৪৬তম বিজয় উৎসব, স্মৃতিসৌধে লাখো মানুষের ঢল

আজ ১৬ ডিসেম্বর। যথাযথ মর্যাদায় সারা দেশে পালিত হচ্ছে দিনটি। ৪৬তম বিজয় উৎসব পালন করতে সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে লাখো মানুষের ঢল নেমেছে।

সকাল ৬টা ৩৪মিনিটে স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তারা নিরবে কিছু সময় দাঁড়িয়ে থাকেন। এ সময় বিউগলে বেজে ওঠে করুণ সুর।

এর আগে রীতি অনুযায়ী প্যারেড গ্রাউন্ডে ৩১ বার তোপধ্বনির মধ্য দিয়ে শুরু হয় বিজয় দিবসের আনুষ্ঠানিকতা।

অসংখ্য মানুষের আত্মত্যাগ, সমগ্র জাতির একতা এবং দীর্ঘ ৯মাস মরণ-পণ যুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত হয়েছিল চুড়ান্ত বিজয়। মুক্তিযুদ্ধে যে ৩০ লাখ স্বাধীনতাকামী বাঙালি তাদের জীবন উৎসর্গ করেছেন সেই সকল শ্রেষ্ঠ সন্তানদের স্মরণে ঢাকা মহানগরী থেকে ৩৩ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে সাভারের নবীনগরে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের পাশে ১০৮ একর জমির ওপর নির্মাণ করা হয় জাতীয় স্মৃতিসৌধ। এই স্মৃতিসৌধ আপামর জনসাধারণের বীরত্বপূর্ণ লড়াইয়ের স্মরণে নিবেদিত এবং শহীদদের প্রতি কৃতজ্ঞতাপাশে আবদ্ধ জাতির শ্রদ্ধার্ঘের উজ্জ্বল নিদর্শন স্বরূপ। তাই ৪৬তম বিজয় উৎসবের শুরুতে শনিবার শীতের সকালে পরম শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় ফুলের অর্ঘ নিয়ে স্মৃতিসৌধ বেদিতে যান রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী পরিষদের সদস্যগণ, জাতীয় সংসদের স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার, তিন বাহিনীর প্রধান, সাত বীরশ্রেষ্ঠ পরিবারের সদস্যগণ, মুক্তিযোদ্ধা, কুটনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, রাজনৈতিক নেতা, স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কৃষক-শ্রমিক, সামাজিক সংগঠন, এনজিও কর্মী, ব্যবসায়ী, হকার, টোকাই, বিভিন্ন সংগঠনসহ সর্বস্তরের জনসাধারণ।

প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদনের পর আওয়ামী লীগ সভাপতি হিসেবে দলীয় নেতাদের সঙ্গে নিয়ে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন শেখ হাসিনা। পরে শ্রদ্ধা জানানোর জন্য সর্বস্তরের মানুষের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয় জাতীয় স্মৃতিসৌধ।

এদিকে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি, জাসদ, সিপিবি, ওয়াকার্সপার্টি, গণফোরামসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ঢাকা বিশ্বিবিদ্যালয়, বাংলা একাডেমি, শিল্পকলা একাডেমি, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটসহ রাজধানীর বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি উদযাপন করছে।

Inline
Inline