৪০তম বিসিএসে’র আগেই কোটার প্রজ্ঞাপন জারির দাবি

ঢাবি প্র‌তি‌নি‌ধি : ৪০তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আগেই কোটা সংস্কারের প্রজ্ঞাপন দিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন করা শিক্ষার্থীরা। অন্যথায় তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।

মঙ্গলবার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন এই ‍হুঁশিয়ারি দেন আন্দোলনকারীরা। এতে বক্তব্য দেন কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন করা সংগঠনটির যুগ্ম আহ্বায়ক বিন ইয়ামিন।

সরকারি চাকরিতে বাংলাদেশে যেসব কোটা আছে, তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচিত মুক্তিযোদ্ধা কোটা। ১৯৭২ সালে মুক্তিযুদ্ধের পরেই সরকারি চাকরিতে ৩০ শতাংশ কোটা সংরক্ষণ করা হয় মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য। তবে ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর মুক্তিযোদ্ধারা এই সুবিধা পায়নি বললেই চলে।

১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতসায় আনার পর এই কোটার সুবিধা মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানদের দেয়ারও সিদ্ধান্ত নেয়। এরপর এই কোটা বাতিলের দাবিতে আন্দোলনে নামার চেষ্টা করে জামায়াত অনুসারীরা। সে সময় তারা ব্যর্থ হলেও এরপরও একাধিকবার এই আন্দোলন হয়েছে। তবে এবার কোনো বিশেষ কোটার কথা না বলে সংস্কারের দাবিতে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের ব্যানারে গত ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হয় আন্দোলন। তারা সব মিলিয়ে কোটা ১০ শতাংশ করার দাবি জানাচ্ছে।

নানা ঘটনার পর ১১ এপ্রিল সংসদে প্রধানমন্ত্রী বলেন কোনো কোটা থাকবে না। এর দুই মাস পর গত ১২ জুলাই প্রধানমন্ত্রী সংসদে বলেন, মুক্তিযোদ্ধা কোটা সংরক্ষণের বিষয়ে উচ্চ আদালতের রায় রয়েছে। এখন এটি বাতিল হলে তিনি আদালত অবমাননায় পড়বেন।

আন্দোলনের প্রেক্ষিতে এ বিষয়ে সুপারিশ দিতে গত ২ জুলাই মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন হয়। কমিটিকে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়। কমিটি ৮ জুলাই বৈঠকও করে। তবে নির্ধারিত সময়ে প্রতিবেদন দিতে না পারার পর তিন মাস সময় বাড়ানো হয়। কমিটিতে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা রয়েছেন এবং তারা বিভিন্ন দেশে কোটার বিষয়ে প্রতিবেদন সংগ্রহ করে সিদ্ধান্ত নেয়ার কথা জানান।

পরে ১৩ আগস্ট মন্ত্রিপরিষদ সচিব শফিউল আলম জানান, তারা সব ধরনের কোটা বাতিলের সুপারিশ করতে যাচ্ছেন কমিটি। সচিব বলেছিলেন, ‘কোটা নিয়ে সুপারিশ প্রায় চূড়ান্ত। আমরা মেধাকে প্রাধান্য দিয়ে অলমোস্ট (প্রায়) কোটা উঠিয়ে দেয়ার সুপারিশ করব। তবে আদালতের একটা রায় রয়েছে, মুক্তিযোদ্ধাদের কোটা সংরক্ষণ করতে হবে। এ ব্যাপারে আদালতের মতামত চাইব, আদালত যদি মুক্তিযোদ্ধা কোটা উঠিয়ে দেয় তবে এ কোটাও থাকবে না।’

সংসদে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার পাঁচ মাস পেরিয়ে গেলেও কোটা সংস্কারের প্রজ্ঞাপন জারি না হওয়ায় ছাত্রসমাজ হতাশ ও বিক্ষুব্ধ বলে আজকের সংবাদ সম্মেলনে জানান আন্দোলন করা সংগঠনটির যুগ্ম আহ্বায়ক বিন ইয়ামিন।

তিনি বলেন, আমরা আশা করি, ছাত্র সমাজকে রাজপথে নেমে প্রজ্ঞাপন আদায়ের দিকে ধাবিত করবেন না। তবে সরকারের অনাগ্রহ ও উদাসিনতা যদি প্রজ্ঞাপন জারি আটকে রাখে তবে ছাত্রসমাজ রাজপথে নেমেই দাবি আদায় করতে বাধ্য হবে।

এছাড়া সংবাদ সম্মেলনে তিনটি দাবি পেশ করা হয়। দাবিগুলো হলো, কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারীদের ওপর থেকে ভিত্তিহীন মামলা প্রত্যাহার, আন্দোলনকারীদের ওপর হামলাকারীদের উপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত এবং পাঁচ দফা দাবির ভিত্তিতে কোটা সংস্কার করা।