ভোট শেষে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ নির্বাচন সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য হয়েছে বলে দাবি করে।

জাতীয় পার্টি-বিএনপি একই সুরে কথা বললেও নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ হয়েছে বলে দাবি করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ।

গতকাল ২৩৪ পৌরসভায় ৩ হাজার ৫৫৫টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এতে আওয়ামী লীগের ২৩৪, বিএনপির ২২৩, জাতীয় পার্টির ৯৫ প্রার্থীসহ ৯৪৫ জন প্রার্থী মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। সংরক্ষিত ও কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন প্রায় সাড়ে ১১ হাজার প্রার্থী।

Leave a Reply