৫ জানুয়ারি বিএনপির ‘রাজনৈতিক আত্মহত্যা দিবস’: কাদের

দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটগ্রহণের দিনটিকে বিএনপি ‘গণতন্ত্র হত্যা দিবস’ হিসেবে পালন করলেও এটি দলটির জন্য ‘রাজনৈতিক আত্মহত্যা দিবস’ বলে মনে করেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, বিএনপি আবার ভোট বর্জন করলে তাদেরকে দিবসটি আবার পালন করতে হবে।

দশম সংসদ নির্বাচনে ভোটের চার বছর পূর্তিতে রাজধানীর বনানীতে আওয়ামী লীগের ঢাকা মহানগর উত্তর কমিটি আয়োজিত এক জনসভায় কাদের এ কথা বলেন।

চার বছর আগেরে ঝঞ্ঝাবিক্ষুব্ধ ও সহিংসতাময় দিনটিতে ভোটের মাধ্যমে টাকা দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসে আওয়ামী লীগ। তারা দিনটিকে গণতন্ত্রের বিজয় দিবস হিসেবে পালন করে।

ক্ষমতাসীন দল মনে করে, সেদিন ভোট না হলে দেশে আবার অসাংবিধানিক সরকার চেপে বসত।

চতুর্থ বছর পূর্তিতে আজ আওয়ামী লীগ দেশজুড়ে সমাবেশ ও শোভাযাত্রা করেছে। রাজধানীতে বনানী ছাড়াও বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে সমাবেশ করেছে দলটি।

বনানীর সমাবেশে কাদের বলেন, ‘আজকে বিএনপির রাজনৈতিক আত্মহত্যা দিবস। একদিকে জনগণের গণতন্ত্রের বিজয় দিবস, অন্যদিকে সাম্প্রদায়িক শক্তির আত্মহত্যা দিবস। আগামী নির্বাচনে অংশ না নিলে আরেকবার আত্মহত্যা দিবস পালন করতে হবে।’

বিএনপি একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঠেকানোর চেষ্টা করলে ২০১৪ সালের মতো আবার তা প্রতিহতের ঘোষণা দেন কাদের। বলেন, ‘সময়, স্রোত কারো জন্য অপেক্ষা করে না। নির্বাচন বিএনপি বা কারো জন্য বসে থাকবে না। সংবিধান অনুযায়ী যথাসময়ে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।’

‘আপনাদের (বিএনপি) ঠেকানোর সাধ্য থাকলে দেখান। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে জনগণ আপনাদের প্রতিহত করবে।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আজ ঢাকা শহর মিছিলের নগরী। সব রাস্তায় মিছিল আর মিছিল। গণতন্ত্র রক্ষা দিবসে আজ আমাদের শপথ-অঙ্গীকার বাংলাদেশে গণতন্ত্রকে বাঁচাতে হলে, আওয়ামী লীগকে বাঁচাতে হবে।’

দেশে উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে শেখ হাসিনাকে আরেকবার ক্ষমতায় জানান আওয়ামী লীগ নেতা। বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাম্প্রদায়িক অপশক্তিকে পরাজিত করে মুক্তিযুদ্ধের ধারায় নৌকা আবার বিজয়ী হবে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদের সমালোচনা করে আওয়ামী লীগ নেতা বলেন, ‘বহুরূপী ব্যারিস্টার সাহেব, আপনাদের সকলে চেনে। দেশে একটু ঝড়-ঝঞ্ঝা দেখলে বিদেশে গিয়ে পালিয়ে থাকেন। ভুয়া কাগজপত্র দিয়ে বাড়ি দখল করতে গিয়ে আদালতে ধরা খেয়ে রাস্তায় কান্না করেছেন। এই লোক যদি দেশের আইনমন্ত্রী হয়, দেশের বারোটা বেজে যাবে।’

ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি একে এম রহমতুল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জনসভায় আরও উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য সাহারা খাতুন, ফারুক খান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ, সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য হাবিবুর রহমান সিরাজ, উত্তরের সাধারণ সম্পাদক সাদেক খান প্রমুখ।

Inline
Inline